সাবেক সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমনের বিরুদ্ধে হওয়া মোট আটটি মামলার মধ্যে তিনটিতে তিনি জামিন পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী এম লিটন আহমেদ। বাকি পাঁচটি মামলায় জামিনের শুনানির জন্য হাইকোর্টের অবকাশকালীন ছুটি শেষে যথাযথ আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
একই সঙ্গে ব্যারিস্টার সুমনসহ বাংলাদেশে রাজনীতিবিদদের মানবাধিকার ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের বিষয়ে অস্ট্রেলিয়া সরকার অবগত রয়েছে এবং উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বলেও জানিয়েছেন তার আইনজীবী।
আইনজীবী এম লিটন আহমেদ জানান, ব্যারিস্টার সুমনের বিরুদ্ধে বর্তমানে আটটি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে হাইকোর্ট থেকে দুটিসহ মোট তিনটি মামলায় তিনি ইতিমধ্যে জামিন পেয়েছেন। বাকি মামলাগুলোতে উচ্চ আদালতে রুল বিচারাধীন রয়েছে। হাইকোর্টের দীর্ঘ অবকাশকালীন ছুটি শেষে বাকি মামলাগুলোতে জামিনের বিষয়ে তারা যথাযথ উদ্যোগ নেবেন।
এদিকে ব্যারিস্টার সুমনসহ রাজনৈতিক বন্দিদের মানবাধিকার পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক মহলে আলোচিত হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে আইনজীবী বলেন, অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির উদ্বেগের বিষয়টি প্রথমে দেশটির নিউ সাউথ ওয়েলস অঙ্গরাজ্যের পার্লামেন্টে তোলেন এমপি স্টিভেন লরেন্স। পরে দেশটির ফেডারেল পার্লামেন্টে বিষয়টি উত্থাপন করেন সংসদ সদস্য জেমি চ্যাফি।
এরই ধারাবাহিকতায় অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওং বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে ক্যানবেরায় অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশনকে তাদের উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন বলে জানান আইনজীবী লিটন আহমেদ।
তিনি বলেন, অস্ট্রেলিয়া সব সময় মানবাধিকারের বিষয়ে সোচ্চার। ক্যানবেরার বাংলাদেশ হাইকমিশন ও সরকারের প্রতি তাদের প্রত্যাশা, রাজনীতিবিদদের আটক এবং তাদের মৌলিক মানবাধিকার রক্ষার বিষয়ে বাংলাদেশ যেন সচেষ্ট থাকে। বিষয়টি জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলেও আলোচিত হচ্ছে।
বিশ্বদরবারে দেশের ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ন রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, সাধারণ নাগরিকসহ যেসব রাজনীতিবিদ ও বিরোধী দলের নেতাকর্মী এখন আটক রয়েছেন, সরকার তাদের মৌলিক ও মানবাধিকার কোনোভাবেই ক্ষুণ্ন হতে দেবে না।
এর আগে গত ১ অক্টোবর পার্লামেন্ট সদস্য জেমি চ্যাফিকে দেওয়া এক চিঠিতে অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওং বাংলাদেশে মানবাধিকার পরিস্থিতি ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার বিষয়ে দেশটির সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করেন।
চিঠিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে বাংলাদেশে মানবাধিকার ও আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগের বিষয়টি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আওতাভুক্ত হওয়ায় তিনি তা বিবেচনায় নিয়েছেন। সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আটক এবং বিশেষ করে সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক ও ব্যারিস্টার সৈয়দুল হক সুমনের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ও তাদের আটকের বিষয়গুলোর গুরুত্ব সম্পর্কে তিনি অবগত।
পেনি ওং তার চিঠিতে জানান, মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগগুলো অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটি এবং বাংলাদেশে যাদের পরিবার-পরিজন রয়েছেন, এমন বহু অস্ট্রেলীয় নাগরিকের জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়।
অস্ট্রেলিয়া সার্বজনীন মানবাধিকার রক্ষায় অঙ্গীকারবদ্ধ জানিয়ে চিঠিতে আরও বলা হয়, ঢাকায় অবস্থিত অস্ট্রেলীয় হাইকমিশনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তা ও মন্ত্রীদের সঙ্গে যোগাযোগ, ক্যানবেরায় বাংলাদেশ হাইকমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ এবং জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের আলোচনার মধ্য দিয়ে অস্ট্রেলিয়া সরকার মানবাধিকার সুরক্ষার বিষয়ে নিয়মিত যোগাযোগ ও প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।
আরএনবি/এআর




