বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

ফজলে করিমের অভিযোগ গঠন নিয়ে রিভিউ শুনানি, পরবর্তী দিন ১৩ অক্টোবর

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:০০ পিএম

শেয়ার করুন:

ফজলে করিমের অভিযোগ গঠন নিয়ে রিভিউ শুনানি, পরবর্তী দিন ১৩ অক্টোবর
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

জুলাই আন্দোলনে চট্টগ্রামে ওয়াসিমসহ ছয়জনকে হত্যার অভিযোগে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরীর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আদেশ পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদনের শুনানি হয়েছে।

শুনানিতে তার আইনজীবী দাবি করেছেন, ‘মামলার ঘটনাস্থল চট্টগ্রাম মহানগর এলাকা হলেও ফজলে করিম ছিলেন অন্য আসনের সংসদ সদস্য।’

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এই শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। 

শুনানিতে চট্টগ্রাম-৬ আসনের সাবেক এমপি ফজলে করিম চৌধুরীর পক্ষে অংশ নেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এহসানুল হক সমাজী।

আইনি ব্যাখ্যা তুলে ধরে ট্রাইব্যুনালকে তিনি বলেন, ‘যেকোনো অপরাধ সংঘটনের পেছনে তারিখ, সময় ও স্থান খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু প্রসিকিউশন থেকে ফজলে করিমের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে, এর সপক্ষে কোনো তথ্যপ্রমাণ বা সাক্ষী তারা আনতে পারেনি।’

আইনজীবী বলেন, ‘এ মামলার ঘটনাস্থল হলো চট্টগ্রাম মহানগর এলাকা। অথচ তিনি অন্য আসনের সংসদ সদস্য।’

প্রসিকিউশন ঘটনাস্থলে ফজলে করিমের উপস্থিতি বা সংশ্লিষ্টতার কোনো প্রমাণ দেখাতে না পারলে রিভিউ আবেদনটি বিবেচনায় নেওয়ার প্রার্থনা জানান তিনি।

এ সময় এহসানুল হক সমাজীর উদ্দেশে ট্রাইব্যুনাল বলেন, ‘মামলাটির চার্জ ফ্রেমিং তথা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন হয়েছে। এখন প্রসিকিউশন সাক্ষী আনবে। এরপর সাক্ষীর জেরা হবে। জেরায় আপনারা এমন কিছু বের করে আনবেন, যেন আমরা কোনো কিছু না করতে পারি।’

একইসঙ্গে আরও আইনি ব্যাখ্যা জানতে চান ট্রাইব্যুনাল। তবে এ নিয়ে প্রস্তুতির জন্য দুই সপ্তাহ সময় চান আইনজীবী সমাজী। এছাড়া গ্রেপ্তার বাকি চার আসামির আইনজীবীরাও পুনরায় সময় চান। পরে আদালত আগামী ১৩ অক্টোবর শুনানির পরবর্তী দিন ধার্য করেন।

এদিন শুনানিকালে গ্রেপ্তার পাঁচ আসামি— ফজলে করিম চৌধুরী, যুবলীগ নেতা আজিজুর রহমান, তৌহিদুল ইসলাম, মো. ফিরোজ ও দেবাশীষ পাল দেবু ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত ছিলেন।

এ মামলার পলাতক আসামিদের মধ্যে রয়েছেন— সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক দুই মেয়র আ জ ম নাসির উদ্দীন ও রেজাউল করিম, মহিউদ্দিন বাচ্চু, হেলাল আকবর, নুরুল আজিম রনি, শৈবাল দাশ সুমন, আবু ছালেক, এসবারুল হক, এইচএম মিঠু, নূর মোস্তফা টিনু, জমির উদ্দিন, ইমরান হাসান মাহমুদ, জাকারিয়া দস্তগীর, মহিউদ্দিন ফরহাদ ও সুমন দে।

জুলাই আন্দোলনের ঘটনায় হাছান মাহমুদসহ ২২ জনের বিরুদ্ধে গত ৩০ জুন আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-২। একইসঙ্গে সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করা হয়। তবে এই আদেশের বিরুদ্ধে রিভিউ আবেদন করেন গ্রেপ্তার পাঁচ আসামি। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ২১ সেপ্টেম্বর প্রথম দিনের মতো শুনানি হয়।

এর আগে, গত ৫ এপ্রিল ফরমাল চার্জ (আনুষ্ঠানিক অভিযোগ) দাখিল করে প্রসিকিউশন, যা ৭ এপ্রিল আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল।

মামলায় প্রসিকিউশনের আনা সুনির্দিষ্ট তিনটি অভিযোগের প্রথমটিতে ওয়াসিম আকরাম, ফয়সাল আহমেদ শান্ত ও মো. ফারুককে হত্যার দায় আনা হয়েছে।

দ্বিতীয় অভিযোগে তানভীর সিদ্দিকী, সায়মন ওরফে মাহিম ও হৃদয় চন্দ্রকে হত্যা এবং তৃতীয় অভিযোগে জাহিদ হাসান, আবদুল কাদের, আছিয়া খাতুন, সানজিদা সুলতানা, আবদুল্লাহসহ শতাধিক ছাত্র-জনতাকে গুরুতর আহত করার বর্ণনা দেওয়া হয়েছে।

আরএনবি/এএম

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর