সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

বিমানবন্দরে লাগেজ চুরি ঠেকাতে ‘লাইভ’ সিসিটিভির দাবিতে আইনি নোটিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৩৬ পিএম

শেয়ার করুন:

বিমানবন্দরে লাগেজ চুরি ঠেকাতে ‘লাইভ’ সিসিটিভির দাবিতে আইনি নোটিশ
বিমানবন্দরের লাগেজ প্রকিয়া / ফাইল ছবি

দেশের আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দরগুলোতে যাত্রীদের লাগেজ চুরি, কাটাছেঁড়া ও লুটপাট স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে উড়োজাহাজ থেকে কনভেয়র বেল্ট পর্যন্ত লাগেজ পরিবহনের দৃশ্য যাত্রীদের সরাসরি (লাইভ) দেখানোর দাবি জানিয়ে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান (মামুন) সাধারণ যাত্রীদের অধিকার রক্ষা ও দেশের ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ন রাখার স্বার্থে সংশ্লিষ্ট ১২টি দপ্তর ও কর্তৃপক্ষের প্রধানের কাছে এই ‘ডিমান্ডিং জাস্টিস নোটিশ’ পাঠিয়েছেন।

নোটিশ প্রাপকদের মধ্যে রয়েছেন- বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও সিইও।

এছাড়া ঢাকার হযরত শাহজালাল, চট্টগ্রামের শাহ আমানত, সিলেটের ওসমানী, কক্সবাজার, সৈয়দপুর, রাজশাহীর শাহ মখদুম, যশোর এবং বরিশাল বিমানবন্দরের পরিচালক ও ব্যবস্থাপকদেরও নোটিশের অনুলিপি দেওয়া হয়েছে।

নোটিশে বলা হয়, বাণিজ্যিক বিমানবন্দরগুলো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে বাংলাদেশের প্রবেশদ্বার। কিন্তু বছরের পর বছর ধরে রেমিট্যান্স যোদ্ধা, বিদেশি কূটনীতিক, আন্তর্জাতিক পর্যটক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ যাত্রীরা লাগেজ থেকে মূল্যবান জিনিসপত্র, ইলেকট্রনিক্স, স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ টাকা সুসংগঠিত চুরির শিকার হচ্ছেন।

এই চুরি শুধু যাত্রীদের হয়রানি বা আর্থিক ক্ষতি নয়, এটি আন্তর্জাতিকভাবে দেশকে চরম বিব্রতকর অবস্থায় ফেলছে। নোটিশে একে সংবিধানের ৪২ অনুচ্ছেদের অধীনে ‘সম্পত্তির মৌলিক অধিকার’ এবং ৩২ অনুচ্ছেদের অধীনে ‘জীবনের মৌলিক অধিকার’ ও আত্মমর্যাদার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। একইসঙ্গে সংবিধানের ২১(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি রক্ষা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার পবিত্র নাগরিক দায়িত্ব থেকে এই নোটিশ দেওয়ার কথা জানিয়েছেন আইনজীবী।

চুরির মূল কারণ হিসেবে কার্যক্রমে স্বচ্ছতার অভাবকে দায়ী করে নোটিশে বলা হয়, নজরদারির বাইরে থাকা জায়গাগুলোর (ব্লাইন্ড স্পট) সুযোগ নিয়ে গ্রাউন্ড-হ্যান্ডলিং স্টাফ ও লোডাররা জবাবদিহি ছাড়াই লাগেজের তালা ভাঙা ও মালামাল লুট করে থাকে।

এমন অপরাধের নেপথ্যে কর্মী নিয়োগের দুর্নীতিকে দায়ী করে বলা হয়, ঘুষের বিনিময়ে নিয়োগ পাওয়া কর্মীরা টাকা তুলতে অবৈধ পথ বেছে নেন। তাই নিয়োগ প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত করতে দুদকের নজরদারি প্রয়োজন।

এই দীর্ঘস্থায়ী সংকট নিরসনে নোটিসে চারটি সুনির্দিষ্ট দাবি জানানো হয়েছে। দাবি চারটি হলো-

১. সব বিমানবন্দরে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন সিসিটিভি ক্যামেরা বসিয়ে উড়োজাহাজের কার্গো হোল্ড থেকে কনভেয়র বেল্ট পর্যন্ত লাগেজ পরিবহনের দৃশ্য অ্যারাইভাল লাউঞ্জের বড় স্ক্রিনে রিয়েল-টাইম লাইভ সম্প্রচার করা।

২. নিরাপত্তার স্বার্থে কাস্টমস বা গোয়েন্দা সংস্থা কর্তৃক কোনো লাগেজ ম্যানুয়ালি খোলা বা পরিদর্শন করা হলে, তা সরাসরি লাইভ ক্যামেরার মাধ্যমে যাত্রীদের দেখানো।

৩. বেবিচক, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ও থার্ড-পার্টি ঠিকাদারদের কর্মী নিয়োগে ঘুষ-দুর্নীতি বন্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) প্রাতিষ্ঠানিক নজরদারির নির্দেশ দেওয়া।

৪. দুর্নীতিমুক্ত ও মেধাভিত্তিক স্বচ্ছ নিয়োগ কাঠামো বাস্তবায়ন করা।

নোটিশ পাওয়ার ১০ দিনের মধ্যে এসব বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে এবং তা লিখিতভাবে নোটিশদাতাকে জানাতে বলা হয়েছে। 

অন্যথায়, সাধারণ যাত্রীদের অধিকার রক্ষায় জনস্বার্থে সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে রিট আবেদন করা হবে বলে নোটিশে হুঁশিয়ার করা হয়েছে।

আরএনবি/এসআই

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর