জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ময়মনসিংহের গৌরীপুরে তিনজনকে হত্যার অভিযোগে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক সংসদ সদস্যের ছেলে তানজির আহমেদ রাজিবসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের (চার্জ গঠন) শুনানি পিছিয়েছে।
রোববার (৪ অক্টোবর) প্রসিকিউশনের সময়ের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেল আগামী ২৮ অক্টোবর শুনানির নতুন দিন ধার্য করেন।
আদালতে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম।
শুনানিতে প্রসিকিউটর তামিম বলেন, এ মামলায় আজ আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানির দিন নির্ধারিত ছিল। কিন্তু আমরা একই ঘটনায় ট্রাইব্যুনাল-১ ও ২ এ পৃথক দুটি ফরমাল চার্জ (আনুষ্ঠানিক অভিযোগ) দাখিল করেছি। ট্রাইব্যুনাল ইতোমধ্যে এসব আমলে নিয়েছে।
আলাদা অভিযোগে মোট ১২ জনকে আসামি করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এর মধ্যে গ্রেফতার আছেন ছয়জন। মামলা দুটি একত্র করে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্যই নতুন করে সময় চেয়েছে প্রসিকিউশন।
পরে ট্রাইব্যুনাল প্রসিকিউশনের আবেদন মঞ্জুর করে দুটি অভিযোগ একত্রে বিচারের আদেশ দেন এবং আগামী ২৮ অক্টোবর শুনানির দিন ঠিক করেন।
শুনানি শেষে প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম সাংবাদিকদের বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে সরকার কারফিউ জারি করে ছাত্র-জনতাকে হত্যার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, তার প্রথম প্রয়োগ হয়েছিল ময়মনসিংহে। ১৯ জুলাই রাত ১২টায় অর্থাৎ ২০ জুলাইয়ের প্রথম প্রহরেই কারফিউ জারি করা হয়। ওই ২০ জুলাই রাতেই গৌরীপুর এলাকায় তিনজনকে হত্যা করা হয়। ট্রাইব্যুনাল দুটি ফরমাল চার্জকে একত্রিত করে একসঙ্গে বিচারের আদেশ দিয়েছেন।
এদিন সকালে এই দুই মামলার গ্রেফতার ছয় আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।
ময়মনসিংহ-৩ (গৌরীপুর) আসনের সাবেক এমপি নাজিম উদ্দিন আহমেদের ছেলে রাজিব ছাড়া গ্রেফতার বাকি পাঁচজন হলেন— গৌরীপুর থানার তৎকালীন ওসি সুমন চন্দ্র রায়, এএসআই দেলোয়ার হোসেন এবং স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা সানাউল, শাহাবুল আলম ও জোসেফ উদ্দিন জজ।
গৌরীপুর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান সোমনাথ সাহাসহ মামলার অপর ছয় আসামি পলাতক রয়েছেন।
প্রসিকিউশন জানায়, ২০২৪ সালের ২০ জুলাই ময়মনসিংহের গৌরীপুরে তৎকালীন উপজেলা চেয়ারম্যান সোমনাথ সাহার নেতৃত্বে ছাত্র-জনতার ওপর ব্যাপক হামলা হয়।
ওই হামলায় পুলিশের পাশাপাশি স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগসহ অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরাও অংশ নেন। তাদের ছোড়া গুলিতে বিপ্লব হাসান, মো. নূরে আলম সিদ্দিকী ও মো. জুবায়ের নিহত হন।
দীর্ঘ তদন্ত শেষে এই একই ঘটনায় দুটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করেছিল প্রসিকিউশন। এর একটিতে সোমনাথসহ নয়জনকে এবং আরেকটিতে রাজিবসহ তিনজনকে আসামি করা হয়।
আরএনবি/এফএ




