বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

কারাগারে ‘নির্যাতন’: তারেক সাঈদকে চিকিৎসার নির্দেশ ট্রাইব্যুনালের

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০১ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:১৮ পিএম

শেয়ার করুন:

কারাগারে ‘নির্যাতন’: তারেক সাঈদকে চিকিৎসার নির্দেশ ট্রাইব্যুনালের
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেফতার সাবেক সেনা কর্মকর্তা লে. কর্নেল (অব.) তারেক সাঈদ মোহাম্মদকে কারাবিধি অনুযায়ী চিকিৎসা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

কারাগারে ‘মারধরের’ অভিযোগ এনে চিকিৎসার আবেদনের শুনানি করে বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বেঞ্চ এই আদেশ দেন।

আদালতে তারেক সাঈদের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মাহমুদুল হুসাইন রুবেল। আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন।

শুনানিতে আইনজীবী রুবেল অভিযোগ করেন, গত ১৬ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে মুন্সিগঞ্জ কারাগারে কারারক্ষীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে তারেক সাঈদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে তিনি মাথায় ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত পান।

কারা সুপারের নির্দেশে ওই হামলা চালানো হয়েছিল দাবি করে এই আইনজীবী ঘটনার নিরপেক্ষ বিচারিক তদন্ত এবং বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় বা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তারেক সাঈদের চিকিৎসার আবেদন করেন।

তবে বিচারিক তদন্তের আবেদনটি যথাযথ প্রক্রিয়ায় না হওয়ায় পরে তিনি নিজেই তা প্রত্যাহার করে নেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি কেন সাধারণ ওয়ার্ডে?

শুনানিতে প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন বলেন, নারায়ণগঞ্জের সাত খুন মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি তারেক সাঈদ। তাকে কনডেম সেলে রাখার কথা। মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কোনো আসামি অসুস্থ হলে প্রসিকিউশন সাধারণত আপত্তি জানায় না।

“কিন্তু বুধবার তিনি আদালতে হাজির ছিলেন এবং সুস্থভাবেই কাঠগড়ায় দাঁড়িয়েছিলেন। তখন তিনি কোনো শারীরিক অসুস্থতার কথা জানাননি’, বলেন প্রসিকিউটর।

আবেদনে আসামির মৃত্যুদণ্ড ও কনডেম সেলের কথা কেন উল্লেখ করা হয়নি—এ পর্যায়ে আদালত আসামিপক্ষের আইনজীবীর কাছে তা জানতে চায়।

উত্তরে আইনজীবী রুবেল বলেন, তারেক সাঈদ দীর্ঘদিন ধরে কারাগারের সাধারণ ওয়ার্ডেই রয়েছেন। মুন্সিগঞ্জ কারাগারে হামলার পর কোনো চিকিৎসা সনদ ছাড়াই তাকে কিশোরগঞ্জ কারাগারে পাঠানো হয়।

উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে আদালত কারাবিধি অনুযায়ী তারেক সাঈদকে চিকিৎসা দেওয়ার জন্য কারা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেয়।

আইনজীবী রুবেল জানান, তারেক সাঈদের বিরুদ্ধে দুটি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ এনেছে প্রসিকিউশন। এসব মামলায় গত ১০ আগস্ট তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয় ট্রাইব্যুনাল।

গত ১৬ সেপ্টেম্বর প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে এক দিনের জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেওয়া হয়। ওই দিন রাতে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে মুন্সিগঞ্জ কারাগারে তার ওপর হামলা হয় বলে দাবি আইনজীবীর।

প্রসিকিউশন জানিয়েছে, ২০১৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর লক্ষ্মীপুরে বিএনপি নেতা আবদুল মান্নান, জহিরুল ইসলাম সুমন ও আসাদুজ্জামান বাবুলকে বন্দুকযুদ্ধের নাটক সাজিয়ে হত্যা এবং একই বছরের ২৭ নভেম্বর কুমিল্লার লাকসামে বিএনপি নেতা সাইফুল ইসলাম হিরু ও হুমায়ুন কবির পারভেজকে গুম করার অভিযোগে এই মামলা চলছে।

এসব মামলায় আসামির তালিকায় মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের নামও রয়েছে।

গত ২৯ সেপ্টেম্বর এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের কথা থাকলেও প্রসিকিউশনের আবেদনে ট্রাইব্যুনাল আগামী ৩০ নভেম্বর নতুন দিন ধার্য করেন।

আরএনবি/এএম

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর