বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

সংবিধান থেকে ‘সমাজতন্ত্র’ ও ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’ বাদ দিতে আইনি নোটিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০১ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:২২ পিএম

শেয়ার করুন:

সংবিধান থেকে ‘সমাজতন্ত্র’ ও ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’ বাদ দিতে আইনি নোটিশ

আসন্ন সংবিধান সংস্কার প্রক্রিয়াকে সামনে রেখে বাংলাদেশের সংবিধান থেকে ‘সমাজতন্ত্র’ ও ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’ স্থায়ীভাবে বাদ দেওয়ার দাবিতে সরকার ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে একটি আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান মামুন বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) জনস্বার্থে এই আইনি নোটিশ পাঠান।

রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিব (জন বিভাগ), জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব, মন্ত্রিপরিষদ সচিব এবং আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর নোটিশটি পাঠানো হয়েছে।

নোটিশে বলা হয়েছে, বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৭ সালের জানুয়ারি মাসে সরকার জাতীয় সংসদের মাধ্যমে সংবিধান সংস্কারের উদ্যোগ নেবে এবং পরবর্তীতে তা জনগণের অনুমোদনের জন্য জাতীয় গণভোটে দেওয়া হবে। রাষ্ট্রের এই আসন্ন পুনর্মূল্যায়নের প্রেক্ষাপটে সংবিধানে ‘কৃত্রিমভাবে চাপিয়ে দেওয়া’ এবং ‘জাতীয় স্বার্থবিরোধী’ নীতিগুলো বাদ দেওয়া অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।

সংবিধানের প্রস্তাবনা ও মূলনীতিতে স্থান পাওয়া ‘সমাজতন্ত্র’ ও ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’র মতো আরোপিত মতবাদগুলো স্বাধীন বাংলাদেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার ‘চরম পরিপন্থী’ বলে নোটিশে দাবি করা হয়।

বিনিয়োগে বাধা ‘সমাজতন্ত্র’

নোটিশে অর্থনীতির বাস্তব চিত্র তুলে ধরে বলা হয়েছে, বর্তমান মুক্তবাজার অর্থনীতির যুগে রাষ্ট্রীয় সমাজতন্ত্র পুরো বিশ্বেই একটি ব্যর্থ ধারণা হিসেবে প্রমাণিত। সংবিধানে এখনও ‘সমাজতন্ত্র’ বহাল থাকায় বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে বড় ধরনের পুঁজি খাটাতে ভয় পান।

তাদের মনে সবসময় এই আতঙ্ক কাজ করে যে, সংবিধানের সমাজতান্ত্রিক নীতির দোহাই দিয়ে যেকোনো সময় তাদের ব্যক্তিগত শিল্প-প্রতিষ্ঠান বা বাণিজ্যিক বিনিয়োগ সরকার জাতীয়করণ করে নিতে পারে।

এই ‘অমূলক ও সেকেলে’ ধারণার কারণেই দেশে কাঙ্ক্ষিত বিদেশি বিনিয়োগ আসছে না দাবি করে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও বিনিয়োগের সুরক্ষায় সংবিধানের প্রস্তাবনা, অনুচ্ছেদ ৮ এবং অনুচ্ছেদ ১০ থেকে ‘সমাজতন্ত্র’ অবিলম্বে বিলুপ্ত করার দাবি জানানো হয় নোটিশে।

‘ধর্মনিরপেক্ষতার ঐতিহাসিক ভিত্তি নেই’

নোটিশে এই ভূখণ্ডের হাজার বছরের আইনি ইতিহাস তুলে ধরে বলা হয়, প্রখ্যাত আইনবিদ ভি. ডি. কুলশ্রেষ্ঠের প্রামাণ্য গ্রন্থ অনুযায়ী এ অঞ্চলের আইনি ইতিহাস মূলত চারটি প্রধান যুগে বিভক্ত—হিন্দু যুগ, মুসলিম যুগ, ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ও ব্রিটিশ যুগ এবং পাকিস্তান যুগ।

এই ধারাবাহিক সামাজিক ও বিচারিক শাসনব্যবস্থায় ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’ নামক কোনো কৃত্রিম ও আরোপিত মতবাদের চর্চা কখনোই ছিল না উল্লেখ করে, নোটিশে বলা হয়, এমনকি ১৯৬৬ সালের ঐতিহাসিক ছয় দফাতেও ধর্মনিরপেক্ষতার কোনো স্থান ছিল না।

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধও কোনো বিশেষ মতবাদ চাপানোর জন্য হয়নি, বরং তা হয়েছিল বৈষম্য, লুণ্ঠন ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে।

নোটিশে আরও বলা হয়, সংবিধানে কৃত্রিমভাবে ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’ জুড়ে দেওয়ার কারণে তা সংবিধানের ৪১ অনুচ্ছেদে নাগরিকদের দেওয়া ‘ধর্মচর্চা, পালন ও প্রচারের মৌলিক অধিকারের’ সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে এটি দেশের বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাস ও নৈতিক মূল্যবোধকে প্রতিনিয়ত সংকুচিত করছে।

৯০ দিনের সময় বেঁধে রিটের হুঁশিয়ারি

আগামী ৯০ দিনের মধ্যে সংবিধান সংশোধন ও জাতীয় গণভোটের মাধ্যমে সংবিধান থেকে ‘সমাজতন্ত্র’ ও ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’ সম্পূর্ণ অপসারণের প্রয়োজনীয় আইনি ও সাংবিধানিক পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে নোটিশে।

অন্যথায়, দেশের অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্ব, ঐতিহাসিক বাস্তবতা ও জনগণের মৌলিক অধিকার সুরক্ষায় হাইকোর্ট বিভাগে জনস্বার্থে রিট দায়ের করা হবে বলে নোটিশে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

আরএনবি

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর