দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রেস ব্রিফিংয়ের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার দায়ের করা রিট আবেদনটি কার্যতালিকা থেকে বাদ দিয়েছেন হাইকোর্টের অবকাশকালীন বেঞ্চ।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি শেখ তাহসিন আলীর অবকাশকালীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
ভ্যাকেশন বেঞ্চের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় পরবর্তীতে নিয়মিত আদালতে আবেদনটি শুনানির জন্য উপস্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী জহিরুল ইসলাম মুসা।
মঙ্গলবার হাইকোর্ট বিভাগের অবকাশকালীন বেঞ্চের কার্যতালিকায় ১১২ নম্বর সিরিয়ালে মামলাটি শুনানির জন্য অপেক্ষমাণ ছিল। শুনানির একপর্যায়ে আদালত মামলাটি কার্যতালিকা থেকে বাদ দেন।
মামলাটি কেন বাদ দেওয়া হলো—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে আসিফ মাহমুদের আইনজীবী বলেন, আদালতে এখন অবকাশকালীন বেঞ্চ চলছে। যে বেঞ্চে আমরা শুনানি করেছি, আজকেই সেই বেঞ্চের শেষ কার্যদিবস। এর পরে এই ভ্যাকেশনে এই বেঞ্চ আর বসবে না। আজকের অনেকগুলো মামলাই তারা কার্যতালিকা থেকে বাদ দিয়েছেন, তবে কোনো মামলাই তারা রিজেক্ট (খারিজ) করেননি।
পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ সম্পর্কে তিনি বলেন, যেহেতু কার্যতালিকা থেকে আদালত বাদ দিয়েছেন, আমরা এখন আইনগতভাবেই এটি অন্য কোনো বেঞ্চের কার্যতালিকায় জমা দিতে পারব। যখন আদালতের নিয়মিত কার্যক্রম শুরু হবে, তখন নিয়মিত কোর্টে আমরা মামলাটি শুনানির জন্য উপস্থাপন করব।
দুদকের ব্রিফিং এখতিয়ারবহির্ভূত কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে এই আইনজীবী বলেন, বিষয়টি ইতিমধ্যে বিচারাধীন (সাব-জুডিস)। আমরা দুদকের ব্রিফিংয়ের বৈধতা ও কর্তৃত্বকে চ্যালেঞ্জ করেছি। তাদের নিজেদেরই ২০১১ সালের একটি তথ্য অবমুক্তকরণ নীতিমালা রয়েছে। সেই নীতিমালার ৩-এর ৫ এবং পরিশিষ্ট ৫-এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন করে তারা ব্রিফিং করেছেন এবং সেখানে প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছেন বলে উল্লেখ করেছেন।
তিনি আরও বলেন, আমরা আজকে আদালতকে দেখিয়েছি, দুদকের ওই নীতিমালায় স্পষ্ট করে উল্লেখ আছে, তারা প্রেস ব্রিফিংয়ে কতটুকু তথ্য অবমুক্ত করতে পারবেন। সেখানে সুস্পষ্টভাবে বলা আছে, দায়ের হওয়া মামলাগুলো কোন পর্যায়ে আছে বা কারও বিরুদ্ধে সাজা হয়ে থাকলে সেই সংখ্যাগুলো তারা ছক আকারে উপস্থাপন করতে পারবেন। অন্য কোনো তথ্য তারা প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে দিতে পারবেন না। এটিই আমরা পিটিশনে উল্লেখ করেছি।
সংবিধানের রেফারেন্স টেনে এই আইনজীবী বলেন, আমাদের সংবিধানের ৩১ অনুচ্ছেদে ব্যক্তির সুনামের সুরক্ষা দেওয়া আছে। সেখানে বলা আছে, আইন অনুযায়ী (ইন অ্যাকর্ডেন্স উইথ ল) ছাড়া কোনোভাবেই কারও সুনামহানি করা যাবে না। এটি আমাদের সংবিধানে সুরক্ষিত। এসব বিষয় নিয়েই আমরা নিয়মিত বেঞ্চে মামলাটি উপস্থাপন করব।
এর আগে গতকাল দুর্নীতির অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে—দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) এমন প্রেস ব্রিফিংয়ের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।
রিটে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনো ব্যক্তির সম্মানহানি করে দুদক যেন প্রেস ব্রিফিং না করে—সেই নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আসিফ মাহমুদকে নিয়ে দেওয়া বক্তব্য প্রত্যাহার করে দুদককে জনসমক্ষে ভুল স্বীকার করার আরজি জানানো হয়েছে।
এরও আগে প্রকাশ্যে দেওয়া বক্তব্য আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার না করায় গত ১০ সেপ্টেম্বর দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আখতারুল ইসলামকে আইনি নোটিশ পাঠান আসিফ মাহমুদ। ১৫ দিনের মধ্যে বক্তব্য প্রত্যাহার ও সংশোধনের উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছিল সেখানে।
আরএনবি/এআর




