রাজধানীর গুলিস্তানে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে আটক ২৮৯ জনের মধ্যে ২৭ জনকে গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।
পুলিশের অভিযোগ, জাসদ কার্যালয়ের ভেতরে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে অস্থিতিশীল ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছিলেন তারা।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাতে ওই ২৭ জনকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন পল্টন মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নাজমুল ইসলাম।
শুনানি শেষে মহানগর হাকিম জশিতা ইসলাম তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। পাশাপাশি আসামিদের জামিন আবেদনের শুনানির জন্য সোমবার দিন ধার্য করে আদালত।
পল্টন মডেল থানার আরেক উপপরিদর্শক মো. শফিকুল ইসলাম তাদের কারাগারে পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
রোববার জামিন শুনানি না হওয়ার বিষয়ে জাসদের দপ্তর সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন বলেন, “আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি (পিপি) উপস্থিত ছিলেন না। এ জন্যই শুনানি হয়নি। সোমবার জামিন শুনানি হবে।”
আসামিদের কারাগারে আটক রাখার আবেদনে পুলিশ বলেছে, গত শনিবার জাসদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের ভেতরে ওই ব্যক্তিরা ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং অস্থিতিশীল ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি করেন। পরে পুলিশ ও স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে তাদের আটক করা হয়।
আবেদনে আরও বলা হয়, আটকদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে কার্যালয়ে আসার বিষয়ে তারা সন্তোষজনক কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। তারা ধর্তব্য কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন— এমন প্রাথমিক সন্দেহ থেকে তাদের ৫৪ ধারায় গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে রাখার আবেদন করা হয়।
গত শনিবার জাসদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ২৮৯ জনকে আটক করে। পুলিশের পক্ষ থেকে সে সময় বলা হয়েছিল, পরিচয় যাচাই-বাছাই শেষে যারা জাসদের নেতা-কর্মী তাদের ছেড়ে দেওয়া হবে এবং অন্যদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যাচাই-বাছাই শেষে অধিকাংশকেই পরে ছেড়ে দেওয়া হয়।
কারাগারে পাঠানো ২৭ জন হলেন- মো. দিনারুল আলম (৫০), ইমান আহম্মেদ (৪৫), মোল্লা মোহাম্মদ শাহাজাহান সিরাজ (৩৭), জয় সরকার (৩১), মো. মিরাজ আহমেদ (১৯), মো. মিরাজ মল্লিক (৩৯), মো. রবিউল ইসলাম (৪২), মিলন কুমার (৩৯), মো. কাউসার হোসেন (৫০), শ্রী অন্তর শিল (৪০), জালাল উদ্দিন মণ্ডল (৫৫), আবদুল লতিফ (৪৬), শামীম আহমেদ (৩০), আহম্মেদ আহসান হাবিব (৪৩), মো. সুজন আলী (৩২), মো. তরিকুল ইসলাম (৩৭), মো. সাইফুল্লার সাদেক (৪৩), নয়ন আলী (৩০), সাজিদুল ইসলাম (৪০), তাজুল ইসলাম (৩৪), নিস্কর সম্রাট হোসেন তালুকদার (৪৩), আনোয়ার হোসেন (৫২), মো. আলমগীর হোসেন (৪৫), মো. আল আমিন হাওলাদার (৩৯), মো. তুষার আলী (৫০), মো. রাসিদুল হক (৪৪) এবং মীর মুক্তিসুর রহমান (৫১)।
আরএনবি/এএস




