জাল শিক্ষাগত সনদ দিয়ে সুপ্রিম কোর্টে চাকরি নেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এক অফিস সহকারীকে চাকরি থেকে অপসারণ করা হয়েছে।
একইসঙ্গে গত ১৯ বছরে বেতন-ভাতা বাবদ তার তুলে নেওয়া ৪২ লাখ ৩ হাজার ৯০১ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ।
আগামী ৩০ দিনের মধ্যে ‘অটোমেটেড চালান সিস্টেমের’ মাধ্যমে ওই অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দিতে বলা হয়েছে।
গত ১৭ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট বিভাগের সাধারণ ও সংস্থাপন শাখা থেকে এ সংক্রান্ত একটি অফিস আদেশ জারি করা হয়।
অফিস আদেশে বলা হয়েছে, রাজধানীর হাতিরপুলের বাসিন্দা মোহাম্মদ গোলাম মাওলা জালিয়াতির মাধ্যমে তৈরি শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ ব্যবহার করে হাইকোর্ট বিভাগের অফিস সহকারী পদে চাকরি নেন।
২০০৭ সালের ৩১ জানুয়ারি তিনি সুপ্রিম কোর্টে চাকরিতে যোগ দিয়েছিলেন।
দীর্ঘদিন কাজ করার পর তার বিরুদ্ধে জাল সনদে চাকরি নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনায় ২০২১ সালে তার বিরুদ্ধে একটি বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হয়।
বিভাগীয় মামলার তদন্তে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায়, সরকারি বিধি অনুযায়ী চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি তাকে চাকরি থেকে অপসারণ করা হয়।
আদেশে বলা হয়েছে, জালিয়াতির মাধ্যমে তৈরি করা সনদের ভিত্তিতে চাকরি নেওয়ায় গোলাম মাওলার নিয়োগ শুরু থেকেই বাতিল বলে গণ্য হবে। ফলে চাকরিকালে তিনি কোনো বেতন-ভাতা পাওয়ার অধিকারী নন।
২০০৭ সালের ৩১ জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত চাকরিকালে গোলাম মাওলা বেতন-ভাতা বাবদ মোট ৪২ লাখ ৩ হাজার ৯০১ টাকা উত্তোলন করেছেন।
চাকরি শুরু থেকেই বাতিল হিসেবে গণ্য হওয়ায় উত্তোলিত ওই বেতন-ভাতা আগামী ৩০ দিনের মধ্যে তাকে সরকারি কোষাগারে ফেরত দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আরএনবি/এএম




