রোববার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

জামিন নিয়ে কুমিল্লার এসপির মন্তব্য: ব্যাখ্যা চেয়ে আইনি নোটিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:১৪ পিএম

শেয়ার করুন:

জামিন নিয়ে কুমিল্লার এসপির মন্তব্য: ব্যাখ্যা চেয়ে আইনি নোটিশ
ফাইল ছবি

বিচারাধীন মামলায় আসামিদের জামিন দেওয়া নিয়ে কুমিল্লার পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আনিসুজ্জামানের এক প্রকাশ্য মন্তব্যের ব্যাখ্যা চেয়ে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের আইনজীবী ও ন্যাশনাল লইয়ার্স কাউন্সিলের চেয়ারম্যান এস এম জুলফিকার আলী জুনু জনস্বার্থে এই নোটিশ পাঠান।

সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত খবরের বরাত দিয়ে নোটিশে বলা হয়, কুমিল্লায় জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির এক সভায় এসপি মো. আনিসুজ্জামান মন্তব্য করেন— ‘পুলিশ আসামি ধরবে আর ম্যাজিস্ট্রেট জামিন দিয়ে দেবেন, তা হয় না’।

ওই বক্তব্যের প্রকৃত ভাষা, প্রেক্ষাপট ও আইনগত ভিত্তি স্পষ্ট করে নোটিশ পাওয়ার সাত দিনের মধ্যে এসপিকে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।

ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ৪৯৭ ধারার কথা উল্লেখ করে নোটিশে বলা হয়, জামিন দেওয়া বা না দেওয়া প্রযোজ্য আইন ও সংশ্লিষ্ট আদালতের বিচারিক এখতিয়ারের বিষয়। পুলিশ কোনো আসামিকে গ্রেফতার করেছে— এ কারণে আদালত তাকে জামিন দিতে পারবেন না, এমন কোনো সাধারণ বিধান নেই।

নোটিশে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, কোনো পুলিশ কর্মকর্তা বিচারিক আদালতের জামিনের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রকাশ্যে এমন মন্তব্য করলে তা বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, আদালতের মর্যাদা এবং বিচারিক কার্যক্রমের ওপর কোনো বিরূপ প্রভাব সৃষ্টি করে কি না।

এসপির কাছে নোটিশে জানতে চাওয়া হয়েছে, তিনি জেলা আইনশৃঙ্খলা সভায় ওই বক্তব্য দিয়েছেন কি না; দিয়ে থাকলে এর সুনির্দিষ্ট অর্থ ও আইনগত ভিত্তি কী এবং কোন আইন, বিধি বা সরকারি নির্দেশনার বলে একজন এসপি বিচারিক আদালতের জামিন দেওয়ার বিষয়ে এমন মন্তব্য করার এখতিয়ার রাখেন।

সেই সঙ্গে ওই বক্তব্যের মাধ্যমে কোনো বিচারিক আদালতের স্বাধীনতা, মর্যাদা বা বিচারিক কার্যক্রমকে প্রভাবিত, বাধাগ্রস্ত বা জনসমক্ষে প্রশ্নবিদ্ধ করার উদ্দেশ্য ছিল কি না, তারও ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।

নোটিশে বলা হয়, বিচারিক আদালতের কোনো আদেশের বিরুদ্ধে পুলিশের আপত্তি থাকলে আইনানুগ প্রতিকার চাওয়ার সুযোগ রয়েছে। সে ক্ষেত্রে প্রকাশ্য সভায় জামিনের বিষয়ে মন্তব্য করার প্রয়োজনীয়তা ও আইনগত ভিত্তি কী, সেটিও ব্যাখ্যা করতে হবে।

নির্ধারিত সাত দিনের মধ্যে জবাব না পেলে বক্তব্যের প্রকৃত প্রেক্ষাপট ও সংশ্লিষ্ট তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, মর্যাদা ও বিচারিক কার্যক্রমের সুরক্ষায় হাইকোর্টে উপযুক্ত আইনগত প্রতিকার চাওয়া হতে পারে বলে নোটিশে সতর্ক করা হয়েছে।

নোটিশদাতা আইনজীবী এস এম জুলফিকার আলী জুনু বলেন, ‘বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, আদালতের মর্যাদা এবং আইনের শাসন সমুন্নত রাখার স্বার্থে জনস্বার্থে এই লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে।’

আরএনবি/এএইচ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর