৪৬তম বিসিএস পরীক্ষায় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অধিযাচন করা (চাহিদা দেওয়া) নন-ক্যাডার পদগুলোতে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে রিট আবেদনকারীদের কেন সুপারিশ করা হবে না— তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে হাইকোর্ট।
একইসঙ্গে ২০২৩ সালের ৩০ নভেম্বর পিএসসির প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে এসব নন-ক্যাডার পদ অন্তর্ভুক্ত না করা কেন বেআইনি বা আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, রুলে তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।
পাশাপাশি ৪৬তম বিসিএসে নন-ক্যাডার পদে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে কতগুলো পদের অধিযাচন করা হয়েছে, সে বিষয়ে একটি প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, রুলে তা-ও জানতে চেয়েছে আদালত।
সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) চেয়ারম্যান, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব, পিএসসির সচিব এবং পরীক্ষা নিয়ন্ত্রককে (ক্যাডার) আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে এ রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
নন-ক্যাডার পদে সুপারিশবঞ্চিত রুমেন আহমেদসহ ১৭৩ জন প্রার্থীর করা এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি আজিজ আহমদ ভূঞার হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আদালতে রিট আবেদনকারীদের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মোহাম্মদ হুমায়ন কবির পল্লব। তাকে সহযোগিতা করেন আইনজীবী মো. মাকসুদুর রহমান ও মারুফ হাসান তমাল।
রিট আবেদনে বলা হয়, আবেদনকারীরা ৪৬তম বিসিএস-২০২৩-এর প্রিলিমিনারি ও লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেন। চলতি বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত চূড়ান্ত ফলাফলে ৩ হাজার ১৪০টি ক্যাডার শূন্যপদের বিপরীতে ১ হাজার ৪৫৭ জনকে সুপারিশ করা হয়। কিন্তু জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এক হাজার ১০০ নন-ক্যাডার পদের অধিযাচন থাকা সত্ত্বেও পিএসসি তা বিজ্ঞপ্তিতে অন্তর্ভুক্ত করেনি। ফলে এই বিসিএস থেকে কাউকেই নন-ক্যাডার পদে সুপারিশ করা সম্ভব হয়নি।
রিটকারীদের দাবি, এই সিদ্ধান্তের ফলে প্রায় আড়াই হাজার যোগ্য প্রার্থী থাকার পরও রাষ্ট্রের এক হাজার ১০০টি নন-ক্যাডার পদ শূন্য থেকে যাচ্ছে।
এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে গত ২৫ আগস্ট পিএসসি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আইনি নোটিশ পাঠান আবেদনকারীরা। তাতে কোনো সাড়া না পেয়ে গত ১৩ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন তারা।
আবেদনকারীদের আইনজীবী হুমায়ন কবির পল্লব বলেন, ‘বিসিএসের মাধ্যমে নন-ক্যাডার নিয়োগ চালু হওয়ার পর থেকে প্রতিটি বিসিএসেই ক্যাডার পদের পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক প্রার্থী নন-ক্যাডারে নিয়োগ পেয়ে আসছেন। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অধিযাচন থাকা সত্ত্বেও ৪৬তম বিসিএস থেকে কাউকেই নিয়োগ না দেওয়ায় প্রার্থীরা তাদের ন্যায্য সাংবিধানিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই আদালত রুল জারি করেছে।’
আরএনবি/এআর




