মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

কাদেরসহ ৭ নেতার ফাঁসি: আওয়ামীপন্থী আইনজীবীদের রায় প্রত্যাখ্যান

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৩৩ পিএম

শেয়ার করুন:

কাদেরসহ ৭ নেতার ফাঁসি: আওয়ামীপন্থী আইনজীবীদের রায় প্রত্যাখ্যান

জুলাই আন্দোলনে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত শীর্ষ নেতার মৃত্যুদণ্ডের রায় প্রত্যাখ্যান করে ‘নীরব প্রতিবাদ’ জানিয়েছেন আওয়ামীপন্থি আইনজীবীরা।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর দেড়টায় সুপ্রিম কোর্টের অ্যানেক্স ভবনের অ্যাডভোকেট লাউঞ্জের সামনে জড়ো হয়ে তারা এই প্রতিবাদ জানান।

একাধিক আওয়ামীপন্থি আইনজীবী জানান, ‘অবৈধ ক্যাঙ্গারু কোর্টের মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন ও হাস্যকর’ রায়ের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের আইনজীবীরা এই তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ করেছেন।

প্রতিবাদ চলাকালে প্রকাশ্যে কোনো স্লোগান দিতে শোনা যায়নি। তবে উপস্থিত অনেককে এ সময় ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ উচ্চারণ করতে শোনা গেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামীপন্থি আইনজীবী হিসেবে পরিচিত শেখ মোহাম্মদ গোলাম কিবরিয়া বলেন, ‘আজকে আইসিটি ট্রাইব্যুনালে যে রায় হয়েছে, বাংলাদেশ আইনজীবী ফোরাম এবং ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দদের যে ফাঁসির অর্ডার করা হয়েছে— আমরা সবাই জড়ো হয়ে তার প্রতিবাদ জানিয়েছি এবং রায়টা প্রত্যাখ্যান করেছি। এটি আমাদের তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ।’

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া আরেক আইনজীবী বলেন, ‘আমরা মনে করি এই ট্রায়াল, এই কোর্ট একটি ক্যাঙ্গারু কোর্ট। এটা সরকার কর্তৃক মদদপুষ্ট। এখানে সুষ্ঠু বিচার হচ্ছে না, আইনের প্রয়োগ হচ্ছে না। তারা মনগড়া, ইচ্ছামতো এই রায় দিয়েছে। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমাদের দলীয় নেতাকর্মীদের এই মিথ্যা মামলায় প্রহসনের রায় দেওয়া হয়েছে, যা আমরা প্রত্যাখ্যান করে তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ জানিয়েছি।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক আইনজীবী ঢাকা মেইলকে বলেন, ‘অবৈধ ক্যাঙ্গারু কোর্টের রায় মুক্তিযুদ্ধপন্থি আইনজীবীরা মানে না। তারা এটি ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছে এবং তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ করেছে। অবৈধ কোর্ট দ্বারা আওয়ামী লীগের নেতাদের বিচারের নামে যে প্রহসন চলছে, আমরা তাকে ধিক্কার জানাই।’

এর আগে, জুলাই আন্দোলনের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মঙ্গলবার দুপুর সোয়া ১২টায় ওবায়দুল কাদেরসহ দলটির এবং যুবলীগ-ছাত্রলীগের সাত শীর্ষ নেতার মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।

একইসঙ্গে পাঁচ নেতার সব স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির অর্ধেক (৫০ শতাংশ) বাজেয়াপ্ত করে সরকারি অনুকূলে নিয়ে জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের পরিবারের মধ্যে বণ্টনের নির্দেশ দেওয়া হয়।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করেন। প্যানেলের বাকি দুই সদস্য হলেন— বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

রায় পড়ার শুরুতেই ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যান এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, প্রসিকিউশন, স্টেট ডিফেন্স, সাংবাদিকসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান। তিনি জানান, মামলার শুনানিসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের ওজন প্রায় ২৫ কেজি। এছাড়া আসামিরা উপস্থিত থাকলে পুরো রায় পড়া যেতো বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এরপর চার অভিযোগে কার কী দণ্ড হয়েছে, তা ঘোষণা করেন আদালত।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বাকি ছয়জন হলেন— আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনান।

আরএনবি/এআর

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর