ফেসবুকে ‘লেডি মীরজাফর’ উল্লেখ করে পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল (ডিএজি) নজরুল ইসলাম ছোটনের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে নালিশ করেছেন আইনজীবী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। একইসঙ্গে ওই আইন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে অ্যাটর্নি জেনারেল বরাবর লিখিত অভিযোগও দিয়েছেন তিনি।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দ ও বিচারপতি নাসরিন আক্তারের হাইকোর্ট বেঞ্চে তিনি এ নালিশ করেন।
আদালতে সোমবারের কার্যতালিকায় ৩৬ নম্বরে থাকা একটি মামলার আইনজীবী ছিলেন ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। ওই বেঞ্চে রাষ্ট্রপক্ষের দায়িত্বে আছেন ডিএজি নজরুল ইসলাম ছোটন। ক্রম অনুযায়ী মামলাটি শুনানির জন্য ডাকা হলে রুমিন ফারহানা ডায়াসের সামনে গিয়ে ডিএজির ওই ফেসবুক পোস্ট আদালতের কাছে উপস্থাপন করেন।
তিনি আদালতকে বলেন, ‘ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নজরুল ইসলাম ছোটন আমার প্রতি ক্ষোভ থেকে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন। আদালতের কাছে আবেদন থাকবে, তিনি যেন আমার কোনো মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি না করেন। শুনানি করলে তিনি ক্ষোভ থেকেই আমার বিপক্ষে বলবেন। এতে আমার মক্কেল ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।’
এ সময় আদালত ডিএজি নজরুল ইসলাম ছোটনের পরিবর্তে ওই কোর্টের সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মো. সাগর হোসেনকে মামলাটির শুনানি করতে বলেন।
শুনানিতে সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল সাগর হোসেন আদালতকে জানান, এ মামলার আসামি একজন অভ্যাসগত অপরাধী। এর আগেও তার বিরুদ্ধে ইয়াবার ১১টি মামলা রয়েছে। পরে আদালত মামলাটি অবকাশকালীন ছুটির পর শুনবেন বলে আদেশ দেন।
অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছে লিখিত অভিযোগ
অন্যদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানহানিকর ও আপত্তিকর বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে সোমবার অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে একটি লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন রুমিন ফারহানা। তিনি নিজেই অভিযোগ জমা দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। অভিযোগটি অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসে গ্রহণ করা হয়েছে।
অ্যাটর্নি জেনারেল বরাবর দেওয়া লিখিত অভিযোগে তিনি বলেছেন, ‘অত্যন্ত দুঃখ ও ক্ষোভের সঙ্গে আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি যে, রাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ আইন কর্মকর্তা পদে অধিষ্ঠিত থেকে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল (ডিএজি) নজরুল ইসলাম ছোটন তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি থেকে আমাকে লক্ষ্য করে গত ১১ সেপ্টেম্বর অত্যন্ত আপত্তিকর, মানহানিকর ও কুরুচিপূর্ণ একটি স্ট্যাটাস প্রদান করেছেন। তিনি লিখেছেন— ‘লেডি মীরজাফর রুমিন ফারহানা আফা অতীত খুব দ্রুতই ভুলে যাচ্ছেন’।’
অভিযোগে রুমিন ফারহানা আরও বলেন, ‘একজন দায়িত্বে থাকা সরকারি আইন কর্মকর্তার কাছ থেকে এ ধরনের হুমকি, অশোভন, কুরুচিপূর্ণ ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আচরণ কেবল একজন নারী ও জনপ্রতিনিধি হিসেবে আমার জন্য শুধু অপমানজনক নয়, বরং এটি অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের ভাবমূর্তি ও পেশাদারত্বকে চরমভাবে ক্ষুণ্ন করে। অ্যাটর্নি জেনারেল অফিস বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে, কোনো দলের নয়।’
রাষ্ট্রপক্ষের একজন ডিএজির কাছ থেকে এরূপ শিষ্টাচারবহির্ভূত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় উল্লেখ করে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও উপযুক্ত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে ওই আবেদনে।
রুমিন ফারহানার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নজরুল ইসলাম ছোটন বলেন, অভিযোগ আমি দেখি নাই, এ বিষয়ে এখনও কিছুই জানি না। এখন আদালতে আছি, এ বিষয়ে পরে কথা বলব।
তবে পরবর্তীতে একাধিকবার তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। তার কার্যালয়ে গিয়ে খোঁজ করেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
আরএনবি/এফএ




