জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দাবি করা ৬৬৬ কোটি টাকার কর পরিশোধে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ে আপাতত স্থগিতাদেশ দেয়নি সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার আদালত। তবে হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় না আসা পর্যন্ত এনবিআর এ বিষয়ে কোনো হস্তক্ষেপ বা পদক্ষেপ নেবে না বলে চেম্বার আদালতকে নিশ্চিত করেছে রাষ্ট্রপক্ষ।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠান ‘গ্রামীণ কল্যাণ’ হাইকোর্টের ওই রায় স্থগিত চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার আদালতে আবেদন (সিএমপি) করে।
বিচারপতি ফারহা মাহবুবের চেম্বার আদালতের কার্যতালিকায় আবেদনটি ২৫ নম্বরে ছিল। শুনানি শেষে আদালত এই সিদ্ধান্ত দিয়েছেন।
আদালতে গ্রামীণ কল্যাণের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ফিদা এম কামাল, সরদার জিন্নাত আলী, ব্যারিস্টার আবদুল্লাহ আল মামুন ও ব্যারিস্টার খাজা তানভীর আহমেদ।
অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল।
শুনানি শেষে গ্রামীণ কল্যাণের আইনজীবী ব্যারিস্টার আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, এনবিআর যে অতিরিক্ত ট্যাক্স দাবি করেছে, সেটিকে অবৈধ ঘোষণার জন্য গ্রামীণ কল্যাণের পক্ষ থেকে দুটি রিট করা হয়েছিল। গত ১০ সেপ্টেম্বর রিট দুটি নামঞ্জুর হয়। কিন্তু মহামান্য হাইকোর্ট সেদিন আদেশটি মৌখিকভাবে ঘোষণা করেছেন, পূর্ণাঙ্গ রায় এখনও বের হয়নি।
তিনি আরও বলেন, পূর্ণাঙ্গ রায় ছাড়া যেহেতু আমরা আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল করতে পারছি না, তাই আপিল করার আগ পর্যন্ত এই মৌখিক আদেশের সুযোগ নিয়ে যেন কোনো কার্যক্রম গ্রহণ করা না হয়, সেজন্য আমরা চেম্বার জজের কাছে একটি স্থগিতাদেশ (স্টে অর্ডার) চেয়েছিলাম।
আদালতের আদেশের বিবরণ দিয়ে এই আইনজীবী বলেন, মাননীয় চেম্বার জজ বলেছেন, যেহেতু হাইকোর্ট এখনও কোনো জাজমেন্ট (পূর্ণাঙ্গ রায়) দেননি এবং আমরা পাইনি, সুতরাং এ ব্যাপারে আমরা কোনো ইন্টারফেয়ারেন্স (হস্তক্ষেপ) করব না। জাজমেন্ট এলে সেটি পড়ে দেখে তারপর আমরা ইন্টারফেয়ারেন্স করব।
ব্যারিস্টার মামুন বলেন, সেখানে রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল উপস্থিত ছিলেন। তিনি আদালতকে নিশ্চিত করে বলেছেন যে, ‘না, আমরা কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছি না।’ এরপরও ব্যক্তিগতভাবে আমি স্থগিতাদেশ চাইলে আদালত বলেন, ‘কোর্টের ভার্বাল অর্ডার ইজ অলসো অর্ডার (আদালতের মৌখিক আদেশও একটি আদেশ)’।
তিনি আরও বলেন, সুতরাং মাননীয় চেম্বার জজ যেখানে ইন্টারফেয়ার করেননি, সেখানে কোনো ডিপার্টমেন্টের ইন্টারফেয়ার করার কোনো সুযোগ নেই। পূর্ণাঙ্গ রায় পেয়ে আপিল ফাইল করা পর্যন্ত এটি এই অবস্থাতেই থাকবে, অর্থাৎ কার্যকর বন্ধ থাকবে।
এর আগে গত ১০ সেপ্টেম্বর (বৃহস্পতিবার) এনবিআরের দাবি করা ৬৬৬ কোটি টাকার বেশি আয়করের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে গ্রামীণ কল্যাণের দায়ের করা দুটি রিট খারিজ করে দেন বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি রেজাউল করিমের হাইকোর্ট বেঞ্চ। রিট দুটির পরিপ্রেক্ষিতে আগে জারি করা রুল খারিজ (রুল ডিসচার্জ) করে ওই রায় ঘোষণা করা হয়।
সেদিন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা জানিয়েছিলেন, হাইকোর্ট রিট খারিজ করে দেওয়ায় সরকারের রাজস্ব বাবদ দাবি করা বিপুল অঙ্কের ওই অর্থ প্রতিষ্ঠানটিকে পরিশোধ করতে হবে।
তবে গ্রামীণ কল্যাণের আইনজীবীরা জানিয়েছিলেন, হাইকোর্টের এই রায়ের বিরুদ্ধে তারা সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল করবেন। সেই ধারাবাহিকতাতেই হাইকোর্টের রায় স্থগিত চেয়ে চেম্বার আদালতে আবেদন করেছিল প্রতিষ্ঠানটি।
আরএনবি/এফএ




