রোববার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

সাগর-রুনি হত্যা: এবার বিচার চেয়ে ট্রাইব্যুনালে পরিবার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:২২ পিএম

শেয়ার করুন:

সাগর-রুনি হত্যা: এবার বিচার চেয়ে ট্রাইব্যুনালে পরিবার
ট্রাইব্যুনালে রুনির ছোট ভাই নওশের রোমান। ছবি: সংগৃহীত

সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যাকাণ্ডের ১৪ বছর পর সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ করেছে তাদের পরিবার।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলামের কাছে লিখিত এই অভিযোগ দেন নিহত রুনির ভাই নওশের রোমান।

অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি হত্যাকাণ্ডের পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও একাধিক তদন্ত সংস্থা এর কোনো কূলকিনারা করতে পারেনি। সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ, গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও র‍্যাবের ব্যর্থতার পর হাই কোর্টের নির্দেশে মামলাটির তদন্তভার পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত কোনো সমাধান আসেনি।

এ অবস্থায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত হত্যাকারীদের খুঁজে বের করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে পরিবার। একই সঙ্গে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে অভিযোগটি রেজিস্টারভুক্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আরজি জানানো হয়েছে।

নজরদারিতে ‘সাংস্কৃতিক অঙ্গনের একজন’

এদিকে, এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে ‘সাংস্কৃতিক অঙ্গনের’ এক ব্যক্তির সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছেন ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম।

গত ৩০ আগস্ট নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, তদন্তের স্বার্থে ওই ব্যক্তির নাম-পরিচয় প্রকাশ করা না হলেও তার ওপর নজরদারি রাখা হচ্ছে।

তদন্তের দীর্ঘসূত্রতা ও হাতবদল

২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাত ২টা থেকে সকাল ৭টার মধ্যে রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া বাসায় নির্মমভাবে খুন হন মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সরওয়ার ও এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনি।

এক দশকের বেশি সময় পার হলেও চাঞ্চল্যকর এ জোড়া খুনের রহস্য এখনো উন্মোচিত হয়নি। আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার তারিখ দফায় দফায় পিছিয়েছে। তদন্তের এই দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে সাংবাদিক সমাজ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই ক্ষোভ ও অসন্তোষ রয়েছে।

এর আগে গত ২৭ আগস্ট এ হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ ১২৯তম বারের মতো পিছিয়েছে আদালত। প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ৩০ সেপ্টেম্বর নতুন দিন ধার্য করা হয়েছে।

২৭ আগস্ট প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য থাকলেও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আজিজুল হক তা দাখিল করতে পারেননি।

হত্যাকাণ্ডের পর দুই মাসের বেশি সময় তদন্ত করেও ডিবি রহস্য উদঘাটন করতে না পারায় ২০১২ সালের ১৮ এপ্রিল তদন্তভার র‍্যাবের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছিল।

দীর্ঘ সময় র‍্যাবের তদন্তেও দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর হাই কোর্ট মামলাটির তদন্ত থেকে র‍্যাবকে সরিয়ে দেয়। সেই সঙ্গে বিভিন্ন সংস্থার অভিজ্ঞ তদন্ত কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন টাস্কফোর্স গঠনের নির্দেশ দিয়ে ছয় মাসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়।

হাই কোর্টের নির্দেশের পর ২০২৪ সালের ১৭ অক্টোবর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ পিবিআই প্রধানকে আহ্বায়ক করে চার সদস্যের টাস্কফোর্স গঠন করে। বর্তমানে এই টাস্কফোর্সের অধীনেই মামলার তদন্ত চলছে।

তবে নির্ধারিত সময়ে তদন্ত শেষ না হওয়ায় টাস্কফোর্সকে বেশ কয়েক দফায় সময় দেওয়া হয়েছে। সর্বশেষ ২০২৬ সালের ২৬ এপ্রিল হাই কোর্ট আরও ছয় মাস সময় বাড়ায়।

আসামিদের কে কোথায়

এ মামলায় বিভিন্ন সময়ে আটজনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তারা হলেন- রফিকুল ইসলাম, বকুল মিয়া, মাসুম মিন্টু, কামরুল ইসলাম ওরফে অরুণ, আবু সাঈদ, সাগর-রুনির বাসার দুই নিরাপত্তারক্ষী পলাশ রুদ্র পাল ও এনায়েত আহমেদ এবং তানভীর রহমান খান।

এদের মধ্যে তানভীর রহমান খান জামিনে রয়েছেন। পলাশ রুদ্র পালও জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর থেকে পলাতক। বাকি ছয় আসামি বর্তমানে কারাগারে আছেন।

আরএনবি/এআর

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর