রোববার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

স্ত্রীকে হত্যায় সাবেক পুলিশ কনস্টেবল মৃত্যুদণ্ড বহাল, বন্ধুর যাবজ্জীবন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৪৯ পিএম

শেয়ার করুন:

স্ত্রীকে হত্যায় সাবেক পুলিশ কনস্টেবল মৃত্যুদণ্ড বহাল, বন্ধুর যাবজ্জীবন

যৌতুকের দাবিতে টাঙ্গাইলে স্ত্রী সুমি আক্তারকে হত্যার দায়ে করা মামলায় সাবেক পুলিশ কনস্টেবল আব্দুল আলীম ওরফে সুমনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছে হাইকোর্ট। তবে একই মামলায় তার সহযোগী ও বন্ধু শামীম আল মামুনের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের আপিলের শুনানি শেষে রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন।

মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকা সুমন টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার হিন্নাইপাড়া গ্রামের আবু হানিফের ছেলে। আর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পাওয়া শামীম আল মামুন একই গ্রামের আবুল হাশেমের ছেলে।

মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, শিল্প পুলিশে কর্মরত থাকা অবস্থায় ২০১১ সালের ৬ মে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ফলিয়ারঘোনা গ্রামের সুলতান আহমেদের মেয়ে সুমি আক্তারকে বিয়ে করেন আব্দুল আলীম।

বিয়ের সময় পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দেওয়ার কথা ছিল। তখন সুমির বাবা তিন লাখ টাকা দেন। বাকি দুই লাখ টাকার জন্য আব্দুল আলীম প্রায়ই স্ত্রীকে নির্যাতন করতেন। একপর্যায়ে তিনি সুমিকে বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেন।

২০১২ সালের ২০ এপ্রিল বঙ্গবন্ধু সেতু এলাকায় ঘুরতে যাওয়ার কথা বলে শ্বশুরবাড়ি থেকে স্ত্রীকে নিয়ে যান আব্দুল আলীম। পরে তাকে ঢাকার তুরাগ থানার বেড়িবাঁধ এলাকায় নিয়ে যান। সেখানে বন্ধু শামীম আল মামুনের সহযোগিতায় গলায় ওড়না পেঁচিয়ে সুমিকে হত্যা করেন আলীম।

এ ঘটনায় নিহত সুমির মা বাদী হয়ে টাঙ্গাইল থানায় দুইজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। আব্দুল আলীম গ্রেফতার হওয়ার পর স্ত্রীকে হত্যার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেন। পরে তাকে পুলিশ কনস্টেবলের পদ থেকে বরখাস্ত করা হয়।

মামলার বিচারিক কার্যক্রম শেষে ২০১৯ সালের ৫ আগস্ট টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের তৎকালীন বিচারক খালেদা ইয়াসমিন দুই আসামিকেই মৃত্যুদণ্ড দেন।

নিয়ম অনুযায়ী পরে আসামিদের মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে পাঠানো হয়। পাশাপাশি আসামিরা ফৌজদারি ও জেল আপিল করেন। সেসব আবেদনের শুনানি শেষেই রোববার হাইকোর্ট প্রধান আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে তার সহযোগীর সাজা কমিয়ে রায় দেয়।

আরএনবি/এমআর

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর