মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

হাসানাত আবদুল্লাহসহ চার আসামির মৃত্যুদণ্ড চান টিপুর স্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৪১ পিএম

শেয়ার করুন:

হাসানাত আবদুল্লাহসহ চার আসামির মৃত্যুদণ্ড চান টিপুর স্ত্রী
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

বরিশালের আগৈলঝাড়ায় রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার জেরে ক্রসফায়ারে দুই নেতাকে হত্যার অভিযোগে সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আবদুল্লাহসহ চার আসামির মৃত্যুদণ্ড চেয়েছেন নিহত ছাত্রদল নেতা টিপু হাওলাদারের স্ত্রী সুমা আক্তার।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর সদস্য বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীরের একক বেঞ্চে জবানবন্দি দেওয়ার সময় তিনি এ বিচার দাবি করেন। এ সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন সুমা। মামলাটিতে ২০ নম্বর সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন সুমা। 

ট্রাইব্যুনালে তিনি বলেন, ‘আমার দুটি মেয়ে রয়েছে। স্বামী হত্যাকাণ্ডের সময় তারা খুব ছোট ছিল। দেশে যেন এমন নৃশংস ঘটনা আর না ঘটে, সেজন্য আমি এবং আমার সন্তানদের পক্ষ থেকে আবুল হাসানাত আবদুল্লাহসহ চার আসামির মৃত্যুদণ্ডের আদেশ চাইছি।’

টিপু হাওলাদার আগৈলঝাড়া উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। একই ঘটনায় হত্যাকাণ্ডের শিকার হন উপজেলা জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) সাংগঠনিক সম্পাদক কবির মোল্লা।

এদিন শুনানির সময় একই মামলায় গ্রেফতার উজিরপুর থানার সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. মাহাবুল ইসলাম ও এএসআই জসিম উদ্দিনকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। তাদের উপস্থিতিতেই সুমা আক্তার তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন। ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ ও সুলতান মাহমুদ।

এর আগে গত ২০ মে সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আবদুল্লাহসহ চার আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল-২।

প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, টিপু ও কবির ছিলেন বরিশাল-১ আসনের তৎকালীন প্রভাবশালী এমপি আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী। তাদের সরিয়ে দেওয়ার জন্য তিনি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করে তৎকালীন পুলিশ সুপার (এসপি) একেএম এহসান উল্লাহকে নির্দেশ দেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, ২০১৫ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি টিপু ও কবিরকে মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার করে উজিরপুর থানা পুলিশ। পরে এএসআই মাহাবুল ও জসিমকে দিয়ে গৌরনদী-গোপালগঞ্জ হাইওয়ের আগৈলঝাড়া বাইপাস এলাকায় ‘ক্রসফায়ারের নাটক’ সাজিয়ে তাদের হত্যা করা হয়।

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এই হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়া গতি পায়। মামলার প্রধান আসামি আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ বর্তমানে পলাতক থাকলেও অন্য দুই পুলিশ সদস্য কারাগারে আছেন।

আরএনবি/এমআর

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর