জুলাই আন্দোলন চলাকালে সাভারে আসহাবুল ইয়ামিন হত্যার ঘটনায় করা মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলামসহ পলাতক ১৩ আসামির পক্ষে রাষ্ট্রীয় খরচে আইনজীবী (স্টেট ডিফেন্স) নিয়োগের নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।
একইসঙ্গে এ মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) গঠনের বিষয়ে শুনানির জন্য আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেছেন আদালত।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন— বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
আদালতে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন।
শুনানিতে প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন বলেন, এ মামলায় মোট ১৯ আসামির মধ্যে ছয়জন গ্রেফতার থাকলেও ১৩ জন পলাতক। পলাতক আসামিদের হাজির হতে দুটি জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হলেও তারা আত্মসমর্পণ করেননি। তাই বিচারিক প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে তাদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী নিয়োগের আবেদন জানানো হয়েছে।
আদালত শুনানি শেষে ১৩ আসামির জন্য আইনজীবী নিয়োগের নির্দেশ দিয়ে ২৩ সেপ্টেম্বর পরবর্তী দিন ঠিক করে দেন
এর আগে গত ২৬ জুলাই ১৯ আসামির বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়েছিলেন ট্রাইব্যুনাল।
মামলায় গ্রেফতার হওয়া ছয় আসামি হলেন— ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আব্দুল্লাহিল কাফী, সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাভার সার্কেল) মো. শাহিদুল ইসলাম, এএসআই মোহাম্মদ আলী, নায়েক সুহেল মিয়া, কনস্টেবল মাহফুজ মিয়া ও মিজানুর রহমান। সোমবার তাদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।
পলাতক ১৩ আসামি হলেন— সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলাম, ঢাকা রেঞ্জের সাবেক ডিআইজি সৈয়দ নুরুল ইসলাম, সাবেক পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান রিপন, সাভার থানার সাবেক ওসি শাহজামান, আশুলিয়া থানার সাবেক ওসি এএফএম সায়েদ, সাভার উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান মঞ্জুরুল আলম রাজিব, মো. আতিকুর রহমান, ফখরুল আলম সমর, মেহেদী হাসান তুষার, রাজু আহম্মেদ, মো. ফরিদ, জামান খান ও শরীফ আশরাফুল আলম বাবুল।
প্রসিকিউশনের অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ১৮ জুলাই সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ডে শান্তিপূর্ণ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলা চালায় পুলিশ ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা। এদিন দুপুর দেড়টার দিকে আসহাবুল ইয়ামিনকে ধরে পুলিশের সাঁজোয়া যানের (এপিসি) কাছে নিয়ে বুকের বাঁ পাশে গুলি করা হয়।
গুলিবিদ্ধ ইয়ামিনকে সাঁজোয়া যানের ওপরে ফেলে দিয়ে আন্দোলনকারীদের ভীতি প্রদর্শনের জন্য গাড়িটি এপাশ-ওপাশ করতে থাকেন দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা। তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় রাস্তা ও সড়ক বিভাজনের পাশে ফেলে দেওয়া হয়।
এরপর স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ইয়ামিনের শরীরে অসংখ্য স্প্লিন্টারের আঘাত পাওয়া গিয়েছিল।
আরএনবি/এএইচ




