মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

আওয়ামী লীগে না আসায় ছাত্রদল নেতাকে ক্রসফায়ার: ট্রাইব্যুনালে দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:১৮ পিএম

শেয়ার করুন:

আওয়ামীলীগে না আসায় ছাত্রদল নেতাকে ক্রসফায়ার: ট্রাইব্যুনালে দাবি সাক্ষী
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল

ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগে যোগ দিতে রাজি না হওয়ায় বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক টিপু হাওলাদারকে ক্রসফায়ারে হত্যা করা হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিয়েছেন এক নারী।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর সদস্য বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীরের একক বেঞ্চে জবানবন্দি দেন ওই নারী। নিরাপত্তার স্বার্থে আদালত তার নাম-পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।

বরিশালের আগৈলঝাড়ায় ছাত্রদল নেতাসহ দুজনকে হত্যার অভিযোগে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তিনি ১৭ নম্বর সাক্ষী। ৫৫ বছর বয়সী এই নারী টিপু হাওলাদারের প্রতিবেশী এবং বর্তমানে কেরানীগঞ্জের ঘাটারচর এলাকায় বসবাস করেন।

জবানবন্দিতে সাক্ষী বলেন, ‘২০১৫ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি রাত পৌনে ৩টার দিকে প্রতিবেশী সেলিনার চিৎকারে আমার ঘুম ভাঙে। তিনি বলছিলেন টিপুকে ধরে নিয়ে যাচ্ছে। আমি ঘর থেকে বের হয়ে টিপুকে যে গাড়িতে তোলা হয়েছিল, সেই পর্যন্ত যাই। যারা তাকে ধরে নিয়ে গিয়েছিল, তারা নিজেদের ডিবি পুলিশ এবং আগৈলঝাড়া থানা থেকে আসার পরিচয় দিয়েছিল।’

তিনি আরও বলেন, ‘পরদিন টিপুর আত্মীয়-স্বজনরা মোহাম্মদপুরসহ বিভিন্ন থানায় তার খোঁজ করেন। কিন্তু ২১ ফেব্রুয়ারি সকালে টেলিভিশনের খবরে দেখি, আগৈলঝাড়া বাইপাস এলাকায় টিপুকে ‘ক্রসফায়ারে’ হত্যা করা হয়েছে।’

হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য কারণ উল্লেখ করে ওই নারী বলেন, ‘এলাকার লোকজনের কাছে শুনেছি টিপু বিএনপির রাজনীতি করতেন। তাকে আওয়ামী লীগে যোগ দিতে চাপ দেওয়া হয়েছিল। তাতে রাজি না হওয়ায় উজিরপুর থেকে লোক এনে তাকে ক্রসফায়ারে হত্যা করা হয়।’

এই হত্যাকাণ্ডের শিকার অন্যজন হলেন উপজেলা জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) সাংগঠনিক সম্পাদক কবির মোল্লা।

মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আবদুল্লাহসহ মোট চারজনকে আসামি করা হয়েছে।

গ্রেফতার থাকা উজিরপুর থানার সাবেক এএসআই মো. মাহাবুল ইসলাম ও এএসআই জসিম উদ্দিনকে সাক্ষ্যগ্রহণের সময় ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।

মামলার অন্য দুই আসামি আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ ও বরিশালের সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) একেএম এহসান উল্লাহ বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।

সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে সাক্ষীকে জেরা করেন আসামিপক্ষের আইনজীবী আবুল হাসান ও স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী আমির হোসেন। প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ। পরে ট্রাইব্যুনাল আগামী ৬ সেপ্টেম্বর পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করেন।

আরএনবি/এএম

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর