সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

সালমান এফ রহমানের হয়ে ট্রাইব্যুনালে লড়তে চান ব্রিটিশ আইনজীবী 

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ৩১ আগস্ট ২০২৬, ১২:৫৬ পিএম

শেয়ার করুন:

সালমান এফ রহমানের হয়ে ট্রাইব্যুনালে লড়তে চান ব্রিটিশ আইনজীবী 
ছবি: সংগৃহীত

জুলাই আন্দোলনের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের পক্ষে আইনি লড়াই করতে অনুমতি চেয়েছেন ব্রিটিশ আইনজীবী গ্রায়েম এল. হল।

আসামিপক্ষের আইনজীবী মুনসুরুল হক চৌধুরী রোববার (৩১ আগস্ট) জানিয়েছেন, লন্ডনের ডাউটি স্ট্রিট চেম্বারের এই কাউন্সেলের আবেদনটি এরই মধ্যে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল গ্রহণ করেছে।

এর আগে গত ১৪ আগস্ট বার কাউন্সিলের সচিবের কাছে এই আবেদন জমা দেন গ্রায়েম এল. হল। 

আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন, ১৯৭৩-এর ধারা ১১(৮) অনুযায়ী তিনি সালমান এফ রহমানের পক্ষে ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত হওয়ার অনুমতি চেয়েছেন। আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে নিয়োজিত স্থানীয় আইনজীবীদের পাশাপাশি তাকেও যেন শুনানিতে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়।

এর আগে, গত ১০ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে সালমান এফ রহমানের পক্ষে বিদেশি আইনজীবী নিয়োগের প্রাথমিক অনুমতি চেয়েছিলেন আইনজীবী মুনসুরুল হক চৌধুরী। 

ওই সময় ট্রাইব্যুনাল জানায়, বিদেশি আইনজীবী নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রথমে আদালতের এবং পরবর্তীতে বার কাউন্সিলের অনুমতি প্রয়োজন হয়। প্রসিকিউশন পক্ষ অবশ্য এই আবেদনের বিরোধিতা করেছিল।

বর্তমানে মামলাটি সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে রয়েছে। এই মামলায় সালমান এফ রহমানের সঙ্গে সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকও আসামি হিসেবে রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত ১১ জন সাক্ষী ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিয়েছেন।

চলতি বছরের ১২ জানুয়ারি সালমান ও আনিসুলের বিরুদ্ধে পাঁচটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।

প্রসিকিউশনের আনা পাঁচটি অভিযোগের মধ্যে প্রধান হলো—২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলন দমনে এই দুই প্রভাবশালী ব্যক্তি নীতিনির্ধারণী ভূমিকা পালন করেছিলেন। 

১৯ জুলাই তাদের মধ্যকার একটি টেলিফোন কথোপকথন প্রসিকিউশন প্রমাণ হিসেবে হাজির করেছে, যেখানে 'আন্দোলনকারীদের শেষ করে দেওয়া' এবং রাতেই কারফিউ জারির বিষয়ে আলোচনা হয়েছিল।

দ্বিতীয় ও তৃতীয় অভিযোগে বলা হয়েছে, তাদের প্ররোচনা ও ষড়যন্ত্রে ২৩ জুলাই এবং ২৮ জুলাই মিরপুরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও দলীয় ক্যাডাররা নির্বিচারে হত্যাযজ্ঞ চালায়। 

চতুর্থ অভিযোগে ৪ আগস্ট মিরপুর-১ এলাকায় আকাশ, সেতু, আলভীসহ ১২ জনকে হত্যার ঘটনায় তাদের উসকানিকে দায়ী করা হয়েছে।

সর্বশেষ অভিযোগে বলা হয়েছে, ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচি রুখতে তাদের নির্দেশেই মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় হামলা চালানো হয়, যাতে আল-আমিন, আশরাফুল ও রিতাসহ ১৬ জন প্রাণ হারান।

আইনজীবী গ্রায়েম এল. হলের এই আবেদনের প্রেক্ষিতে বার কাউন্সিল চূড়ান্তভাবে কী সিদ্ধান্ত নেয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

আরএনবি/এআরএম

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর