মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

২৫ মিলিয়ন ডলার পাচার

ইস্টার্ন ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানের নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৫ আগস্ট ২০২৬, ০১:৫৬ পিএম

শেয়ার করুন:

ইস্টার্ন ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানের নির্দেশ

যুক্তরাজ্যে ২৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পাচারের অভিযোগে বিতর্কিত জাহাজভাঙা ব্যবসায়ী ও ইস্টার্ন ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান শওকত আলী চৌধুরীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ ৩০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) এই অনুসন্ধান শেষ করতে বলা হয়েছে।

একইসঙ্গে পাচার করা এই বিপুল অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) ব্যর্থতার জন্য কেন তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন উচ্চ আদালত।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বিচারপতি ফাহমিদা কাদেরের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন।

আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সৈয়দ মামুন মাহবুব। তাকে সহায়তা করেন আইনজীবী মোহাম্মদ আলী ও  এইচ এম সানজিদ সিদ্দিকী।

এর আগে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এ এইচ এম রেজওয়ানুল সাঈদ শওকত আলী চৌধুরীর বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের অভিযোগ অনুসন্ধানে কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে এই রিট দায়ের করেন।

রিটে দুদক, বিএফআইইউ প্রধান, এনবিআর এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে বিবাদী করা হয়।

রিট আবেদনে বলা হয়, সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর পাচার করা সম্পদ নিয়ে অনুসন্ধান চলাকালে যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সি (এনসিএ) শওকত আলী চৌধুরীর নামেও ২৫ মিলিয়ন ডলারের সন্ধান পায়। ওই অর্থের কোনো বৈধ উৎস দেখাতে পারেননি তিনি।

এনসিএ বিষয়টি বিএফআইইউকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করে জানায় যে, বাংলাদেশ থেকে চার সপ্তাহের মধ্যে ‘ফ্রিজিং অর্ডার’ বা পারস্পরিক আইনি সহায়তার (এমএলএ) অনুরোধ না এলে এই অর্থগুলো আটকে রাখা সম্ভব হবে না। কারণ অর্থগুলো দুবাইয়ের মাশরেক ব্যাংক ও এমিরেটস এনবিডিতে স্থানান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল।

আবেদনে দাবি করা হয়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিএফআইইউ কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় অর্থগুলো যুক্তরাজ্য থেকে আমিরাতে চলে যায়। ফলে বাংলাদেশ ওই অর্থ ফেরত আনার সুযোগ হারায়।

রিটে আরও উল্লেখ করা হয়, পরবর্তী সময়ে শওকত আলী চৌধুরী ওই ২৫ মিলিয়ন ডলার আয়কর রিটার্নে ‘অপ্রদর্শিত বিদেশি সম্পদ’ হিসেবে ঘোষণা করেন এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) বৃহৎ করদাতা ইউনিটে (এলটিইউ) প্রায় ১৩৬ কোটি টাকা আয়কর পরিশোধ করেন। এনবিআর তাকে ৩০৬ কোটি টাকা জরিমানা করলেও তা এখনো আদায় হয়নি।

শুনানিতে আইনজীবী সৈয়দ মামুন মাহবুব বলেন, কেবল কর বা জরিমানা দিলেই অর্থ পাচারের মতো গুরুতর ফৌজদারি অপরাধের দায় শেষ হয়ে যায় না। অর্থের উৎস এবং তা পাচারের প্রক্রিয়া নিয়ে দুদক বা কোনো সংস্থা অনুসন্ধান না চালানো আইনের লঙ্ঘন। এনসিএ-র তথ্য পাওয়ার পর কেবল ফৌজদারি দায় এড়ানোর উদ্দেশ্যে সম্পদ প্রকাশের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

রিট দায়েরের আগে গত ১১ জুলাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আইনি নোটিশ এবং পরবর্তী সময়ে দুদক ও বিএফআইইউতে পৃথক অভিযোগ জমা দেওয়া হয়। কিন্তু সংস্থাগুলোর নিষ্ক্রিয়তায় রিটটি দায়ের করা হয়।

আইনজীবী মামুন মাহবুব জানান, রিটে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(১) ও ২৩ ধারা এবং দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২০ ও ২৭(১) ধারার প্রসঙ্গ টেনে বলা হয়, এনসিএ’র সুনির্দিষ্ট তথ্যের পরও বিএফআইইউ ও দুদকের নীরবতা তাদের আইনি দায়িত্বের চরম লঙ্ঘন। এ কারণে আবেদনে অর্থ পাচারের অনুসন্ধানের পাশাপাশি সময়মতো পদক্ষেপ না নিয়ে দেশের আর্থিক ক্ষতি করার দায়ে বিএফআইইউ’র সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

আরএনবি/এফএ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর