মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় হাইকোর্টের রায়ের অপেক্ষা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৫ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৪৮ এএম

শেয়ার করুন:

শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় হাইকোর্টের রায়ের অপেক্ষা
১৭ মে শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলার আসামি হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড দেয় মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল।

মাগুরার বহুল আলোচিত আট বছর বয়সী শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় হাইকোর্টের রায় ঘোষণা করা হবে আজ মঙ্গলবার।

গতকাল সোমবার (২৪ আগস্ট) বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ উভয় পক্ষের শুনানি শেষে রায়ের জন্য আজকের দিন ধার্য করেন।

মামলায় প্রধান আসামি হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য হাইকোর্টে আসা ডেথ রেফারেন্স এবং তার করা আপিলের ওপর শুনানি গতকাল শেষ হয়। শুনানিতে আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী হাফিজুর রহমান খান এবং রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ইমাম হোসেন তারেক অংশ নেন।

মামলার নথি অনুযায়ী, গত বছরের ৫ মার্চ রাতে মাগুরা শহরের নিজনান্দুয়ালী এলাকায় বোনের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার হয় আট বছর বয়সী শিশু আছিয়া। অভিযোগ রয়েছে, বোনের শ্বশুর হিটু শেখ তাকে ধর্ষণের পর হত্যার চেষ্টা করেন।

আট দিন হাসপাতালে অচেতন থাকার পর ১৩ মার্চ ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটির মৃত্যু হয়। সেই সময় বিক্ষুব্ধ লোকজন অভিযুক্তদের বাড়িঘরে আগুন লাগিয়ে দেয়।

পরে ওইদিন সন্ধ্যায় মরদেহ দাফনের জন্য সামরিক হেলিকপ্টারে করে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল থেকে সরাসরি মাগুরায় নেওয়া হয়। সেখানে জানাজা শেষে দাফন করা হয় তাকে।

তার আগে ৮ মার্চ শিশুটির মা চারজনকে আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মাগুরা সদর থানায় ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার মামলা করেন। এরপর চার আসামি অর্থাৎ শিশুটির বোনের স্বামী, বোনের শ্বশুর, শাশুড়ি ও ভাশুরকে হেফাজতে নেয় পুলিশ। মামলার পর তাদেরকে গ্রেফতার দেখানো হয়। পরে আদালতে তোলার পর তাদের ভিন্ন ভিন্ন মেয়াদে রিমান্ডেও নেয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীটি।

১৩ এপ্রিল মাগুরার মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। সেখানে হিটু শেখ ও জাহেদা বেগমের দুই ছেলে সজীব শেখ ও রাতুল শেখের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি আইনের ৫০৪ ধারা অনুযায়ী অভিযোগ আনা হয়।

অভিযোগপত্রে জাহেদা বেগমের বিরুদ্ধে যারা অপরাধীকে বাঁচানোর চেষ্টা করে, সত্য গোপন করে এবং আলামত নষ্ট করার অভিযোগ আনা হয়। এরপর ২৩ এপ্রিল চার্জ গঠনের মাধ্যমে মামলার বিচার কার্যক্রম শুরু হয়। ২৭ এপ্রিল থেকে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়ে ৭ মে অষ্টম কার্যদিবসের মধ্যে সাক্ষ্য পর্ব শেষ হয়। মাত্র ১৩ কার্যদিবসে বিচারিক কার্যক্রম শেষ করে ১৭ মে রায়ের দিন ধার্য করা হয়।

পরে ১৭ মে মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এম জাহিদ হাসান রায় ঘোষণা করেন। রায়ে শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলার প্রধান আসামি হিটু শেখকে মৃত্যুদণ্ড এবং এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

অপর তিন আসামি, নিহত শিশুর বোনের স্বামী সজীব শেখ, তার ছোট ভাই এবং সজীবের মা জাহেদা বেগমকে খালাস দেওয়া হয়।

ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী, বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ডের রায় হলে তা অনুমোদনের জন্য হাইকোর্টে পাঠানো বাধ্যতামূলক। সে অনুযায়ী গত বছরের ২১ মে মামলার নথি উচ্চ আদালতে পাঠানো হয়। পরে পেপারবুক প্রস্তুতের জন্য বিজি প্রেসে পাঠানো হয়। প্রস্তুত শেষে গত ৮ জুন পেপারবুক হাইকোর্টে পৌঁছালে মামলাটি শুনানির জন্য বিশেষায়িত বেঞ্চে কার্যতালিকাভুক্ত করা হয়।

দুই পক্ষের শুনানি শেষে গতকাল সোমবার মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়। মঙ্গলবার হাইকোর্ট এ বিষয়ে রায় ঘোষণা করবেন।

এমআর

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর