সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

নুসরাত হত্যা রহস্য থেকেই গেল, আপিলে উন্মোচন হবে: শিশির মনির

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৪ আগস্ট ২০২৬, ০৪:৫২ পিএম

শেয়ার করুন:

নুসরাত হত্যা ‘রহস্য’ থেকেই গেল, আপিলে রহস্যের উন্মোচন হবে: শিশির মনির

ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসার ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় ‘রহস্য’ এখনও রয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন আসামিপক্ষের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শিশির মনির। নুসরাতের মৃত্যুপূর্ব জবানবন্দির সঙ্গে আসামিদের সংখ্যার অমিল এবং ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ গায়েব করার বিষয়টি সামনে এনে তিনি এমন মন্তব্য করেন।

সোমবার (২৪ আগস্ট) হাইকোর্টে নুসরাত হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের রায় ঘোষণার পর সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এসব কথা বলেন।

এদিন বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া ১৬ আসামির মধ্যে দুইজনের সাজা বহাল রাখেন, চারজনের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন এবং ১০ জনকে খালাস প্রদান করেন।

আইনজীবী শিশির মনির বলেন, নুসরাত মৃত্যুর আগে দেওয়া জবানবন্দিতে বোরকা পরা চারজন নারীর কথা বলেছিলেন। কিন্তু সাজা দেওয়ার সময় দেখা গেল একজন নারী আর বাকি তিনজন পুরুষ। জবানবন্দির সেই চার নারী তিনজন পুরুষ হয়ে গেল কী করে? এটা বড় একটা রহস্য হয়ে রয়ে গেল।

তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, সাইক্লোন সেন্টারের তিন তলার ছাদে নুসরাতের গায়ে আগুন লাগানো হলো, অথচ আশপাশের কেউ কিছু শুনল না, কেউ কোনো শব্দ পেল না— একা একাই কি আগুন লেগে গেল? এই অংশের রহস্যও উদঘাটিত হয়নি।

তদন্তের গাফিলতির অভিযোগ তুলে এই আইনজীবী বলেন, ঘটনাস্থলে সিসিটিভি ক্যামেরা ছিল। ছয় বছর আগেও সেখানে ক্যামেরা সচল ছিল। কিন্তু তদন্ত কর্মকর্তা বা প্রসিকিউশন সেই ফুটেজ সংগ্রহ করে আদালতে উপস্থাপন করেনি। যদি সিসিটিভি ফুটেজ পাওয়া যেত, তবে মামলার মূল ভিত্তি এবং আমাদের যুক্তি ভিন্ন হতে পারত। ফুটেজ থাকলে স্পষ্ট বোঝা যেত কে সেখানে গিয়েছিল আর কে যায়নি।

শিশির মনির জানান, নুসরাতের মৃত্যুকালীন জবানবন্দির অডিও ও ভিডিও হাইকোর্টে উপস্থাপনের আবেদন জানিয়েছিলেন তারা। সেটি দেখলে নুসরাত আসলে কী বলেছিলেন তা পরিষ্কার হতো। 

তিনি বলেন, আমরা ন্যায়বিচারের আশায় উচ্চ আদালতে (আপিল বিভাগ) যাব। আশা করি সেখানে এই রহস্যের উন্মোচন হবে।

বিচারকের ক্ষমতা কেড়ে নেওয়ার নির্দেশ

বিচারিক আদালতের রায়ের কঠোর সমালোচনা করে শিশির মনির বলেন, হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণে এসেছে যে, বিচারিক আদালত কোনো বাছবিচার না করে ‘নির্বিচারে’ ১৬ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিলেন।

আদালত মন্তব্য করেছেন যে, এমন রায় সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলোর ওপর ‘বিধ্বংসী প্রভাব’ ফেলেছে।

তিনি জানান, হাইকোর্ট ওই বিচারকের বিচারিক ক্ষমতা কেড়ে নিয়ে তাকে আইন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন।

হাইকোর্টের রায়ে সাবেক অধ্যক্ষ এস এম সিরাজ-উদ-দৌলা ও শাহাদাত হোসেন শামীমের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে। যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে সাইফুর রহমান জুবায়ের, উম্মে সুলতানা পপি, নুর উদ্দীন ও সাখাওয়াত হোসেন জাবেদকে।

খালাস পাওয়া ১০ জন হলেন— মাকসুদ আলম ওরফে মকসুদ কাউন্সিলর, হাফেজ আব্দুল কাদের, আবছার উদ্দিন, কামরুন নাহার মনি, আব্দুর রহিম শরীফ, ইফতেখার উদ্দিন রানা, ইমরান হোসেন ওরফে মামুন, রুহুল আমিন, মহিউদ্দিন শাকিল ও মোহাম্মদ শামীম।

আইনজীবী শিশির মনির এই মামলায় কামরুন নাহার মনি, সাইফুর রহমান জুবায়ের ও মোহাম্মদ শামীমের আইনজীবী ছিলেন।

এদের মধ্যে মনি ও শামীম খালাস পেলেও জুবায়েরকে যাবজ্জীবন দেওয়া হয়েছে। জুবায়েরের সাজার বিরুদ্ধে তারা আপিল করবেন বলে জানান তিনি।

আরএনবি/এফএ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর