রাজধানীর ধানমন্ডির ৩২ নম্বর সড়কে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত বাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস ও সাবেক আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলসহ ২৭ জনের বিরুদ্ধে করা মামলার আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা এই আদেশ দেন।
এর আগে সকালে তামান্না চৌধুরী প্রিয়াংকা নামে এক নারী আদালতে এই নালিশি মামলার আবেদন করেন। আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে আদেশ পরে দেবেন বলে জানিয়েছিলেন।
দুপুরে শুনানি শেষে আবেদনটি খারিজ করে দেওয়া হয়। মামলা গ্রহণ করার মতো উপাদান না থাকায় আদালত তা খারিজ করে দিয়েছেন বলে জানান রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন।
মামলার আর্জিতে বলা হয়, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের ছয় মাস পূর্তিতে ধানমন্ডির ৩২ নম্বর সড়কে বঙ্গবন্ধুর বাড়ি এক্সকাভেটর দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এই ঘটনায় উসকানি ও সরাসরি সম্পৃক্ততার অভিযোগ এনে ২৭ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৩০০ থেকে ৫০০ জনকে আসামি করার আবেদন করা হয়েছিল।
মামলায় মুহাম্মদ ইউনূস ও আসিফ নজরুল ছাড়াও উল্লেখযোগ্য আসামিদের মধ্যে ছিলেন— সাবেক স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, সাবেক পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, প্রধান উপদেষ্টার সাবেক প্রেস সচিব শফিকুল আলম এবং সাবেক সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরওয়ার ফারুকী।
আসামির তালিকায় আরও ছিলেন— সাবেক উপদেষ্টা ও এনসিপির সংসদ সদস্য নাহিদ ইসলাম, আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, মাহফুজ আলম, এনসিপির সংসদ সদস্য আক্তার হোসেন, সমন্বয়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ, সারজিস আলম, আব্দুল হান্নান মাসউদ, সামান্থা শারমিন, নুসরাত তাবাসসুম এবং নাসিরুদ্দীন পাটোয়ারী।
এ ছাড়া প্রবাসী ইনফ্লুয়েন্সার পিনাকী ভট্টাচার্য্য, ইলিয়াস হোসাইন, কনক সারোয়ার এবং সাবেক সেনা কর্মকর্তা কর্নেল (অব.) নূরনবীকেও এই মামলায় আসামি করার আবেদন জানানো হয়েছিল।
গত ৫ আগস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকেই ৩২ নম্বরের ওই বাড়িটি নিয়ে পাল্টাপাল্টি রাজনৈতিক উত্তেজনা চলছিল। সর্বশেষ গত ফেব্রুয়ারিতে বাড়িটি পুরোপুরি ভেঙে ফেলার ঘটনা ঘটে।
আরএনবি/এফএ




