বরিশালের আগৈলঝাড়ায় ছাত্রদল নেতাসহ দুইজনকে ‘ক্রসফায়ারের’ নামে হত্যার মামলায় সাবেক এমপি আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ ও তৎকালীন এসপি এ কে এম এহসান উল্লাহর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছেন এক পুলিশ কর্মকর্তা।
সোমবার (১৭ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ ১১ নম্বর সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন তৎকালীন পুলিশ সুপারের বডিগার্ড এবং বর্তমানে এএসআই পদে কর্মরত মো. মেহেদী হাসান।
জবানবন্দিতে সাক্ষী বর্ণনা করেন কীভাবে ওই রাতে আগৈলঝাড়া থানার পুলিশ কর্মকর্তারা হত্যাকাণ্ডে অংশ নিতে রাজি না হওয়ায় পাশের উজিরপুর থানা থেকে পুলিশ এনে ‘ক্রসফায়ারের’ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হয়েছিল।
আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে এএসআই মেহেদী হাসান বলেন, ২০১৫ সালে তিনি বরিশাল জেলার তৎকালীন এসপি এ কে এম এহসান উল্লাহর বডিগার্ড ছিলেন। ২০ ফেব্রুয়ারি রাতে এসপি তাকে নিয়ে আগৈলঝাড়া ও উজিরপুর এলাকায় দফায় দফায় যাতায়াত করেন।
মেহেদী হাসান বলেন, রাত তখন আনুমানিক ৭টা। স্যার আগৈলঝাড়া থানায় ওসির রুমে প্রবেশ করেন। ঘণ্টাখানেক পর বের হয়ে উজিরপুর-গৌরনদী হাইওয়েতে যাওয়ার সময় স্যারের ফোনে অনেক কল আসতে থাকে। একপর্যায়ে স্যারকে ফোনে বলতে শুনি— ‘স্যার, আগৈলঝাড়া থানার কোনো অফিসার রাজি হয়নি, আমি উজিরপুর থানা থেকে অফিসার এনে আজই আপনার কাজ করে দিচ্ছি।’
এরপর তারা উজিরপুর থানায় যান এবং সেখান থেকে রাত ২টার দিকে পুনরায় আগৈলঝাড়া বাইপাস সড়কের দিকে রওনা হন। সাক্ষী জানান, বাইপাস সড়কের এক জায়গায় এসপি গাড়ি থামিয়ে নেমে যান এবং পিছন থেকে আসা একটি সাদা মাইক্রোবাসে উঠে সামনের দিকে চলে যান।
মেহেদী হাসান বলেন, ১৫-২০ মিনিট পর আমি ৪ থেকে ৫টি গুলির শব্দ শুনতে পাই। আরও ২০-২৫ মিনিট পর স্যার গাড়িতে ফিরে এসে পুনরায় আগৈলঝাড়া থানায় যেতে বলেন। পরদিন সকালে শুনতে পাই আগৈলঝাড়া থানায় ক্রসফায়ার হয়েছে যা উজিরপুর থানার এএসআই মাহাবুল ও জসিম ঘটিয়েছে।
তিনি আরও জানান, পরে তিনি জানতে পারেন স্থানীয় এমপি আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহর নির্দেশে এসপি এ কে এম এহসান উল্লাহ এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন এবং এটি বিভিন্ন সময় দম্ভের সঙ্গে তারা প্রকাশও করেছেন।
এই মামলায় বর্তমানে গ্রেফতার হয়ে কারাগারে আছেন উজিরপুর থানার সাবেক এএসআই মো. মাহাবুল ইসলাম ও এএসআই জসিম উদ্দিন। সোমবার তাদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।
মামলার মূল দুই আসামি সাবেক এমপি আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ এবং সাবেক এসপি এ কে এম এহসান উল্লাহ বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।
হত্যাকাণ্ডের শিকার দুইজন হলেন— আগৈলঝাড়া উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক টিপু হাওলাদার এবং উপজেলা জাসাস-এর সাংগঠনিক সম্পাদক কবির মোল্লা।
প্রসিকিউশনের অভিযোগে বলা হয়েছে, টিপু ও কবির ছিলেন আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী। তাদের সরিয়ে দিতে তিনি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করে তৎকালীন এসপিকে নির্দেশ দেন। ২০১৫ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি তাদের গ্রেফতারের পর রাতে আগৈলঝাড়া বাইপাস সড়কের পাশে ‘ক্রসফায়ারের নাটক’ সাজিয়ে হত্যা করা হয়।
এর আগে গত ২০ মে এই চার আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছিলেন ট্রাইব্যুনাল।
আরএনবি/এফএ




