সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত দোয়া ও মিলাদ মাহফিলকে কেন্দ্র করে সুপ্রিম কোর্টে বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের একাংশের মধ্যে ব্যাপক বিক্ষোভ ও উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। এ সময় তারা অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজলের পদত্যাগ দাবি করেছেন।
রোববার (১৮ আগস্ট) বিকেলে সুপ্রিম কোর্টে শহীদ শফিউর রহমান বার অডিটোরিয়ামের গেটের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এবং বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।
এ সময় অনুষ্ঠানে অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজলকেও মঞ্চে উপস্থিত থাকতে দেখা যায়।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে দেখা যায় , বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজলকে অডিটোরিয়ামে প্রবেশের সময় বাধা দিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন আইনজীবীদের একটি পক্ষ। তারা অডিটোরিয়ামের পূর্ব দিকের গেটে অবস্থান নিয়ে কাজলের প্রবেশের বিরোধিতা করেন এবং তার পদত্যাগ চেয়ে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন।
এ সময় বিক্ষোভকারী আইনজীবীদের কণ্ঠে শোনা যায়— ‘কাজল ধর, ধোলাই কর’; ‘দফা এক দাবি এক, কাজলের পদত্যাগ’; ‘দুর্নীতিবাজের বিরুদ্ধে, লড়াই হবে একসাথে’; ‘কাজলের আস্তানা, ভেঙে দাও গুড়িয়ে দাও’; ‘ফ্যাসিস্টের আস্তানা, ভেঙে দাও গুড়িয়ে দাও’; ‘একটা দুইটা গুপ্ত ধর, ধইরা ধইরা ধোলাই কর’ প্রভৃতি স্লোগান।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের নেতারা এগিয়ে আসেন। ফোরামের সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুল ইসলাম সজল বিক্ষুব্ধ আইনজীবীদের শান্ত করার চেষ্টা করে বলেন, আমাদের নেতৃবৃন্দ জানে, সুপ্রিম কোর্ট ইউনিটের সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম দায়িত্ব নিয়েছেন। আমি যতদূর জানি কাজ এগিয়েছেন। আপনাদের একটু ধৈর্য ধরতে হবে। আজকে আমাদের মাতা বেগম খালেদা জিয়ার মিলাদ ও দোয়া মাহফিল। সেই দোয়া মাহফিলে আপনারা সবাই অংশগ্রহণ করবেন এবং এই দোয়া মাহফিল যাতে ভালোভাবে সম্পন্ন হয় সেজন্য আপনারা দায়িত্ব পালন করবেন।
তিনি আরও বলেন, আপনাদের দাবি আমরা জানি এবং মানি আপনাদের দাবি যৌক্তিক। আমরা আপনাদের সঙ্গে রাজপথে বিগত দিনে ছিলাম, এখনো আছি। ভবিষ্যতেও থাকব। আপনাদের হতাশ হওয়ার কিছু নাই। এখানে সবাই আমরা একই পরিবারের সদস্য। বিভিন্ন কারণে হয়তোবা অ্যাটর্নি অফিসে গুপ্ত-সুপ্ত ফ্যাসিস্ট রয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি উনি (কাজল) গুপ্ত-সুপ্ত ফ্যাসিস্ট মুক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অফিস গড়ার লক্ষ্যে আমরা যে প্রক্রিয়া শুরু করেছি সেই প্রক্রিয়ায় উনি সহায়তা করবেন। আপনারা আজকে দয়া করে কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবেন না।
এ সময় ফোরামের নেতা গাজী তৌহিদুর রহমান আইনজীবীদের উদ্দেশে বলেন, এই কথা শোনো, আমি সবাইকে অত্যন্ত বিনয়ের সঙ্গে বলছি—আজকের এই অনুষ্ঠানটা শান্তিপূর্ণভাবে আমরা করব। আপনাদের ইতোমধ্যে আমরা যে কথা দিয়েছি, আমাদের সেই কাজ চলছে। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই আমরা এটার রেজাল্ট পাব। আমি গাজী তৌহিদ, অ্যাজ এ মেম্বার সেক্রেটারি হিসেবে বলছি— আমার চেয়ে এরকম শক্ত কথা আপনাদের কারও বলার সাহস নাই। আমি অলওয়েজ বলেছি, আপনাদের সমস্ত যৌক্তিক আন্দোলনের সঙ্গে আমি রয়েছি।
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে আরও বলেন, বেয়াদবি যদি কেউ করেন, আমি কিন্তু আপনাদের সঙ্গে থাকব না। আমি স্পষ্টভাবে বলতে চাই— কেউ এখানে বেয়াদবি করলে তার সঙ্গে থাকব না এবং তার দায়-দায়িত্ব কিন্তু তার। ব্যক্তিগতভাবে আপনাদের এই আন্দোলন বা আপনাদের এই যৌক্তিক দাবিকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার জন্য... আজকে এই অনুষ্ঠান যদি পণ্ড করা হয়, সমস্ত দায়-দায়িত্ব আপনাদের নিতে হবে। একটা মুলা ঝুলানো আছে। সকালে দেয়, বিকেলে দেয় না। অতএব আমি কিন্তু ওই মুলা-টুলা তোয়াক্কা করি না।
পরবর্তীতে নেতাদের হস্তক্ষেপে এবং আশ্বাসে প্রায় ৪০ জন বিক্ষোভকারী আইনজীবী অডিটোরিয়ামের গেট ছেড়ে দিলে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয় এবং মিলাদ মাহফিল শুরু হয়।
তবে পুরো সময়জুড়েই ওই এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছিল।
আরএনবি/এফএ




