রোববার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

ড. ইউনূসের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা ও দুর্নীতির তদন্ত চেয়ে নোটিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৬ আগস্ট ২০২৬, ০৪:০৫ পিএম

শেয়ার করুন:

ড. ইউনূসের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা ও দুর্নীতির তদন্ত চেয়ে নোটিশ
ড. মুহাম্মদ ইউনূস

সাবকে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে স্বার্থের সংঘাত, স্বজনপ্রীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারসহ বিভিন্ন গুরুতর অভিযোগের অনুসন্ধান এবং তার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

নোটিশে অভিযোগ করা হয়েছে, তদন্ত চলাকালে তার ‘দেশ ছেড়ে পালানোর প্রবণতা’ রয়েছে।

রোববার (১৬ আগস্ট) সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মহসিন রশিদের পক্ষে ব্যারিস্টার এম. আশরাফুল ইসলাম রেজিস্টার্ড ডাক ও কুরিয়ারযোগে এই ‘ডিমান্ড অব জাস্টিস’ নোটিশটি পাঠিয়েছেন।

নোটিশটি মন্ত্রিপরিষদ সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, পররাষ্ট্র সচিব, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান, পুলিশের আইজিপি, ডিএমপি কমিশনার এবং ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদফতরের মহাপরিচালকসহ সরকারের ১০ জন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাকে পাঠানো হয়েছে।

আরও পড়ুন: নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখবে জুলাই স্মৃতি জাদুঘর: ড. ইউনূস

নোটিশের বিষয়ে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মহসিন রশিদ বলেন, ‘আমার পক্ষে নোটিশটি দেওয়া হচ্ছে যেন প্রফেসর ইউনূস দেশ ছেড়ে না পালাতে পারেন। তাকে ‘এক্সিট কন্ট্রোলে’ দেওয়া দরকার যেন তিনি দেশেই থাকেন। কারণ তার বিরুদ্ধে ইতোমধেই আদালতে রুল ইস্যু করা আছে। হামের টিকা না আসায় শিশুদের মৃত্যু এবং ইপিআই প্রোগ্রাম (সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি) নিয়ে গণ্ডগোলের অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে আরও অনেক দুর্নীতির অভিযোগ আছে।’

ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনেও (দুদক) আবেদন করতে পারেন বলে জানান এই আইনজীবী। 

আইনি নোটিশে ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে ২১টি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তোলা হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে ক্ষমতার অপব্যবহার করে মামলা প্রত্যাহার, গ্রামীণ ব্যাংককে বিশেষ কর সুবিধা দেওয়া, সরকারি শেয়ার কমিয়ে আনা এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে গ্রামীণ ট্রাস্টে অর্থ স্থানান্তর।

নোটিশের বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরে আইনজীবী সৈয়দ মামুন মাহবুব বলেন, ‘আমাদের মূল দাবি হচ্ছে ইনকোয়ারি বা অনুসন্ধান। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের দীর্ঘ অপরাধের তালিকা রয়েছে। একটি হচ্ছে হাম ট্র্যাজেডিতে ভ্যাকসিন না এনে শিশুদের মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া। দ্বিতীয়টি হলো উচ্চপর্যায়ের দুর্নীতি। এমনকি ড. ইউনূসের বন্ধু ড. ইফতেখারুজ্জামানও বলেছেন— ড. ইউনূসের আমলে ৪৫ শতাংশের বেশি টাকা সুইস ব্যাংকে পাচার হয়েছে।’

সংবিধান লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে তিনি আরও বলেন, ‘সংবিধানের ২৩ ও ২৪ অনুচ্ছেদে জাতীয় ঐতিহ্য রক্ষার কথা বলা থাকলেও ড. ইউনূসের আমলে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভ মবের মাধ্যমে ভেঙে দেওয়া হয়েছে। ৩২ নম্বর বাঙালির আঁতুড়ঘর; সেখানে বুলডোজার দিয়ে আঘাত করা হয়েছে। তিনি অস্থায়ী সরকারের কনসেপ্টটাই নষ্ট করে দিয়েছেন।’

আরও পড়ুন: পুরনো কর্মস্থলে ফিরলেন ড. ইউনূস

মামুন মাহবুব আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের যত সরকারপ্রধান হয়েছেন— বঙ্গবন্ধু থেকে শুরু করে শেখ হাসিনা পর্যন্ত— সবার এক্সিকিউটিভরা যে ন্যূনতম সুবিধা নিয়েছেন তা মাটির কাছাকাছি, আর ড. ইউনূস সাহেবের অবৈধ সুবিধা আকাশ ছুঁয়ে যাবে। যেহেতু তারেক রহমান বলেছেন ‘দিনশেষে আইনের শাসনই হবে শেষ কথা’, তাই আমরা নিরপেক্ষ ইনকোয়ারি (তদন্ত) চাই। আর ইনকোয়ারির সময় তিনি যেন দেশ ছেড়ে যেতে না পারেন, কারণ তার পালানোর প্রবণতা আছে, অতীতেও তিনি পালিয়েছেন।’

নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, আগামী সাত দিনের মধ্যে ড. ইউনূসের বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা ও অভিযোগের বিষয়ে দৃশ্যমান পদক্ষেপ না নিলে সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগে রিট পিটিশন দায়ের করা হবে।

এর আগে ‘শিশু স্বাস্থ্য ট্র্যাজেডি’ বা হামের টিকা সংক্রান্ত বিষয়ে তদন্ত কমিশন গঠনের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে একটি রিট করা হয়েছিল, যার প্রেক্ষিতে গত ১৯ মে তারিখে রুল জারি করেছিলেন আদালত। 

সেই ধারাবাহিকতায় এবার এই সামগ্রিক অভিযোগের তদন্ত ও ড. ইউনূসের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার দাবি জানানো হলো।

আরএনবি/এএইচ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর