ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘রাজাকার’ মন্তব্যের প্রতিবাদে সাধারণ শিক্ষার্থীদের দেওয়া স্লোগানকে বিকৃতভাবে উপস্থাপনের মাধ্যমে অধ্যাপক জাফর ইকবাল তাদের চরিত্রহনন করার অভিযোগ তুলেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম। জাফর ইকবালকে ‘জ্ঞানপাপী’ বলেও আখ্যায়িত করেন চিফ প্রসিকিউটর।
বুধবার (১২ আগস্ট) প্রসিকিউশন কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি।
চিফ প্রসিকিউটর অভিযোগ করেন, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রেক্ষাপট এবং তাদের পূর্ণাঙ্গ স্লোগান না লিখে অর্ধেক অংশ ব্যবহার করে সারা দুনিয়ায় শিক্ষার্থীদের ‘রাজাকার’ হিসেবে হেয় প্রতিপন্ন করেন জাফর ইকবাল। এ ধরনের কাজকে ‘শিক্ষক সমাজের জন্য কলঙ্ক’ উল্লেখ করে তার দৃষ্টান্তমূলক সাজাও দাবি করেন তিনি।
আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘জাফর ইকবাল একজন সর্বজনশ্রদ্ধেয় শিক্ষক হিসেবে একসময় সম্মানিত ছিলেন। কিন্তু যখন শেখ হাসিনা আমাদের সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের ‘রাজাকারের নাতি-পুতি’ বলে ট্যাগ দিলেন, তখন ছাত্ররা এর প্রতিবাদ জানিয়েছিল। তাদের স্লোগান ছিল- ‘রাজাকার রাজাকার; কে বলেছে কে বলেছে? স্বৈরাচার, স্বৈরাচার’।’
শিক্ষক জাফর ইকবাল সুকৌশলে স্লোগানের পরবর্তী অংশটি বাদ দিয়ে কেবল ‘রাজাকার’ শব্দটিকে প্রচার করেন উল্লেখ্য করে তিনি বলেন, ‘তারা (জাফর ইকবাল ও অন্যরা) স্লোগানের ‘স্বৈরাচার স্বৈরাচার’ অংশটা বাদ দিয়ে শুধু ‘রাজাকার রাজাকার’ অংশটি নিয়ে শিক্ষার্থীদের চরিত্রহনন করেছেন। সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীরা যখন ন্যায্য দাবিতে আন্দোলন করছিল, তখন তাদের গায়ে রাজাকারের ট্যাগ লাগিয়ে সারা দুনিয়াতে তাদের হেয় প্রতিপন্ন করা হয়েছে।’
জাফর ইকবালের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে না যাওয়ার ঘোষণাকে ‘ঘৃণা-বিদ্বেষমূলক’ উল্লেখ করে এই প্রসিকিউটর বলেন, ‘তিনি ঘৃণা ছড়িয়ে বলেছিলেন- ‘আমি রাজাকারের বিশ্ববিদ্যালয়ে আন কোনোদিন যাব না’। তিনি একজন জ্ঞানপাপী। কারণ তিনি ভালো করেই জানতেন যে এই ছাত্ররা রাজাকারের নাতি-পুতি নয়, তারা সাধারণ শিক্ষার্থী। তারা কেবল প্রতিবাদ হিসেবে ওই স্লোগানটি দিয়েছিল।’
জাফর ইকবালের এই অবস্থানকে ‘শিক্ষক নামের কলঙ্ক’ হিসেবে অভিহিত করে আমিনুল ইসলাম আরও বলেন, ‘সত্য গোপন করে এবং স্লোগানকে বিকৃত করে তিনি যে প্রতিজ্ঞা করেছিলেন, তা চরম নিন্দনীয়। এই জাতীয় জ্ঞানপাপীদের দৃষ্টান্তমূলক সাজা হওয়া উচিত। এরা আমাদের শিক্ষক সমাজের কলঙ্ক।’
কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে গত জুলাই মাসে শিক্ষার্থীদের একটি স্লোগানকে কেন্দ্র করে ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল তার ব্যক্তিগত ওয়েবসাইটে একটি চিরকুট লিখেছিলেন। সেখানে তিনি শিক্ষার্থীদের ‘রাজাকার’ স্লোগান দেওয়ার ঘটনায় মর্মাহত হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আর না যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। সেই বিষয়টিকেই এখন শিক্ষার্থীদের ‘চরিত্রহনন’ ও ‘জ্ঞানপাপীর কাজ’ হিসেবে দেখছে প্রসিকিউশন পক্ষ।
এরআগে জুলাই অভ্যুত্থানের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার খসড়া তদন্ত প্রতিবেদনে জাফর ইকবালসহ চার জনের নাম এসেছে। অন্য হলেন- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই সাবেক উপাচার্য এ এস এম মাকসুদ কামাল ও মো. আখতারুজ্জামান, আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক।
ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর এম এইচ তামীম বলেন, জুলাই আন্দোলনের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনার তদন্ত এখন শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘তদন্ত কর্মকর্তার প্রস্তুত করা খসড়া প্রতিবেদনটি আমরা হাতে পেয়েছি এবং তা পর্যালোচনা করা হচ্ছে। শিগগিরই এটি চূড়ান্ত করা হবে। কোনো সংশোধন প্রয়োজন হলে তা শেষ করে দ্রুত চূড়ান্ত প্রতিবেদন পাওয়া যাবে।’
জাফর ইকবালসহ ওই চার জনের বিরুদ্ধে জুলাই অভ্যুত্থানের সময় উস্কানিমূলক বক্তব্য দেওয়া এবং হামলার পেছনে প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ মদদের অভিযোগ করে প্রসিকিউশন।
আরএনবি/এএম




