উচ্চ আদালতে মামলার চাপ কমাতে এবং বিচারপ্রার্থীদের দ্রুত প্রতিকার দিতে সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড অফিসে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (এডিআর) ও মধ্যস্থতা কার্যক্রম চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রাথমিক পর্যায়ে পারিবারিক বিরোধ, চেক জালিয়াতি ও যৌতুক নিরোধ আইনসহ বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট আইনের আওতায় এই মধ্যস্থতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
৯ আগস্ট (রোববার) সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের প্রশাসন শাখা থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
গত ১০ আগস্ট (সোমবার) ডেপুটি রেজিস্ট্রার (প্রশাসন ও বিচার) মো. আল-ইমরান খান স্বাক্ষরিত এই বিজ্ঞপ্তিটি সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রধান বিচারপতির সদয় অনুমতিক্রমে সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড অফিসে প্রাথমিক পর্যায়ে নির্দিষ্ট কিছু আইনের অধীনে এডিআর ও মধ্যস্থতা কার্যক্রম শুরু করা হচ্ছে।
যেসব বিষয়ে করা যাবে মধ্যস্থতা
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী, এখন থেকে লিগ্যাল এইড অফিসে নিচের বিষয়গুলোতে মধ্যস্থতার সুযোগ থাকবে-
পারিবারিক ও সামাজিক
পারিবারিক আদালত আইন-২০২৩, পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন-২০১৩ এবং যৌতুক নিরোধ আইন-২০১৮ এর সংশ্লিষ্ট ধারা। এছাড়া নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১১(গ) ধারার অধীনেও মধ্যস্থতা করা যাবে।
আর্থিক লেনদেন
নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস অ্যাক্টের (NI Act) ১৩৮ ধারার অধীনে চেক জালিয়াতি সংক্রান্ত বিরোধ।
দেওয়ানি ও দণ্ডবিধি
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের অধীনে জমি ও চুক্তি সংক্রান্ত বিরোধ এবং দণ্ডবিধির (Penal Code) অধীনে থাকা চুরি, প্রতারণা, মানহানি, মারামারি ও বিশ্বাস ভঙ্গের মতো বিষয়গুলো।
আদালত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই উদ্যোগের ফলে বিচারপ্রার্থীরা দীর্ঘসূত্রতা এড়িয়ে আদালতের বাইরেই আইনি কাঠামোর মধ্যে বিরোধ নিষ্পত্তি করতে পারবেন।
এতে যেমন খরচ কমবে, তেমনি উচ্চ আদালতে মামলার জটও কিছুটা হ্রাস পাবে।
সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড অফিস দীর্ঘদিন ধরে দরিদ্র ও অসহায় বিচারপ্রার্থীদের বিনামূল্যে আইনি সহায়তা দিয়ে আসছে।
এখন থেকে লিগ্যাল এইড অফিস কেবল আইনি সহায়তাই নয়, বরং উভয় পক্ষকে আলোচনার টেবিলে বসিয়ে বিরোধ মিটিয়ে ফেলার ক্ষেত্রেও ভূমিকা রাখবে।
আরএনবি/এমআই




