গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের পৃথক দুটি মামলায় সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসান এবং তারেক সাঈদকে গ্রেফতার দেখানোর নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
সোমবার (১০ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই আদেশ দেন।
গত ৪ আগস্ট প্রসিকিউশনের আবেদনের প্রেক্ষিতে এই দুই সাবেক সেনা কর্মকর্তাকে হাজির করার জন্য কারা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। ওই নির্দেশে এদিন তাদের হাজির করা হয়।
প্রসিকিউশন সূত্র জানায়, এই দুই সাবেক সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট দুটি অভিযোগের প্রাথমিক তদন্ত শেষে তাদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করার আবেদন জানানো হয়।
আসামিদের বিরুদ্ধে প্রথম অভিযোগটি ২০১৩ সালের ১৫ ডিসেম্বরের একটি ঘটনা নিয়ে। সেদিন লক্ষ্মীপুরের তিন বিএনপি নেতা— আব্দুল মান্নান, জহিরুল ইসলাম সুমন এবং আসাদুজ্জামান বাবুলকে আটক করার পর ‘ক্রসফায়ারের’ নামে বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ আনা হয়। নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে ওই ঘটনাকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
দ্বিতীয় অভিযোগটি ২০১৩ সালের ২৭ নভেম্বরের। সেদিন কুমিল্লার লাকসামের দুই বিএনপি নেতা সাইফুল ইসলাম হিরু এবং হুমায়ুন কবির পারভেজকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর থেকে তারা নিখোঁজ।
প্রসিকিউশনের দাবি, এই গুমের ঘটনার পেছনে সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসান এবং তারেক সাঈদের প্রত্যক্ষ ভূমিকা ও পরিকল্পনা ছিল।
সাবেক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জিয়াউল আহসান ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) সাবেক মহাপরিচালক এবং সাবেক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তারেক সাঈদ র্যাব-১১ এর সাবেক অধিনায়ক। তারেক সাঈদ এরআগে নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত খুন মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত হয়ে সাজা ভোগ করছেন। আর জিয়াউল আহসান জুলাই আন্দোলন পরবর্তী সময়ে মামলায় গ্রেফতার হয়ে কারাবন্দি আছেন।
আরএনবি/এএম




