বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক-কর্মচারীদের নিয়োগের সময় যে বিধিমালা কার্যকর ছিল, পরবর্তী সময়ে প্রণীত নতুন কোনো শর্ত দেখিয়ে তাদের অর্জিত আইনগত অধিকার থেকে বঞ্চিত করা যাবে না বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। আদালত বলেছেন, প্রশাসনিক প্রয়োজনে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ চাকরির বিধিমালা পরিবর্তন বা পরিমার্জন করতে পারে। তবে নতুন বিধিমালা অতীতে নিয়োগপ্রাপ্ত কোনো কর্মচারীর অর্জিত অধিকার ক্ষুণ্ন করতে পারে না।
এমপিওভুক্তির দাবিতে চার শিক্ষকের করা রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জারি করা রুল যথাযথ ঘোষণা করে দেওয়া রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি সোমবার (১০ আগস্ট) প্রকাশ করা হয়েছে। বিচারপতি শশাঙ্ক শেখর সরকার ও বিচারপতি উর্মি রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন। রায়ের মূল অংশ লিখেছেন বেঞ্চের কনিষ্ঠ বিচারপতি বিচারপতি উর্মি রহমান।
রায়ের পর্যবেক্ষণে হাইকোর্ট বলেন, নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের প্রশাসনিক প্রয়োজনে চাকরির বিধিমালা পরিবর্তন বা পরিমার্জনের এখতিয়ার রয়েছে। তবে তা কোনোভাবেই ইতিপূর্বে চাকরিতে যোগদানকারী কর্মচারীর অর্জিত অধিকারকে ক্ষুণ্ন করতে পারে না।
রায়ে আরও বলা হয়, ২০১৫ সালে রিটকারী শিক্ষকদের নিয়োগের সময় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট বিধিমালায় এনটিআরসিএ সনদের কোনো বাধ্যবাধকতা ছিল না। ডিগ্রি পর্যায়ের নিয়োগে এ সনদের শর্ত যুক্ত করা হয় ২০১৯ সালে। ফলে ২০১৫ সালে নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকদের ক্ষেত্রে ২০১৯ সালের বিধিমালা প্রয়োগ করা যুক্তিসংগত নয়।
হাইকোর্ট আরও বলেন, এমপিও মঞ্জুর করা সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত হলেও যুক্তিসংগত আইনি ভিত্তি ছাড়া খেয়ালখুশিমতো বা স্বেচ্ছাচারীভাবে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তা সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের অধীনে আদালতের বিচারিক পর্যালোচনার আওতায় আসতে পারে।
রায়ের বিবরণ অনুযায়ী, নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার রোজি মোজাম্মেল মহিলা কলেজে অর্থনীতি, মনোবিজ্ঞান, ইংরেজি ও সমাজকল্যাণ বিভাগে প্রভাষক (তৃতীয় শিক্ষক) পদে ২০১৫ সালে মো. আবু হানিফসহ চারজন নিয়োগ পান।
তারা ওই সময় কার্যকর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধিমালা অনুসরণ করেই নিয়োগপ্রাপ্ত হন এবং চাকরিতে যোগ দেন। পরে ২০২০ সালে কলেজটি এমপিওভুক্ত হয়।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট নীতিমালা অনুযায়ী ওই চার শিক্ষক এমপিও পাওয়ার যোগ্য ছিলেন। তাদের নামও মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তবে চূড়ান্ত পর্যায়ে ‘এনটিআরসিএ সনদ নেই’-এই কারণ দেখিয়ে অনলাইন প্রক্রিয়ায় তাদের এমপিও আবেদন নামঞ্জুর করা হয়।
এরপর ওই সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন চার শিক্ষক।
রিটের চূড়ান্ত নিষ্পত্তিতে হাইকোর্ট এনটিআরসিএ সনদ না থাকার কারণ দেখিয়ে চার প্রভাষকের এমপিও আবেদন প্রত্যাখ্যানের সিদ্ধান্ত বাতিল করেছেন।
একই সঙ্গে ২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে ওই চার শিক্ষকের নাম এমপিও তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায়ের অনুলিপি পাওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে ২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে প্রযোজ্য সব বকেয়াসহ তাদের আর্থিক সুবিধা পরিশোধের জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিবসহ সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
রিটকারীদের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মো. আতাউর রহমান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ ওয়ালিউল ইসলাম অলি ও মোহাম্মদ রাশেদুল হাসান।
আরএনবি/জেবি




