রোববার, ৯ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

‘জানাজা দিয়ে ইস্যু করেন’: আরও যা আছে কাদের-নানক-নাছিরের ফোনালাপে

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯ আগস্ট ২০২৬, ০৫:৪০ পিএম

শেয়ার করুন:

‘জানাজা দিয়ে ইস্যু করেন’: আরও যা আছে কাদের-নানক-নাছিরের ফোনালাপে
আওয়ামীলীগ নেতা ওবায়দুল কাদের, জাহাঙ্গির করিব নানক ও আ জ ম নাছির উদ্দীনের ফোন আলাপ। ছবি- এআই

জুলাই আন্দোলনে চট্টগ্রামে নিহত একজনকে নিজেদের লোক দাবি করে জানাজা দেওয়ার মাধ্যমে ‘ইস্যু’ তৈরির নির্দেশ দিয়েছিলেন সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জমা দেওয়া একটি অডিও রেকর্ডে এমন কথোপকথন শোনা গেছে।

রোববার (৯ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ আওয়ামীলীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সাত শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে চলা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় এই কল রেকর্ডটি দাখিল করে প্রসিকিউশন।

ট্রাইবুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম এই অডিও রেকর্ডটি উপস্থাপন করেন।

প্রসিকিউশনের দাবি, ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই চট্টগ্রামের তৎকালীন মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনকে ফোন করেন জাহাঙ্গীর কবির নানক। ওই কলে যুক্ত ছিলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরও।

যা ছিল সেই ফোনালাপে

ঢাকা মেইলের হাতে আসা প্রসিকিউশনের দাখিল করা অডিও রেকর্ডটি , ওবায়দুল কাদের, জাহাঙ্গীর কবির নানক এবং আ জ ম নাছিরের কথোপকথনটি পাঠকের উদ্দেশ্য তুলে ধরা হল-

কাদের: হ্যালো, নাছির কি করতেছে?

নাছির: জি ভাই, কাল থেকে তো ফাইট করছি। আজকেও তো ওই ইয়া না, সারাদিনই মারামারি। এখনও চলছে।

কাদের: ইউনিভার্সিটি কি ওই শিবিরের...?

নাছির: না, বিশ্ববিদ্যালয় গেছে না না না না... বিশ্ববিদ্যালয় পুরোপুরি একদম নিয়ন্ত্রণে আছে। ১০০ ভাগ নিয়ন্ত্রণে। বিশ্ববিদ্যালয় না। ওখান থেকে এখন টাউনে...।

কাদের: ইউনিভার্সিটি, চিটাগং কলেজ...?

নাছির: না না, এগুলো সব নিয়ন্ত্রণে। টাউনের ছোট একটা জায়গায় মুরাদপুর। ওদের সঙ্গে ফাইট হচ্ছে। ওরা বিভিন্ন জায়গা থেকে আইসা ওখানে গত প্রায় ২টা থেকে শুরু হইয়া এখনও পর্যন্ত চলছে। ওইখানে...।

কাদের: ওটা মুরাদপুর এক জায়গায়?

নাছির: মুরাদপুর একটা জায়গায়, একটা জায়গায়...। ছোট্ট একটা জায়গায়। ওইখানে ওই একপাশে ওরা...। আর আর পুরো চট্টগ্রাম পুরো কন্ট্রোলে। পুরো চট্টগ্রাম একদম ইউনিভার্সিটি...।

কাদের: আচ্ছা ঠিক আছে, তুমি... কথা বলো।

নাছির: আমি একদম দিচ্ছি। নিশ্চিন্তে থাকেন, ১০০ ভাগ নিশ্চিন্তে থাকেন। ইনশাআল্লাহ।

নানক: হ্যাঁ, নাসির?

নাছির: জি জি, স্লামালাইকুম।

নানক: কি অবস্থা?

নাছির: আমাদের এখানে পুরোপুরি ঠিক আছে। পুরো চট্টগ্রামে শুধু মুরাদপুর একটা জায়গায়, একটা জায়গায় শিবির ওই দিকে একটা অবস্থান নিছে। ওরা ওই খানে ফাইট হয়ে এই পর্যন্ত তিনজন মারা গেছে। বুঝছেন? ওই খানে গোলাগুলি চলতেছে।

নানক: তিনজন কারা? কারা মারা গেল?

নাছির: পথচারী আছে, ওদের একজন আছে, আমাদেরও একজন আছে। আর প্রচুর ইনজিউরি হইছে। প্রচুর ইনজিউরড হইছে। বুঝছেন না? প্রচুর দুই পক্ষেরই হইছে ওইখানে। ওইখানে আমরা একপাশে আছি। মুরাদপুরে একপাশে, মোড়ের ওপাশে ওরা, এইপাশে...।

নানক: নাছির ভাই?

নাছির: জি জি জি।

নানক: আমাদের যেটা মারা গেছে, সেটার জানাজা-টানাজা করেন। ওইটাকে ইস্যু করেন।

নাছির: ওইটাকে একটু ইস্যু করার চেষ্টা করতেছি। ওইটা এখন মেডিকেলে পাঠাইছে। ওইটা কনফার্ম করে, কনফার্ম করে তারপর ইয়া করবে।

নানক: ওইটাকে ইস্যু করেন, ওইটাকে ইস্যু করেন, হ্যাঁ? বি অ্যালার্ট, ওদের কিন্তু খুব খারাপ মতলব। বি অ্যালার্ট।

নাছির: হ্যাঁ, আর আর আর একটা বলি- আর সব পুরো একদম ১০০ পার্সেন্ট। ভার্সিটি থেকে আমি মানা করে দিছি যে, তোমরা ওখানেই থাকো। ভার্সিটি সবদিকে ঠিক আছে। ঠিক আছে, ১০০ ভাগ নিয়ন্ত্রণে, একদম ১০০ ভাগ নিয়ন্ত্রণে, ১০০ ভাগ নিয়ন্ত্রণে। আর চট্টগ্রাম শহরের সব জায়গায়, একটা জায়গায় ছোট্ট একটা জায়গায়...।

নানক: আচ্ছা থ্যাংক ইউ... থ্যাংক ইউ... থ্যাংক ইউ...।

নাছির: থ্যাংক ইউ।

প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম আদালতে জানান, মুরাদপুরে নিহতদের মধ্যে একজনকে নিজেদের লোক দাবি করে ইস্যু তৈরির নির্দেশ দেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত আওয়ামী লীগ তা করতে পারেনি। কারণ নিহত ওই ব্যক্তি তাদের দলের কেউ ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন ছাত্র-জনতারই একজন।

এই মামলায় পলাতক সাত আসামির বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে আরও দুদিন যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

মামলায় ওবায়দুল কাদের, জাহাঙ্গীর কবির নানক ছাড়াও আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, মোহাম্মদ আলী আরাফাত, শেখ ফজলে শামস পরশ, মাইনুল হোসেন খান নিখিল, সাদ্দাম হোসেন ও ওয়ালি আসিফ ইনানকে আসামি করা হয়েছে। আসামিরা সবাই পলাতক। 

আরএনবি/এএম

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর