রোববার, ৯ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

গুম আইনের আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখা হয়নি: শিশির মনির

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯ আগস্ট ২০২৬, ০৫:১২ পিএম

শেয়ার করুন:

গুম আইনের আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখা হয়নি: শিশির মনির
সুপ্রিম কোর্টের এনেক্স ভবনের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন আইনজীবী  শিশির মনির

প্রস্তাবিত গুম প্রতিকার ও প্রতিরোধ আইনের খসড়া আন্তর্জাতিক মানদণ্ড থেকে পিছিয়ে গেছে এবং গুমের তদন্তভার পুলিশের ওপর ন্যস্ত করাকে ‘তদন্ত না করার শামিল’ বলে মন্তব্য করেছেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী  শিশির মনির।  একইসঙ্গে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও একটি ‘ন্যূনতম প্রতিযোগিতা’ থাকা সুস্থ পরিবেশের জন্য জরুরি বলে মত দিয়েছেন তিনি।

রোববার (৯ আগস্ট) সুপ্রিম কোর্টের এনেক্স ভবনের সামনে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

প্রস্তাবিত নতুন গুম আইনের সমালোচনা করে শিশির মনির বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে, অধিকতর উন্নত একটি আইন তারা প্রস্তাব করবেন। কিন্তু বর্তমানে যে ড্রাফট (খসড়া) দেওয়া হয়েছে, তাতে দেখা যায় তারা আন্তর্জাতিক স্ট্যান্ডার্ড থেকে সরে এসেছেন। আগের অধ্যাদেশে ‘ইউনিভার্সাল ডিক্লারেশন অফ হিউম্যান রাইটস’ বা ‘ইন্টারন্যাশনাল সিভিল এন্ড পলিটিক্যাল রাইটস’-এর রেফারেন্স থাকলেও বর্তমান আইনে তার কোনো উল্লেখ নেই।’

গুমের তদন্তভার পুলিশের হাতে দেওয়ার সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘গুমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। আমাদের ইতিহাসে আমরা দেখেছি এনফোর্সড ডিসঅ্যাপিয়ারেন্সের সব জায়গায় হয়তো কোথাও পুলিশের সদস্য, না হয় র‍্যাবের সদস্য, না হয় ডিজিএফআইয়ের সদস্য জড়িত থাকেন। সেই অপরাধের তদন্ত করতে দেওয়া হচ্ছে এখন আবার পুলিশকেই! এর অর্থ হবে- এই অপরাধকে তদন্ত করার আর কোনো দরকার বাস্তবে থাকবে না। পুলিশের করা অপরাধের তদন্ত পুলিশকে দেওয়া বাস্তব অর্থে তদন্ত না করারই শামিল।’

গুমের তথ্যভাণ্ডার প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘পূর্বের আইনে তথ্য সংগ্রহের দায়িত্ব ছিল মানবাধিকার কমিশনের। কিন্তু এই আইনে তা দেওয়া হচ্ছে সরকারকে। সরকার কি চায় যে বাংলাদেশে কী পরিমাণ মানুষ গুম হয়েছে তার তথ্য প্রকাশ করতে? এটি কোনো ইনকামবেন্ট গভর্নমেন্ট (দায়িত্বে থাকা সরকার) কোনোদিন প্রকাশ করতে চায় না।’

৭০ অনুচ্ছেদ ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচন

সংবিধানের ৪৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রসঙ্গে শিশির মনির বলেন, ‘নির্বাচন মানে কি? আপনার অপশন থাকতে হবে- কাকে ভোট দেবেন, কাকে ভোট দেবেন না। যদিও ৭০ অনুচ্ছেদের কারণে কোনো সংসদ সদস্য দলের বিরুদ্ধে ভোট দিতে পারেন না, দিলে তার সদস্য পদ থাকে না। কিন্তু রাষ্ট্রপতি যেহেতু একটা নির্বাচন, সুতরাং এখানে একটা মিনিমাম প্রতিযোগিতা থাকা উচিত।’

তিনি আরও বলেন, ‘জুলাই চার্টারে ৭০ অনুচ্ছেদ পরিবর্তন করে সংসদ সদস্যদের স্বাধীনতা দেওয়ার প্রশ্ন এসেছিল। জুলাই সনদ তো বাস্তবায়িত হয় নাই। তবে ৭০ অনুচ্ছেদ সবসময় সংবিধানে থাকবে না। যে সংবিধান সংস্কার করার প্ল্যান করা হচ্ছে, সেখানে এই বিধান থাকছে না। দিস ইজ এ বিগেনিং অফ সামথিং গুড, লেট ইট বি ডান উইথ দ্য প্রসেস অফ দ্য কনস্টিটিউশনাল জার্নি। (এটি ভালো কিছুর সূচনা, সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই এটি সম্পন্ন হতে দেওয়া হোক।)’

বর্তমান সংসদ সদস্যদের ভোটাধিকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ইতোমধ্যে ভোটার তালিকা প্রকাশিত হয়েছে। যারা পদত্যাগ করেন নাই কিংবা যাদের সদস্যপদ বাতিল হয়নি, তারা সকলেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। আর এমপিদের মধ্য থেকে কেউ রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে নিয়ম অনুযায়ী তার ওই আসনটি শূন্য ঘোষণা করতে হবে।’

আরএনবি/এএম

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর