চব্বিশের জুলাইয়ে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন চলাকালে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের সরাসরি মৌখিক নির্দেশনায় দেশের ৫৯টি বিশ্ববিদ্যালয়ে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করা হয়েছিল।
বিটিআরসির এমন একটি দাপ্তরিক নথির কপি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দাখিল করেছেন প্রসিকিউশন।
নথিতে দেখা যায়, ইন্টারনেট সার্ভিস বন্ধ বা সীমিতকরণের এই সিদ্ধান্তটি পলকের নির্দেশে এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে নেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে এই পদক্ষেপের ‘ভূতাপেক্ষ অনুমোদনের’ জন্য বিটিআরসির সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে নথি উপস্থাপন করা হয়।
প্রসিকিউশনের দাখিল করা বিটিআরসির নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই সন্ধ্যা ৬টা ৩১ মিনিটে নেটওয়ার্ক বন্ধের নির্দেশনা কার্যকর করা হয়। ওই সময় দেশের ৫৫টি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও চারটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়সহ মোট ৫৯টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ১১৫৩টি সাইটে থ্রি জি ও ফোর জি নেটওয়ার্ক বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বিটিআরসিকে অবহিত করেছিলেন, নেটওয়ার্ক বন্ধের পদক্ষেপগুলো সরাসরি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে কার্যকর করা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী দাপ্তরিক লিখিত আদেশ থাকার কথা থাকলেও তৎকালীন প্রতিমন্ত্রীর মৌখিক নির্দেশনাতেই বড় এই সিদ্ধান্তটি কার্যকর করা হয়।
নথিটি পর্যালোচনায় দেখা যায়, ইন্টারনেট বন্ধের এই কার্যক্রমের পরবর্তী বৈধতা বা ‘ভূতাপেক্ষ অনুমোদনের’ জন্য বিটিআরসির ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড অপারেশনস (ইএন্ডও) বিভাগের সহকারী পরিচালক ইয়াসমিন সুলতানা এবং উপ-পরিচালক প্রকৌশলী মো. নাহিদুল হাসান এটি তৈরি করেন।
প্রসিকিউশন জানিয়েছে, আন্দোলনের সময় তথ্যপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত করতে এবং দমন-পীড়ন চালাতে কীভাবে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে ব্যবহার করা হয়েছিল, এই নথিটি তার অন্যতম প্রমাণ। ট্রাইব্যুনালে মামলার শুনানির অংশ হিসেবে এই লিখিত অনুমোদনের কপিটি গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
এ বিষয়ে প্রসিকিউটর জি এইচ তামিম বলেন, ‘বিষয়টি শুধু কথোপকথনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। ১৬ জুলাই সন্ধ্যা ৬টা থেকে দেশের ৫৯টি বিশ্ববিদ্যালয়ে থ্রি-জি ও ফোর-জি নেটওয়ার্ক বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশনা জারি করেছিল সরকার।’
তিনি বলেন, ‘আন্দোলন চলাকালে ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, টিকটকসহ বেশ কয়েকটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমও বন্ধ করে দেওয়া হয়। এটি ‘সিস্টেম ক্রাইম’-এর একটি অংশ। এছাড়া জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই সময় হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে যাওয়া আহত আন্দোলনকারীদেরও গ্রেফতার করা হয়েছিল।’
আরএনবি/এএইচ




