বিএনপির নেতা ইলিয়াস আলীকে গুমের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়ার দাবি করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে বিমান বাহিনীর উইং কমান্ডার মো. সাইফুর রহমানকে গ্রেফতারের আবেদন করেছে ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন। আগামী রোববার তাকে এই মামলায় গ্রেফতার দেখানো হতে পারে।
সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের সরাসরি নেতৃত্বে ইলিয়াস আলীকে অপহরণ করা হয়েছিল বলেও জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব তথ্য জানান।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, বিমান বাহিনীর উইং কমান্ডার সাইফুর রহমান বর্তমানে সেনা হেফাজতে আছেন। ইলিয়াস আলী নিখোঁজের ঘটনায় সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে তাকে গ্রেফতারের আবেদন করা হয়েছে।
আমিনুল ইসলাম বলেন, ইলিয়াস আলী নিখোঁজের ঘটনায় বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত চলছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে উইং কমান্ডার সাইফকে গ্রেফতারের জন্য বৃহস্পতিবার আবেদন করা হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, আগামী রোববার এ বিষয়ে আদালতের আদেশ পাওয়া যাবে। এরপর তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে ইলিয়াস আলী মামলায় গ্রেফতার দেখানো হবে।
এই মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানসহ আরও কয়েকজনকে আসামি করা হতে পারে বলেও জানান চিফ প্রসিকিউটর।
জিয়াউল আহসানের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে আমিনুল ইসলাম বলেন, তার বডিগার্ডের দেওয়া সাক্ষ্য থেকে ইলিয়াস আলীকে অপহরণের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র পাওয়া গেছে।
তদন্তের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, বনানীতে ইলিয়াস আলীকে তুলে নেওয়ার জন্য প্রথমে একবার চেষ্টা করা হয়েছিল। প্রথম দফার চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর দ্বিতীয় দফায় জিয়াউল আহসানের নেতৃত্বে তাকে অপহরণ করা হয়। এই প্রক্রিয়ায় উইং কমান্ডার সাইফও সরাসরি জড়িত ছিলেন বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে।
ইলিয়াস আলীকে গুমের ঘটনায় সাবেক সেনা কর্মকর্তা মামুন খালেদেরও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে জানান চিফ প্রসিকিউটর। তবে তদন্তের স্বার্থে এ মুহূর্তে বিস্তারিত জানাতে চাননি তিনি।
ইলিয়াস আলীকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে আমিনুল ইসলাম বলেন, তদন্ত এখনো চলছে। সুনির্দিষ্টভাবে এ বিষয়ে এখনই কিছু বলা সম্ভব নয়। তদন্ত শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল মধ্যরাতে রাজধানীর বনানী এলাকা থেকে গাড়িচালক আনসার আলীসহ নিখোঁজ হন বিএনপির তৎকালীন সাংগঠনিক সম্পাদক ইলিয়াস আলী।
এরপর এক যুগের বেশি সময় পার হলেও তার কোনো সন্ধান পায়নি পরিবার।
জুলাই আন্দোলনের পর গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে ইলিয়াস আলীসহ বিভিন্ন সময়ে গুম হওয়া ব্যক্তিদের বিষয়ে নতুন করে তদন্ত শুরু হয়েছে।
আরএনবি/এআর




