জনগণের অর্থের অপচয় রোধ এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় গতিশীলতা আনতে রাষ্ট্রপতির ‘আলংকারিক পদ’ বাতিল করে ‘রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থা’ প্রবর্তনের দাবিতে সরকারকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান মামুন জনস্বার্থে এই নোটিশটি পাঠান। মন্ত্রিপরিষদ সচিব, আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং সংসদ সচিবালয়ের সচিবকে এই নোটিশের বিবাদী করা হয়েছে।
নোটিশে বলা হয়, বর্তমানে বাংলাদেশে প্রচলিত সংসদীয় সরকার ব্যবস্থায় প্রধানমন্ত্রীকে একইসঙ্গে সরকার প্রধান এবং সংসদ সদস্য হিসেবে দ্বৈত দায়িত্ব পালন করতে হয়। এই অতিরিক্ত প্রশাসনিক চাপের কারণে নির্বাহী বিভাগের কার্যক্রমে ধীরগতি ও বাধার সৃষ্টি হয়।
অন্যদিকে, বর্তমান সাংবিধানিক কাঠামোতে রাষ্ট্রপতির পদটি নিছক একটি ‘আলংকারিক পদ’ হিসেবে রয়েছে, যার কোনো কার্যকর নির্বাহী ক্ষমতা নেই। তবে ক্ষমতা না থাকলেও রাষ্ট্রপতির বাসভবন ও প্রটোকল বজায় রাখতে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে জনগণের বিপুল অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন:
সংবিধানে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা কতটুকু?
নোটিশ প্রদানকারী আইনজীবী মাহমুদুল হাসান মামুনের দাবি, বাংলাদেশের মতো একটি উন্নয়নশীল দেশে নিছক আনুষ্ঠানিক পদের পেছনে জনগণের করের টাকার এই বিপুল ব্যয় সম্পূর্ণ ‘অযৌক্তিক’ এবং ‘আর্থিকভাবে চরম হুমকিস্বরূপ’।
আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে নোটিশে আরও বলা হয়, যুক্তরাজ্য, জাপান বা কানাডার মতো দেশে সাংবিধানিক রাজতন্ত্র থাকলেও তাদের নিজস্ব ঐতিহাসিক সম্পত্তি ও এস্টেট থেকে আয়ের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক ব্যয় মেটানো হয়। কিন্তু বাংলাদেশে সাধারণ মানুষের ট্যাক্সের টাকায় একজন আলংকারিক রাষ্ট্রপতির পেছনে অর্থ অপচয় করার কোনো যৌক্তিকতা নেই। এছাড়া বিশ্বের অধিকাংশ শক্তিশালী দেশ সরাসরি রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থায় সফলভাবে পরিচালিত হচ্ছে।
আইনি যুক্তিতে বলা হয়েছে, সংবিধানের ২১(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সরকারি সম্পত্তি রক্ষা করা প্রত্যেক নাগরিকের সাংবিধানিক কর্তব্য। এছাড়া ২১(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সব সময় জনগণের সেবা করার চেষ্টা করা প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিযুক্ত ব্যক্তিদের দায়িত্ব। ফলে প্রধানমন্ত্রীকে অতিরিক্ত চাপে রাখা এবং ক্ষমতারহিত রাষ্ট্রপতির পেছনে অর্থ ব্যয় করা জনগণের প্রতি কার্যকর সেবা প্রদানের সাংবিধানিক কর্তব্যের পরিপন্থী।
আগামী ১৫ দিনের মধ্যে সংবিধানে প্রয়োজনীয় সংশোধনীর মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তনে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে নোটিশে অনুরোধ জানানো হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হলে জনগণের অর্থ রক্ষায় সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী হাইকোর্টে জনস্বার্থে রিট আবেদন করা হবে বলেও নোটিশে জানানো হয়।
আরএনবি/এএম




