সোমবার, ৩ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

মহাখালীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালের জমি উদ্ধারে হাইকোর্টের নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৩ আগস্ট ২০২৬, ০৪:২১ পিএম

শেয়ার করুন:

মহাখালীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালের জমি উদ্ধারে হাইকোর্টের নির্দেশ

মহাখালীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালের বেদখল হওয়া ২৪ একর জমি উদ্ধারে সংশ্লিষ্টদের নিষ্ক্রিয়তাকে কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে ৩০ দিনের মধ্যে এ বিষয়ে করা আবেদন নিষ্পত্তি, হাসপাতালের জমির সীমানা নির্ধারণী ম্যাপ সংগ্রহ এবং আদালতে কমপ্লায়েন্স প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রোববার (৩ আগস্ট) রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি মো. জিয়াউল হকের বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক (ডিজিএইচএস), ঢাকার জেলা প্রশাসক, সিভিল সার্জন, গণপূর্ত অধিদফতরের প্রধান প্রকৌশলী, সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালের মহাপরিচালক এবং বনানী থানার ওসিসহ আট বিবাদীকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

রিটকারী পক্ষের আইনজীবী শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালের নামে বরাদ্দকৃত ৩২ একর জমির মধ্যে বর্তমানে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দখলে রয়েছে মাত্র ৮ একর। বাকি ২৪ একর জমি অবৈধ দখলদারদের দখলে চলে গেছে। সেখানে আবাসন, আধা কাঁচা-পাকা ঘর ও বস্তি গড়ে তোলা হয়েছে এবং বিভিন্ন অবৈধ কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালের জমি বেদখল হওয়ার বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ হওয়ার পরে রিটকারী প্রতিষ্ঠান ‘পপারস লিগ্যাল এইড ফাউন্ডেশন’ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে তথ্য চেয়ে চিঠি দেয়। জবাবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, ৩২ একর জমির মধ্যে মাত্র ৮ একর তাদের দখলে রয়েছে। তবে পুরো ৩২ একর জমির জন্যই তাদের খাজনা পরিশোধ করতে হচ্ছে।

আইনজীবী শফিকুল ইসলাম বলেন, পরে দখলদারদের কাছ থেকে জমি উদ্ধার করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে বুঝিয়ে দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে লিখিত আবেদন করা হয়। কিন্তু দুই মন্ত্রণালয় কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় তাদের নিষ্ক্রিয়তার বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়।

রিটে বলা হয়েছে, সরকারি সম্পত্তি ও জনস্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান রক্ষায় সাংবিধানিক ও আইনি দায়িত্ব পালনে বিবাদীরা ব্যর্থ হয়েছেন। সংবিধানে জনস্বাস্থ্যের উন্নয়ন এবং জীবনের অধিকার ও আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করার যে বিধান রয়েছে, সরকারি হাসপাতালের জমি বেদখল হওয়ার মাধ্যমে তা লঙ্ঘিত হচ্ছে।

এ ছাড়া চিকিৎসাসেবার জন্য নির্ধারিত জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট সরকারি জমি কোনোভাবেই ব্যক্তিমালিকানায় দখলে রাখার সুযোগ নেই বলেও রিট আবেদনে বলা হয়েছে।

সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালের জমি থেকে সব ধরনের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে সম্পূর্ণ দখল বুঝিয়ে দেওয়া, অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ওই জমিতে নতুন কোনো স্থাপনা নির্মাণ, জমি হস্তান্তর বা জমির শ্রেণি পরিবর্তনের ওপর অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞার আবেদন জানানো হয়েছে মামলায়।

আরএনবি/এফএ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর