রোববার, ২ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

শোন অ্যারেস্টের ‘অপব্যবহার’ বন্ধে সরকারকে আইনি নোটিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০২ আগস্ট ২০২৬, ০৪:৪৫ পিএম

শেয়ার করুন:

শোন অ্যারেস্টের অপব্যবহার বন্ধে সরকারকে আইনি নোটিশ
সুপ্রিম কোর্ট। ফাইল ছবি

ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৭ (এ) ধারার অধীনে শোন অ্যারেস্ট পদ্ধতির ‘অপব্যবহার’ বন্ধে কার্যকর নির্দেশিকা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের দাবিতে সরকারকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

রোববার (২ আগস্ট) রেজিস্টার্ড ডাকযোগে আইন ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল, স্বরাষ্ট্র সচিব এবং পুলিশ মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) কাছে এই নোটিশ পাঠানো হয়।

ল অ্যান্ড লাইফ ফাউন্ডেশন ট্রাস্ট এবং সুপ্রিম কোর্টের তিন আইনজীবী— ব্যারিস্টার মোহাম্মদ কাউছার, মো. মাকসুদুর রহমান ও মারুফ হাসান তমালের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার মোহাম্মদ হুমায়ন কবির পল্লব এই নোটিশ পাঠান।

নোটিশে বলা হয়েছে, নোটিশ পাওয়ার পাঁচ দিনের মধ্যে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের অধীনে হাইকোর্ট বিভাগে রিট আবেদনসহ প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

নোটিশে বলা হয়, আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পর কারামুক্তি আটকাতে অন্য কোনো পুরনো বা নতুন মামলায় গ্রেফতার দেখানোর (শোন অ্যারেস্ট) মাধ্যমে নাগরিকের মৌলিক অধিকার চরমভাবে লঙ্ঘিত হচ্ছে। এর ফলে আদালতের দেওয়া জামিন কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়ছে।

এতে আরও বলা হয়েছে, ‘ব্রিটিশ আমল থেকেই জামিনকে রাজনৈতিক উদ্দেশে ব্যবহার করার নজির রয়েছে। পাকিস্তান আমল পেরিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশেও একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। অথচ আইনের সাধারণ নীতি হলো— জামিনই হবে স্বাভাবিক নিয়ম। বর্তমানে একজন ব্যক্তি একটি মামলায় জামিন পাওয়ার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাকে অন্য মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে হেফাজতে রাখছে। এতে বিচারপ্রার্থীদের সংবিধান-স্বীকৃত মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ণ হচ্ছে।’

নোটিশে ফৌজদারি কার্যবিধি (সংশোধন) আইন, ২০২৬-এর মাধ্যমে নতুন সংযোজিত ১৬৭ (এ) ধারার প্রসঙ্গ টেনে বলা হয়, কোনো ব্যক্তিকে নতুন মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আবেদন তখনই ম্যাজিস্ট্রেট অনুমোদন করতে পারবেন, যখন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে কেস ডায়েরির অনুলিপিসহ সশরীরে হাজির করা হবে এবং আবেদনটি যথাযথ ভিত্তিসম্পন্ন বলে আদালতের কাছে প্রতীয়মান হবে।

সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক এবং নারায়ণগঞ্জের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীর উদাহরণ টেনে নোটিশে বলা হয়, এই ধরনের ঘটনা কোনো বিচ্ছিন্ন বিষয় নয়, বরং এটি একটি বিস্তৃত ও নিয়মিত প্রবণতায় পরিণত হয়েছে।

আইনি নজির হিসেবে ‘সাইফুজ্জামান বনাম রাষ্ট্র’ মামলার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে নোটিশে বলা হয়, ‘পুলিশের ক্ষমতার অপব্যবহার রোধ করা বিচার বিভাগের দায়িত্ব। এই ধরনের অপব্যবহারের ফলে একজন বিচারপ্রার্থী যেন ‘সাপ-লুডু’ খেলায় আটকে যান, যেখানে জামিন পাওয়ার পরও নতুন মামলায় গ্রেফতার হয়ে তাকে আবার শুরুতে ফিরে যেতে হয়।’

এছাড়া ভারতের সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক একটি পর্যবেক্ষণ এবং ‘বাংলাদেশ বনাম ব্লাস্ট’ মামলার রায় উল্লেখ করে বলা হয়, যথাযথ ভিত্তি ছাড়া শোন অ্যারেস্টের ব্যবহার কার্যত একটি আইনবহির্ভূত বিকল্প শাস্তিমূলক ব্যবস্থায় পরিণত হয়েছে।

নোটিশের বিষয়ে ব্যারিস্টার মোহাম্মদ হুমায়ন কবির পল্লব বলেন, ‘আমরা নোটিশে তিনটি সুনির্দিষ্ট দাবি জানিয়েছি। প্রথমত, জামিন অকার্যকর করার উদ্দেশ্যে শোন অ্যারেস্টের প্রথা বন্ধ করতে হবে। দ্বিতীয়ত, ১৬৭(এ) ধারার আবেদন কখন ‘যথাযথ ভিত্তিসম্পন্ন’ হবে, তার স্পষ্ট মানদণ্ড নির্ধারণ করে বাধ্যতামূলক নির্দেশিকা জারি করতে হবে। এবং তৃতীয়ত, সব শর্ত কঠোরভাবে পূরণ না হলে কোনো ব্যক্তিকে নতুন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো যাবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘এটি কোনো ব্যক্তিবিশেষের বিষয় নয়, বরং আমাদের বিচার ব্যবস্থার মর্যাদা ও নাগরিকের ব্যক্তিগত স্বাধীনতার সুরক্ষার প্রশ্ন। পাঁচ দিনের মধ্যে পদক্ষেপ না নিলে আমরা উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হব।’

আরএনবি/এএইচ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর