শুক্রবার, ৩১ জুলাই, ২০২৬, ঢাকা

১৬৪ ধারার জবানবন্দি, শুনানির জন্য ৪ অ্যামিকাস কিউরি নিয়োগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ৩১ জুলাই ২০২৬, ০৩:১৬ পিএম

শেয়ার করুন:

১৬৪ ধারার জবানবন্দি, শুনানির জন্য ৪ অ্যামিকাস কিউরি নিয়োগ
ছবি: সংগৃহীত

ফৌজদারি মামলার তদন্ত চলাকালে আসামির ১৬৪ ধারায় দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির সহি মোহরী নকল (সার্টিফাইড কপি) কেন দেওয়া হবে না, তা নিয়ে রুল শুনানির জন্য ৪ জন ‘অ্যামিকাস কিউরি’ (আদালতের বন্ধু) নিয়োগ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

প্রধান বিচারপতির গঠিত বৃহত্তর বেঞ্চে গত বৃহস্পতিবার এই রুল শুনানি শুরু হয়। বেঞ্চের সদস্যরা হলেন— বিচারপতি রুহুল কুদ্দুস কাজল, বিচারপতি জাফর আহমেদ ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলম।

এই মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ৬ আগস্ট দিন ধার্য করেছেন আদালত।

নিয়োগপ্রাপ্ত ৪ অ্যামিকাস কিউরি হলেন— জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. শাহদীন মালিক, সাবেক বিচারপতি এ বি এম আলতাফ হোসেন, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের আইনজীবী এ বি এম সিদ্দিকুর রহমান খান এবং জ্যেষ্ঠ আইনজীবী বশির আহমেদ।

ল্যাটিন পরিভাষা ‘অ্যামিকাস কিউরি’র অর্থ হলো ‘আদালতের বন্ধু’। জনগুরুত্বপূর্ণ বা সাংবিধানিক বিষয়ে ব্যাখ্যার প্রয়োজনে আদালত জ্যেষ্ঠ ও অভিজ্ঞ আইনজীবীদের মতামত নিতে তাদের নিয়োগ দিয়ে থাকেন।

আদালতে পিটিশনারের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী শিশির মনির ও আজিম উদ্দিন পাটোয়ারী। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. ওবায়দুর রহমান তারেক, মো. ফজলুল হক সেলিম ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মাহফুজা আক্তার।

আদালত সূত্রে জানা যায়, সাধারণত মামলার তদন্ত চলাকালীন আসামিকে ১৬৪ ধারার জবানবন্দির নকল দেওয়া হয় না। তবে উচ্চ আদালতে জামিন শুনানির সময় প্রায়ই এই জবানবন্দি দেখার প্রয়োজন পড়ে। এই আইনি জটিলতা নিরসনেই বৃহত্তর বেঞ্চে শুনানি শুরু হয়েছে।

রিটকারীর পক্ষের আইনজীবী শিশির মনির বলেন, আসামির দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি তার বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হয় এবং সাক্ষ্য আইন অনুযায়ী এটি একটি ‘পাবলিক ডকুমেন্ট’। এই দলিল পেতে আসামিপক্ষে কোনো আইনি বাধা নেই। বর্তমানে এই জবানবন্দির ফটোকপি পেতে আসামিকে তদন্তকারী কর্মকর্তার ওপর নির্ভর করতে হয়, যা অনেক ক্ষেত্রে অনিয়মের সুযোগ তৈরি করে।

লিটন পাটোয়ারী নামে এক আসামি একটি হত্যা মামলায় ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার পর তার নকল চেয়ে বিচারিক আদালতে আবেদন করেন। ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ও পরবর্তীতে দায়রা জজ আদালত সেই আবেদন নামঞ্জুর করলে তিনি হাইকোর্টে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৬১ ধারায় আবেদন করেন।

২০২১ সালের ৯ মার্চ তৎকালীন বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের বেঞ্চ তদন্ত চলাকালে জবানবন্দির নকল কেন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছিলেন।

অবশেষে গত বৃহস্পতিবার রুলে গুরুত্বপূর্ণ আইনি প্রশ্ন জড়িত থাকায় বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য প্রধান বিচারপতি এই বৃহত্তর বেঞ্চ গঠন করে দেন।

আইনজীবী শিশির মনির আরও বলেন, আসামি তার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির পাশাপাশি ভিক্টিমের ২২ ধারার জবানবন্দি ও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার অধিকার রাখে। ন্যায়বিচারের স্বার্থে এই বিষয়টির আইনি সমাধান হওয়া জরুরি।

আরএনবি/এআরএম

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর