চট্টগ্রাম-২ আসনে বিএনপি'র প্রার্থী সরোয়ার আলমগীরের সংসদ সদস্য পদের বৈধতা এবং নির্বাচন কমিশনের তড়িঘড়ি পদক্ষেপকে ‘তুঘলকি কাণ্ড’ বলে অভিহিত করেছেন সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী শিশির মনির।
সরোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা সংক্রান্ত হাইকোর্টের রায় প্রকাশিত হওয়ায় বুধবার (২৯ জুলাই) আপিল বিভাগ 'পূর্ণাঙ্গ রায় যেহেতু পাওয়া গেছে, তাই এই মামলাটি (মিসলেনিয়াস পিটিশন) আর এই মুহূর্তে শোনার সুযোগ নেই' বলে আদেশ দেন। সংক্ষুব্ধ পক্ষ চাইলে রায়ের বিরুদ্ধে নিয়মিত আপিল দায়ের করতে পারে বলেও আদালত মন্তব্য করেছেন।
প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ জামায়াত প্রার্থীর আবেদনটি তালিকা থেকে বাদ (আউট অব লিস্ট) করে দেন।
আপিল বিভাগের শুনানি শেষে সুপ্রিম কোর্ট এনেক্স ভবনের সামনে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।
শুনানি শেষে নির্বাচন কমিশনের পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করে জামায়াত প্রার্থী নুরুল আমীনের আইনজীবী শিশির মনির বলেন, ‘আপিল বিভাগের আদেশের প্রেক্ষিতে তিনি যে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিলেন, তার ফলাফল প্রকাশ স্থগিত ছিল। মামলাটি হাইকোর্ট ডিভিশনে পাঠানো হয়েছিল শুনানির জন্য। ৯ই জুলাই ২০২৬ তারিখে মামলাটি হাইকোর্ট ডিভিশনের রায় হয়। রায় হয়েছিল আনুমানিক ১২টার দিকে। তড়িঘড়ি করে কোনো রায়ের কপি ছাড়াই, ৫টার দিকে গ্যাজেট পাবলিশ করে দেয় ইলেকশন কমিশন এবং ৭টার সময় তাকে শপথ দেয়া হয়। অথচ তখনও পর্যন্ত আদালতের কোনো আদেশ সই-স্বাক্ষরই হয়নি, টাইপই হয়নি।’
তিনি অভিযোগ করেন, ‘এই অবস্থায় আমরা যেন পরবর্তীতে উচ্চ আদালতে যেতে না পারি, এই ধরনের একটি টেকনিক অবলম্বন করা হয়েছে। এ ব্যাপারে আমি ইলেকশন কমিশনে দরখাস্ত করেছিলাম যে, কোন আদেশের বলে আপনারা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন? আমাদেরকে তার কপি দেন। তারা আমাদেরকে কপি দিতে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করেন। আমার মনে হয় বাংলাদেশের ইতিহাসে এটিই একমাত্র ঘটনা যেখানে তড়িঘড়ি করে ৫ ঘণ্টার ভিতরে ইলেকশন কমিশন এরকম একটি পদক্ষেপ নিল। এবং সার্টেনলি (হঠাৎ করে) এই ধরনের পদক্ষেপ বিচার বিভাগের জন্য এবং আইনের শাসনের জন্য মঙ্গলকর নয়।’
শিশির মনির আরও বলেন, এটি অনেকটা ‘তুঘলকি কাণ্ড’। এই যে ‘তুঘলকি কাণ্ড’ ঘটানো হয় যদি আইন-আদালতকে ব্যবহার করে, তাহলে আমরা অতীতে দেখেছি কারও ভবিষ্যতেই ভালো হয় নাই। যে বা যারাই তুঘলকি কাণ্ডর দিকে হেঁটেছেন, সে বা তাদেরই ভবিষ্যৎ সময়ের ব্যবধানে বড় ধরনের রিস্কের মধ্যে পড়েছে। নিয়ম অনুযায়ী বৃহস্পতিবারে ১২টার সময় রায় হয়েছে, ৫টার সময় কি কারণে গেজেট পাবলিশ করতে হলো? কি কারণে ৭টার সময় শপথের আয়োজন করতে হলো? আপনারা সেই পথে হেঁটেছেন— তিনি জানান, আগামীকালই (বৃহস্পতিবার) তারা ‘সিভিল পিটিশন ফর লিভ টু আপিল’ দায়ের করবেন।
ঋণখেলাপির অভিযোগে সরোয়ার আলমগীরের মনোনয়নপত্র শুরুতে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও পরে নির্বাচন কমিশন বাতিল করলেও হাইকোর্টের অন্তর্বর্তীকালীন আদেশে তিনি নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিজয়ী হন। তখন আপিল বিভাগ নির্দেশনা দিয়েছিলেন যে, বিজয়ী হলেও যেন ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশ না করা হয় এবং হাইকোর্টে রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তা স্থগিত থাকবে। সম্প্রতি হাইকোর্ট রুল শুনানি শেষে তার প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করে চূড়ান্ত রায় দেন।
এই রায়ের পরপরই দ্রুততম সময়ে গেজেট প্রকাশ ও শপথের আয়োজন করা হলে সংক্ষুব্ধ হয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করেন প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত প্রার্থী নুরুল আমীন।
আদালত আজ সেই আবেদনটি নিষ্পত্তি করে নিয়মিত আপিল করার পরামর্শ দিয়েছেন। ফলে আপাতত সরোয়ার আলমগীরের সংসদ সদস্য পদ বহাল থাকছে।
এনআরবি/এমআই




