বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ঢাকা

ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার কেলেঙ্কারি: শুনানিতে বিব্রত হাইকোর্ট বেঞ্চ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৯ জুলাই ২০২৬, ০৫:৪২ পিএম

শেয়ার করুন:

ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার কেলেঙ্কারি: শুনানিতে বিব্রত হাইকোর্ট বেঞ্চ
হাইকোর্ট। ছবি: সংগৃহীত

ইসলামী ব্যাংকে এস আলম গ্রুপের শেয়ার কেলেঙ্কারি-সংক্রান্ত রিটের শুনানি করতে বিব্রত বোধ করেছেন হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ। ফলে মামলাটি নতুন বেঞ্চে শুনানির জন্য প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠানো হয়েছে।

বুধবার (২৯ জুলাই) বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি রেজাউল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ মামলাটি শুনতে অপারগতা প্রকাশ করেন। আদালতের এ সিদ্ধান্তের পর নিয়ম অনুযায়ী মামলার নথি প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠানো হয়েছে। তিনি নতুন বেঞ্চ নির্ধারণ করবেন।

আদালতে ইসলামী ব্যাংকের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী আব্দুল্লাহ আল মামুন। পক্ষভুক্ত ইসলামিক ইকনোমিক রিসার্চ ব্যুরোর (আইইআরবি) পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শিশির মনির, জায়েদ বিন আমজাদ ও সাব্বির রহমান।

মামলাটি আংশিক শুনানি হওয়া অবস্থায় ছিল। গত ৩০ জুন আইইআরবির পক্ষভুক্ত হওয়ার আবেদন শুনানি হয়। পরে ১৬ ও ২২ জুলাই ইসলামী ব্যাংকের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার আব্দুল কাইয়ুম। বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার শামীম খালেদ আহমেদ। বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের শুনানি শেষে আইইআরবির পক্ষে শিশির মনিরের শুনানি হওয়ার কথা ছিল। তবে দিনের শুরুতেই আদালত শুনানিতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

পরে আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন শিশির মনির। তিনি বলেন, শেয়ার কেলেঙ্কারির মাধ্যমে এস আলম গ্রুপ ২৪টি কোম্পানির নামে ইসলামী ব্যাংকের ৮১ দশমিক ৯২ শতাংশ শেয়ার নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার অভিযোগে করা এ মামলার শুনানি দুই দিন হয়েছে। তৃতীয় দিনে বেঞ্চের একজন বিচারপতি বিব্রত বোধ করায় মামলাটি আর এগোয়নি।

শিশির মনির বলেন, তিন দিন রুল শুনানির পর এভাবে বিব্রত বোধ করা বিচার বিভাগের জন্য ভালো নজির নয়। বিচার বিভাগকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেওয়া উচিত। বিচার বিভাগের ওপর চাপ সৃষ্টি করার প্রবণতা কারও জন্যই ইতিবাচক নয়।

আইইআরবির আইনজীবী সাব্বির রহমান বলেন, ২০২৫ সালের ১১ মার্চ বিচারপতি মো. আশরাফুল কামালের নেতৃত্বাধীন একটি দ্বৈত বেঞ্চ রুল জারি করেন। রুলে জানতে চাওয়া হয়, কোনো ব্যক্তি বা গ্রুপের ৫ শতাংশের বেশি (অনুমতি সাপেক্ষে সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ) শেয়ার ধারণের সুযোগ না থাকলেও এস আলম গ্রুপের ২৪টি প্রতিষ্ঠানের নামে কীভাবে ৮১ শতাংশের বেশি শেয়ার অর্জিত হলো এবং কেন বাংলাদেশ ব্যাংক এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়নি। একই সঙ্গে শেয়ার হস্তান্তরে স্থিতাবস্থা বজায় রাখা এবং বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটকে (বিএফআইইউ) তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়।

আইনজীবী আব্দুল্লাহ আল মামুন সাংবাদিকদের বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের বিধান অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি বা গ্রুপ একটি ব্যাংকের ১০ শতাংশের বেশি শেয়ার ধারণ করতে পারে না। কিন্তু এস আলম গ্রুপ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে ইসলামী ব্যাংকের প্রায় ৮২ শতাংশ শেয়ার কিনেছে। অভিযোগ রয়েছে, এ শেয়ার কেনার অর্থও ইসলামী ব্যাংক থেকেই ঋণ হিসেবে নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যবস্থা না নেওয়ায় আদালতের শরণাপন্ন হওয়া হয়। আজ অধিকতর শুনানির দিন থাকলেও বেঞ্চের একজন বিচারপতি বিব্রত বোধ করায় মামলাটি প্রধান বিচারপতির দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।

এর আগে গত বছরের ২৩ মার্চ বিচারপতি মো. আশরাফুল কামাল ও বিচারপতি কাজী ওয়ালিউল ইসলামের বেঞ্চ ২৪টি প্রাতিষ্ঠানিক শেয়ারহোল্ডারের শেয়ার ও লভ্যাংশ জব্দ রাখার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট পরিচালক ও প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যাংক হিসাব স্থগিত, আদালতের অনুমতি ছাড়া বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা এবং ব্যাংকের বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) ও বিশেষ সাধারণ সভায় (ইজিএম) অংশগ্রহণ বা ভোট দেওয়া থেকে বিরত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। ৫ আগস্টের আগে দায়িত্ব পালন করা পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের বিদেশ ভ্রমণেও নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে।

বিএফআইইউর তদন্তে যা উঠে আসে

আদালতের নির্দেশে বিএফআইইউ ২০২৫ সালের ২৯ অক্টোবর ৪২ পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, শেয়ারধারী ২৪টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২২টি দেশীয় ও দুটি বিদেশি। এসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এস আলম গ্রুপের মালিকপক্ষের আত্মীয়স্বজন, ব্যক্তিগত সহকারী ও কোম্পানি সচিবের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে।

তদন্তে আরও বলা হয়, ইসলামী ব্যাংক থেকেই ঋণ নিয়ে বিভিন্ন স্তরে অর্থ স্থানান্তরের মাধ্যমে আবার সেই অর্থ দিয়ে ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার কেনা হয়েছে। বিদেশি সংস্থা আইডিবি শেয়ার বিক্রি করলে অল্প সময়ের মধ্যে তিনটি কোম্পানি বড় অঙ্কের সেই শেয়ার কিনে নেয়।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে যাওয়ার পর শরিয়াহভিত্তিক এ বেসরকারি ব্যাংকটিতে বড় ধরনের আর্থিক অনিয়ম ঘটে। যথাযথ ঝুঁকি মূল্যায়ন ছাড়াই বিপুল পরিমাণ ঋণ বিতরণের ফলে ব্যাংকটি তারল্য সংকটে পড়ে এবং এর আর্থিক ভিত্তি দুর্বল হয়ে যায়। বর্তমানে মামলাটি নতুন বেঞ্চে শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে।

আরএনবি/এআর

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর