মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ঢাকা

‘শামীম ওসমানের বাধায় মেলেনি চিকিৎসা, চোখের সামনে প্রাণ হারান স্বজন’

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৮ জুলাই ২০২৬, ০৪:৫০ পিএম

শেয়ার করুন:

‘শামীম ওসমানের বাধায় মেলেনি চিকিৎসা, চোখের সামনে প্রাণ হারান স্বজন’
তৎকালীন সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের নির্দেশে আহতদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়নি। ছবি: সংগৃহীত

নারায়ণগঞ্জে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে চোখের সামনে গুলিতে স্বজনের কাতরানো এবং পরে হাসপাতালে চিকিৎসা না পেয়ে মৃত্যুর বর্ণনা দিয়েছেন সাক্ষী এনআরবি মামুন।

তিনি অভিযোগ করেছেন, তৎকালীন সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের নির্দেশে আহতদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়নি।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর সদস্য বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর একক বেঞ্চে দ্বিতীয় সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন তিনি।

জুলাই আন্দোলনে নারায়ণগঞ্জে ১০ জনকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় এই সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।

৪১ বছর বয়সী ব্যবসায়ী মামুন জানান, তিনি ব্যক্তিগতভাবে জাতীয়তাবাদী যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত এবং আন্দোলনের শুরু থেকেই সক্রিয় ছিলেন।

জবানবন্দিতে মামুন বলেন, ‘৫ আগস্ট দুপুর দেড়টার দিকে চাষাড়া মোড়ে শামীম ওসমানের নেতৃত্বে অয়ন ওসমান, আজমেরী ওসমানসহ প্রায় ১০০-১৫০ জন সশস্ত্র লোক আমাদের ওপর হামলা চালায়। একপর্যায়ে ল্যাব এইড হাসপাতালের গলিতে আমার সামনেই অয়ন ওসমানের গুলিতে স্বজন নামে এক ব্যক্তি আহত হন।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা কয়েকজন মিলে তাকে উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে নিয়ে যাই। কিন্তু শামীম ওসমানের নির্দেশে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কোনো চিকিৎসা দেয়নি। পরে ৬ আগস্ট বিজয় উদযাপনের সময় স্বজনের মৃত্যুর খবর পাই।’

এর আগে ১৯ জুলাইয়ের ঘটনার বর্ণনা দিয়ে এই সাক্ষী বলেন, ‘জালকুড়ি এলাকায় শামীম ওসমান ও তার বাহিনীর হামলায় আমার পাশে থাকা আদিল ও ইয়াসিন ঘটনাস্থলেই মারা যান। আমি নিজেও সেদিন গুলিবিদ্ধ হয়েছিলাম।’

২১ জুলাই সাইনবোর্ড এলাকায় হামলার মুখে প্রাণ বাঁচাতে ডিএনডি খালে ঝাঁপ দিয়ে নিজের দাঁত ভেঙে যাওয়ার কথাও জানান তিনি।

এদিন সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে মামুনকে জেরা করেন রাষ্ট্রনিযুক্ত (স্টেট ডিফেন্স) আইনজীবী আমির হোসেন, আলী হায়দার ও মুসতাভী হাসান রাতুল।

প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর আবদুস সাত্তার পালোয়ান। সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর সহিদুল ইসলাম সরদার, আবদুল্লাহ আল নোমানসহ অন্যান্য প্রসিকিউটর।

মামলার ১২ জন আসামিই বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। শামীম ওসমান ছাড়া অন্যরা হলেন— শামীম ওসমানের ছেলে ইমতিনান ওসমান অয়ন, ভাতিজা আজমেরী ওসমান, অয়নের শ্যালক মিনহাজ উদ্দিন আহমেদ ভিকি, নারায়ণগঞ্জ রাইফেলস ক্লাবের সাবেক সভাপতি তানভীর আহমেদ টিটু, বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ডিবিসির নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি রাজু আহমেদ, ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আব্দুল করিম বাবু, ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর কামরুল হাসান মুন্না, নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক শাহ নিজাম উদ্দিন আহমেদ, যুবলীগ নেতা শাহাদাত হোসেন সাজনু, ছাত্রলীগ নেতা হাবিবুর রহমান রিয়াদ ও সোহানুর রহমান শুভ্র।

গত ১৩ মে এই ১২ আসামির বিরুদ্ধে তিনটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয়। অভিযোগগুলোর মধ্যে ১৯ জুলাই ছয়জনকে হত্যা, ২১ জুলাই দুইজনকে হত্যা এবং ৫ আগস্ট আরও দুইজনকে হত্যার ঘটনা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
পলাতক আসামিদের অনুপস্থিতিতেই ট্রাইব্যুনালে এ বিচারকাজ চলছে।

আরএনবি/এমআই

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর