বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

ইয়ামিন হত্যা: সাবেক এমপি সাইফুলসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৬ জুলাই ২০২৬, ১২:৪৬ পিএম

শেয়ার করুন:

ইয়ামিন হত্যা: সাবেক এমপি সাইফুলসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সাভারে এমআইএসটি শিক্ষার্থী আসহাবুল ইয়ামিনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলামসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) দাখিল করেছে প্রসিকিউশন।

রোববার (২৬ জুলাই) সকালে ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে এই অভিযোগ জমা দেওয়া হয়।

তদন্ত সংস্থার দেওয়া প্রতিবেদন পর্যালোচনার পর প্রসিকিউশন এই পদক্ষেপ নিয়েছে। রোববারই ট্রাইব্যুনালে এর ওপর শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে বলে প্রসিকিউশনের তরফ থেকে জানানো হয়েছে।

প্রসিকিউশন জানিয়েছে, দীর্ঘ তদন্ত শেষে এই মামলায় সাবেক এমপি সাইফুলসহ মোট ১৯ জনকে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে সাতজন পুলিশ কর্মকর্তা বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।

কারাগারে থাকা আসামিরা হলেন— ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আব্দুল্লাহিল কাফী, সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাভার সার্কেল) মো. শাহিদুল ইসলাম, সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মোহাম্মদ আলী, নায়েক সোহেল, নায়েক মিজানুর রহমান, নায়েক জাকির হোসেন এবং কনস্টেবল মাসুদ মিয়া।

নিহত আসহাবুল ইয়ামিন মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির (এমআইএসটি) কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। গত ১৮ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে সাভারে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন তিনি।

যা বলা হয়েছে অভিযোগে

প্রসিকিউশনের অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে হামলা চালায় পুলিশ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।

দুপুর দেড়টার দিকে ইয়ামিনকে ধরে টেনে পুলিশের সাঁজোয়া যানের (এপিসি) কাছে নিয়ে বুকের বাঁ পাশে গুলি করা হয়। এতে তার বুকে অসংখ্য স্প্লিন্টার বিদ্ধ হয়।

অভিযোগে বলা হয়, গুলিবিদ্ধ ইয়ামিনকে একপর্যায়ে টেনে সাঁজোয়া যানের ওপরে ফেলে রাখা হয়। আন্দোলনরত ছাত্র-জনতাকে ভয় দেখাতে তাকে ওই অবস্থায় রেখেই গাড়িটি এদিক-ওদিক প্রদক্ষিণ করতে থাকেন দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা। পরে প্রায় মৃত অবস্থায় তাকে রাস্তায় ফেলে দেওয়া হয়।

একইসঙ্গে সাঁজোয়া যানের ভেতর থেকে একজন পুলিশ সদস্যকে বের করে তার পায়ে পুনরায় গুলির নির্দেশ দেন। ওই পুলিশ সদস্য ইয়ামিনকে মৃত ভেবে পায়ে গুলি না করে রাস্তার ওপরের একপ্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে টেনে নিয়ে সড়ক বিভাজকের পাশে ফেলে দেন। গুলিবিদ্ধ ইয়ামিনকে তখনও নিশ্বাস নিতে দেখা যায়। পরে তাকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

ইয়ামিনকে এপিসি থেকে ফেলে দেওয়ার সেই দৃশ্য সারাবিশ্বকে নাড়া দিয়েছিল। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ফুটেজটি প্রকাশিত হলে নিন্দার ঝড় ওঠে। সেই সঙ্গে জুলাই আন্দোলনে পুলিশ ও আওয়ামী লীগ গুণ্ডা বাহিনীর নৃসংশতা ফুটে উঠেছিল সেই ফুটেজে।

আরএনবি/এমআইকে/এফএ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর