জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব জাহাঙ্গীর আলম ও যুগ্ম-সচিব ধনঞ্জয় কুমার দাসের বিরুদ্ধে তদন্ত শেষ করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা।
শিগগিরই তাদের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) দাখিল করা হবে বলে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) প্রসিকিউশন থেকে সাংবাদিকদের এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
প্রসিকিউশন জানায়, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বেশ কয়েকটি মামলার তদন্ত ইতোমধ্যে শেষ করেছেন তদন্ত সংস্থার কর্মকর্তারা। এর অংশ হিসেবে কয়েকটি তদন্ত প্রতিবেদন প্রসিকিউশন টিমের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাবেক এই দুই শীর্ষ কর্মকর্তার মামলাও রয়েছে।
বর্তমানে এসব তদন্ত প্রতিবেদন যাচাই-বাছাইয়ের কাজ চলছে। এই প্রক্রিয়া শেষ হলেই আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আকারে তা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা হবে।
চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘তদন্ত সংস্থা থেকে এরই মধ্যে আমাদের হাতে প্রায় ১০টি মামলার প্রতিবেদন এসেছে। এসব নিখুঁতভাবে যাচাই-বাছাই সম্পন্ন হলেই ফরমাল চার্জ দেওয়া হবে।’
প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, তদন্ত সংস্থা থেকে আসা এসব মামলার আসামির তালিকায় থাকা বেশিরভাগ ব্যক্তিই ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য ছিলেন।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ১৪ আগস্ট সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব জাহাঙ্গীর আলমকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠায় তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার। এরপর ওই বছরেরই ১ অক্টোবর তিনি গুলশান থেকে গ্রেফতার হন। সেই থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।
অন্যদিকে একই মন্ত্রণালয়ের সাবেক যুগ্ম-সচিব ধনঞ্জয় কুমার দাসকে গত বছরের ২৯ জুলাই সরকারি চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকেই তিনি পলাতক রয়েছেন।
আরএনবি/এএইচ




