রোববার, ৭ জুন, ২০২৬, ঢাকা

সোহেল-স্বপ্নাকে যথাযথ শাস্তি না দিলে আদালত ব্যর্থ হবে: বিচারক

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৭ জুন ২০২৬, ০১:১২ পিএম

শেয়ার করুন:

Sohel-Sopna
দুজনকেই মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। ছবি: সংগৃহীত

দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করা শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার বিচারকাজ দ্রুততম সময়ে সম্পন্ন হয়েছে। রোববার (৭ জুন) আলোচিত মামলাটির রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। রায়ে অভিযুক্ত দুই আসামি সোহেল রানা এবং তার স্ত্রী স্বপ্নাকে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন বিচারক। পাশাপাশি দুজনকেই অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত করা হয়েছে। বিচারক রায় ঘোষণার সময় কিছু পর্যবেক্ষণও দিয়েছেন। সেখানে তিনি বলেছেন, মামলার আসামি দুজন সংশোধনযোগ্য নন। তাদের যথাযথ শাস্তি না দিলে আদালত ব্যর্থ হয়ে যাবে।

ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন আলোচিত মামলাটির রায় ঘোষণা করেন। প্রায় ৪০ মিনিট তিনি রায় পাঠ করে শোনান।


বিজ্ঞাপন


সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে প্রধান আসামি সোহেল রানাকে এজলাসে তোলা হয়। পরে সকাল ১০টা ৫৫ মিনিটে আসামি স্বপ্না আক্তারকে এজলাসে আনা হয়।

স্বপ্নাকে এজলাসে প্রবেশ করানোর সময় সোহেল প্রথমে মুখ নিচু করে রাখেন। পরে স্ত্রীর দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখা যায়। এরপর দুই আসামিকে কাঠগড়ায় রাখা হয়।

আরও পড়ুন

রামিসা ধর্ষণ ও হত্যায় সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

রায়ে বিচারক উল্লেখ করেন, সোহেল রানা শিশু রামিসাকে হত্যার আগে ধর্ষণ করেন, এটার প্রমাণ মিলেছে। জবানবন্দিতে রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যার সব অপরাধের দায় স্বীকার করেন সোহেল রানা। এসময় স্ত্রী স্বপ্না খাতুন তাকে পালাতে সহযোগিতা করেন। এছাড়াও আসামি দোষ স্বীকারোক্তির পর তা প্রত্যাহারের আবেদন করা হয়নি। দুজনই একই অপরাধে অপরাধী।


বিজ্ঞাপন


আদালত বলেন, আসামিদের যথাযথ শাস্তি না দিলে আদালত ব্যর্থ হবে। তাদের অপরাধ সংশোধনযোগ্য নয়।

Ramisa22
রায় ঘোষণার সময় দুই আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। ছবি: সংগৃহীত

আদালতের রায় ঘোষণার পর রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, আদালত পরিষ্কারভাবে বলেছেন, অটোপসি রিপোর্টে চিকিৎসক বলেছেন ভিকটিম রামিসার দেহে ধর্ষণের আলামত পেয়েছেন। রায়ে আমরা সন্তুষ্ট। ট্রাইব্যুনাল অতি দ্রুততম সময়ে রায় ঘোষণা করেছেন।

আইনজীবী বলেন, আদালত রায়ের শুরুতে বলেছেন, শিশুদের অধিকার বা শিশুদের রক্ষা রাষ্ট্রের মৌলিক উদ্দেশ্যগুলোর একটি। অপরাধ হলে কোনো দয়া দাক্ষিণ্য না দেখিয়ে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। তারই নিমিত্তে ট্রাইব্যুনাল অপরাধীদের মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করেছেন।

এদিকে সচিবালয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, আমরা আপাতত সন্তুষ্ট। উচ্চ আদালতে গেলেও এই রায় অব্যাহত থাকবে। বিচার শুরু থেকে রায় ঘোষণায় সময় লেগেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবস। এ নিয়েও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

আরও পড়ুন

রায় শুনে রামিসার বাবা বললেন- ‘আলহামদুলিল্লাহ’

রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লাও। তিনি বলেন, আমরা প্রত্যাশিত রায় পেয়েছি। এই রায়ে আমাদের আশা ও আকাঙ্ক্ষা মিটবে। রায়ে আমি শতভাগ খুশি হয়েছি। প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া সময়ের মধ্যেই আমরা কাঙ্ক্ষিত রায় পেয়েছি।

গত ১৯ মে রাজধানীর পল্লবীতে প্রতিবেশী সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের ফ্ল্যাট থেকে রামিসার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই দিনই রামিসার বাবা দুজনকে আসামি করে পল্লবী থানায় মামলা করেন। ঘটনার পরপরই দুজনকে গ্রেফতার করা হয়।

২০ মে সোহেল রানা আদালতে দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। এরপর ২৪ মে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পল্লবী থানার উপপরিদর্শক অহিদুজ্জামান দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। একই দিন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হক অভিযোগপত্র গ্রহণ করে মামলাটি বিচারের জন্য শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠান। পরে ট্রাইব্যুনাল অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে বিচার শুরুর আদেশ দেন।

জেবি

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর