মঙ্গলবার, ২ জুন, ২০২৬, ঢাকা

রামিসা হত্যা মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু, আদালতে ন্যায়বিচার চাইলেন বাবা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০২ জুন ২০২৬, ১০:৪৩ এএম

শেয়ার করুন:

রামিসা হত্যা মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু, আদালতে ন্যায়বিচার চাইলেন বাবা
আদালতে নেওয়া হয় রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার আসামি সোহেল রানাকে।

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছে। মামলার প্রধান দুই আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্নার সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করে ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।

মঙ্গলবার (২ জুন) সকালে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরুর আগে এই দাবি করেন রামিসার বাবা।


বিজ্ঞাপন


আদালত সূত্রে জানা গেছে, আজ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজন চাঞ্চচল্যকর এই ধষর্ণ ও হত্যা মামলায় সাক্ষ্য দেবেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন ম্যাজিস্ট্রেট, চিকিৎসক, আলামত সংগ্রহকারী কর্মকর্তা এবং স্থানীয় প্রতিবেশীরা।

সাক্ষ্যগ্রহণ শুরুর আগে সকাল পৌনে ৯টার দিকে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে প্রধান আসামি সোহেল রানাকে এবং কাশিমপুর কারাগার থেকে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আদালতে আনা হয়। পরে তাদের ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়।

গতকাল সোমবার ট্রাইব্যুনাল দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। একই সঙ্গে মামলার বাদীসহ ১৭ জন সাক্ষীকে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করা হয়।

তার আগে গত ২৪ মে ট্রাইব্যুনাল দুই আসামির বিরুদ্ধে দাখিল করা অভিযোগপত্র আমলে নেয়। একই দিনে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) অহিদুজ্জামান ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। পরে মামলাটি বিচারের জন্য শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়। রাষ্ট্রপক্ষ মামলায় মোট ১৭ জনকে সাক্ষী করেছে।


বিজ্ঞাপন


মামলার সূত্রে জানা যায়, রামিসা পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বাসা থেকে বের হলে অভিযুক্ত স্বপ্না তাকে কৌশলে নিজের কক্ষে নিয়ে যায়। পরে শিশুটিকে খুঁজতে গিয়ে তার বাবা-মা আসামিদের কক্ষের সামনে রামিসার জুতা দেখতে পান। ডাকাডাকির পর কোনো সাড়া না পেয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করলে তারা শয়নকক্ষের মেঝেতে রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ এবং একটি বালতির ভেতর তার মাথা দেখতে পান।

খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে স্বপ্নাকে হেফাজতে নেয়। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে প্রধান আসামি সোহেল রানাকে গ্রেফতার করা হয়।

ঘটনার পরদিন ২০ মে রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা করেন। বর্তমানে মামলাটির বিচার কার্যক্রম শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে চলমান রয়েছে।

এমআর/এমআর

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর