শনিবার, ২৩ মে, ২০২৬, ঢাকা

রামিসা হত্যার বিচার কালক্ষেপণ না করেও সম্ভব: আসিফ নজরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২২ মে ২০২৬, ০৪:৫৬ পিএম

শেয়ার করুন:

রামিসা হত্যার বিচার কালক্ষেপণ না করেও সম্ভব: আসিফ নজরুল

রাজধানীতে শিশু রামিসা হত্যা-ধর্ষণের ঘটনায় ক্ষুব্ধ সারাদেশের মানুষ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম খুললেই এই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ দেখা যাচ্ছে। দেশের প্রচলিত বিচারব্যবস্থায় এ ধরনের হত্যার বিচার শেষ হতে সাধারণত বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হয়। তবুও প্রধান বিচারপতি চাইলে কালক্ষেপণ না করেও দ্রুত এ ঘটনার ন্যায়বিচার সম্ভব। সেটি কীভাবে করা যায় তার বিস্তারিত জানিয়েছেন সাবেক অন্তঃর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। 

শুক্রবার (২২ মে) দুপুরে ফেসবুকে এক পোস্টে আসিফ নজরুল এসব বলেছেন। তার লেখাটি হুবহু তুলে ধরা হলো—


বিজ্ঞাপন


বেত্রাঘাত, ফাঁসি আর দ্রুতবিচার
রামিসার ধর্ষক ও হত্যাকারীর কী শাস্তি হওয়া উচিত? তার জন্য মানুষের দুনিয়ায় কোনো শাস্তিই যথেষ্ট নয়। তবে শাস্তি অন্তত এমন হওয়া উচিত, যাতে অপরাধীরা ভয় পায় এবং মানুষের মনে কিছুটা শান্তি আসে। শিশু ধর্ষণ এতোটাই এখন বেড়েছে যে দীর্ঘ বিচার শেষে নিভৃতে ফাঁসি দিলে সেই উদ্দেশ্য পূরণ হবে না। শিশু ধর্ষণ ও হত্যাকারীর শাস্তি হওয়া উচিত প্রকাশ্যে একশত দোররা (বেত্রাঘাত); এরপর অপরাধী বেঁচে থাকলে ফাঁসি। 

তবে এর চেয়েও বেশি প্রয়োজন বিচারকে দ্রুততর করা। আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যার পর দ্রুত বিচারের জন্য আইন মন্ত্রনালয় নিজে উদ্যোগী হয়ে আইন সংশোধন করেছিল। শিশু ধর্ষন বিচারের জন্য আলাদা ট্রাইবুন্যালের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। আছিয়া ধর্ষনের বিচার ৬ কার্যদিবসে সমাপ্ত হয়েছিল। তারপরও সুপ্রীম কোর্টে আপীল নিস্পত্তি হয়নি বলে সেই মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের ফাঁসি কার্যকর হয়নি। আপীল নিস্পত্তি দ্রুততর করার এখতিয়ার আইন মন্ত্রনালয়ের ছিল না। এটা করার উদ্যোগ একমাত্র প্রধান বিচারপতি নিতে পারেন।  

গতকাল প্রধানমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন, রামিসা হত্যার বিচারও অল্পদিনের মধ্যে হবে আশা করি। কিন্তু সেটি তো শুধু বিচারিক আদালতে। এরপর হাইকোর্টে আপিল হবে, তারপর আপিলেট ডিভিশনে আপিল! লেগে যাবে অসহনীয় দীর্ঘ সময়! এ ধরনের মামলা সুপ্র্রীম কোর্টে (হাইকোর্ট ও আপিলেট ডিভিশন) নিষ্পত্তি হতে বহু বছর লেগে যায়।


বিজ্ঞাপন


তবে এর সমাধানও আছে। আছিয়া ও রামিসাদের মতো মামলায় অপরাধী নরপশুদের দ্রুত ন্যায়বিচার দেওয়ার ক্ষমতা প্রধান বিচারপতির হাতে রয়েছে। প্রধান বিচারপতি চাইলে হাইকোর্টের এক বা দুটি নির্দিষ্ট বেঞ্চকে শুধু শিশু ধর্ষণ মামলার আপিল শুনানির দায়িত্ব দিতে পারেন। সেখান থেকে আপিলেট ডিভিশনে গেলে প্রয়োজন হলে সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিনে (এমনকি শনিবারেও) দ্রুত শুনানির ব্যবস্থা করা যেতে পারে। বিচারিক আদালতে বিচার শেষ হওয়ার পর এই প্রক্রিয়ায় কিছুদিনের মধ্যেই আপিল শুনানি সম্পন্ন করা সম্ভব।

মানুষ আর অপেক্ষা করতে পারছে না। শিশু ধর্ষকদের দ্রুত বিচার ও রায় নিশ্চিত করার জন্য সরকারকে জরুরী ভিত্তিতে পদক্ষেপ নিতে হবে। ধর্ষকদের বিচার কার্যকরের পাশাপাশি মাদক ও পর্ণগ্রাফির বিরুদ্ধে সর্বাত্নক ব্যবস্থা নিতে হবে।

(লেখকের বানান অপরিবর্তিত) 

গত ১৯ মে রাজধানীর পল্লবী থানার মিল্লাত ক্যাম্পসংলগ্ন একটি বাসায় পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা আক্তারকে (৮) ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় পরদিন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা পল্লবী থানায় একটি মামলা করেন। মামলায় সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আসামি করা হয়। পরে পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে।

গত ২০ মে মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা (৩০) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনায়েদের আদালতে দায় স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। একই দিন আদালত সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে (২৬) কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
 
এই মামলায় আদালতে আসামিপক্ষে ঢাকা আইনজীবী সমিতির কোনো আইনজীবী মামলা পরিচালনা করবেন না বলে জানিয়েছেন সমিতির সাধারণ সম্পাদক কালাম খান। আজ শুক্রবার সমিতির কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। 
 
ক.ম/ 

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর