পতিত আওয়ামী লীগের নেত্রী এবং নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীকে নতুন কোনো মামলায় গ্রেফতার না দেখানোর নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
একইসঙ্গে পৃথক ১০টি মামলায় উচ্চ আদালত থেকে জামিনে থাকার পরেও তাকে একের পর এক নতুন মামলায় গ্রেফতার দেখানো কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুলও জারি করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
রোববার (২৬ এপ্রিল) বিচারপতি রাজিক আল জলিলের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন এবং রুল জারি করেন।
এদিন আদালতে আইভীর পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার সারা হোসেন এবং অ্যাডভোকেট মোতাহার হোসেন সাজু।
আদেশের পর অ্যাডভোকেট মোতাহার হোসেন সাজু সাংবাদিকদের বলেন, ‘সেলিনা হায়াৎ আইভী ইতোপূর্বেই হাইকোর্ট থেকে ১০টি মামলায় জামিন পেয়েছেন। কিন্তু এরপরও তাকে নতুন আরও দুটি মামলায় শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘এভাবে বারবার নতুন মামলায় গ্রেফতার দেখানোর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আমরা হাইকোর্টে রিট আবেদন করি। আদালত শুনানি শেষে তাকে নতুন কোনো মামলায় গ্রেফতার বা হয়রানি না করার নির্দেশ দিয়েছেন।’
বিজ্ঞাপন
মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ২০ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে নারায়ণগঞ্জের আদমজী এলাকায় গুলিবিদ্ধ হন পোশাকশ্রমিক মিনারুল ইসলাম। তাকে উদ্ধার করে শহরের খানপুরে অবস্থিত ৩০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় গত বছরের ২৩ সেপ্টেম্বর নিহত মিনারুলের ভাই নাজমুল হক বাদী হয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। আইভী মামলাটির ১২ নম্বর আসামি।
একই মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৩২ জনের নাম উল্লেখ করা হয় এবং অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয় আরও ৩০০ জনকে।
গত বছরের ৯ মে ভোরে নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগ এলাকায় অবস্থিত চুনকা কুটির থেকে আইভীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এরপর একাধিক মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়। গত প্রায় এক বছর ধরে তিনি কারাগারে রয়েছেন।
এএইচ




