প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে উদ্দেশ করে ‘অপ্রিয় সত্য’ শিরোনামে একটি খোলা চিঠি দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সকাল ১০টা ১০ মিনিটে ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড আইডিতে দেওয়া স্ট্যাটাসে তিনি এই চিঠি লিখেন।
বিজ্ঞাপন
চিঠিতে শিশির মনির উল্লেখ করেছেন, ক্ষমতায় থাকায় প্রধানমন্ত্রীর আশপাশের অনেকেই বাস্তবতা তুলে ধরতে সংকোচ বোধ করেন বা ভয় পান। তাই কিছু ‘অপ্রিয় সত্য’ তুলে ধরার প্রয়োজন অনুভব করেছেন বলে জানান তিনি।
সুপ্রিম কোর্টের এই সিনিয়র আইনজীবী অতিরিক্ত তোষামোদির সমালোচনা করে বলেন, অতীতে এমন প্রবণতার কারণে অনেকেই হেয়-প্রতিপন্ন হয়েছেন। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী ও তার পরিবারকে ঘিরেও অনুরূপ চর্চা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
তিনি বিভিন্ন উদাহরণ টেনে বলেন, ‘‘জাতীয় সংসদে আপনাকে শিশু মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে ঘোষণা করার দাবি উত্থাপন, টাইম ম্যাগাজিনে আপনি ১০০ জন প্রভাবশালীদের একজন, তাই সংসদে অভিনন্দন প্রস্তাব আনা (খবরে এসেছে, সবাই জেনেছে, আপনাকে সামনে রেখে অভিনন্দন প্রস্তাব কেন আবার), কোনও সরকারি দায়িত্ব না থাকা সত্ত্বেও আপনার মেয়ে জাইমা রহমানকে প্রোটোকল দেওয়া বা হাইলাইট করা (শিক্ষামন্ত্রী), সংসদে আপনাকে সম্রাট বাবরের সাথে তুলনা করা, আপনার হাতে আপনার শাসনকালে [অন্যের মাধ্যমে দেয়া যেত] আপনার মেয়ের মাধ্যমে আপনার মাতা দেশনেত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়াকে মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কার দেওয়া, ক্রিকেট বোর্ডে কেন্দ্রীয় নেতাদের সন্তানদের মিলনমেলা বানানো, আপনাকে পায়ে ধরে সালাম করা (যদিও একজনকে আপনি নিষেধ করেছেন) ইত্যাদি। এসব বিষয় জনমনে প্রশ্ন তৈরি করতে পারে।’’
তবে প্রধানমন্ত্রীর কিছু ইতিবাচক দিকও তুলে ধরেন তিনি। সাধারণ জীবনযাপন, প্রোটোকল কম ব্যবহার, নিয়মিত অফিস করা ও দায়িত্বশীল আচরণের মতো বিষয়গুলোকে ব্যতিক্রমধর্মী উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন।
বিজ্ঞাপন
চিঠিতে আরও বলা হয়, গণ-অভ্যুত্থানের পর জনগণ তোষামোদের পরিবর্তে কার্যকর কাজ দেখতে চায়। কর্মদক্ষতা ও সততার ভিত্তিতেই জনপ্রিয়তা নির্ধারিত হবে বলে মত দেন তিনি। একই সঙ্গে পরিবারকেন্দ্রিক রাজনীতির সমালোচনা করে নতুন প্রজন্ম যোগ্যতাকে বেশি গুরুত্ব দেয় বলেও উল্লেখ করেন।
সরকারের কিছু প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ঘোষিত নীতিমালা থেকে বিচ্যুতি সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে পারে। বিশেষ করে গণভোটের মতো বিষয়ে অবস্থান পরিবর্তনের বিষয়টি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান তিনি।
শেষে শিশির মনির বলেন, জনস্বার্থে ভালো কাজের পক্ষে এবং জনবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিপক্ষে অবস্থান নেবেন তিনি। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সুস্থতা ও কল্যাণ কামনা করেন।
/এএস




