সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

আবু সাঈদ হত্যা: বেরোবি শিক্ষক মশিউর-আসাদুজ্জামানের ১০ বছর কারাদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৪৬ পিএম

শেয়ার করুন:

আবু সাঈদ হত্যা: বেরোবি শিক্ষক মশিউর-আসাদুজ্জামানের ১০ বছর কারাদণ্ড

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বিশ্ববিদ্যালটির দুই শিক্ষকের ১০ বছরের কারাদণ্ডের রায় দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।

তারা হলেন- রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক মো. মশিউর রহমান এবং লোকপ্রশাসন বিভাগের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক আসাদুজ্জামান মন্ডল। দুজনের পলাতক।


বিজ্ঞাপন


বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) বেলা পৌনে একটার দিকে ৬ আসামির উপস্থিতিতে এই রায় ঘোষণা করেন বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।

এছাড়া রায়ে দুজনের মৃত্যুদণ্ড ও তিনজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বাকিদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুজন হলেন, পুলিশের সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আমির হোসেন এবং সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়। তারা দুজনেই গ্রেফতার আছেন।

যাবজ্জীবন দণ্ড দেওয়া হয়েছে তিন পুলিশ সদস্যকে। তারা হলেন-সাবেক সহকারী পুলিশ কমিশনার (কোতয়ালি জোন) আরিফুজ্জামান ওরফে জীবন, তাজহাট থানার তৎকালীন পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) রবিউল ইসলাম ওরফে নয়ন ও এসআই বিভূতি ভূষণ রায় ওরফে মাধব।


বিজ্ঞাপন


আরও যাদের ১০ বছরের সাজা হয়েছে তারা হলেন-বেরোবির সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান রাসেল এবং সহকারী রেজিস্ট্রার হাফিজুর রহমান ওরফে তুফান, রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সাবেক পুলিশ কমিশনার মনিরুজ্জামান ওরফে বেল্টু এবং রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ সভাপতি পমেল বড়ুয়া।

৫ বছরের সাজা পেয়েছেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত চিকিৎসকদের সংগঠন স্বাচিপের রংপুরের সভাপতি ডাক্তার মো. সারোয়াত হোসেন ওরফে চন্দন,

আরপিএমপির সাবেক উপ-পুলিশ কমিশনার আবু মারুফ হোসেন ওরফে টিটু, সাবেক অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার শাহ নূর আলম পাটোয়ারী ওরফে সুমন, বেরোবির সাবেক প্রক্টর শরীফুল ইসলাম, ছাত্রলীগের রংপুর শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এমরান চৌধুরী ওরফে আকাশ ওরফে দিশা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাসুদুল হাসান ওরফে মাসুদ, বেরোবির অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মাহাবুবার রহমান ওরফে বাবু এবং এমএলএসএস একেএম আমির হোসেন ওরফে আমু।

৩ বছরের সাজাপ্রাপ্তরা হলেন- সেকশন অফিসার মনিরুজ্জামান পলাশ, বেরোবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মাহাফুজুর রহমান শামীম, সহ-সভাপতি ফজলে রাব্বী ওরফে গ্লোরিয়াস ফজলে রাব্বী, সহ-সভাপতি আখতার হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক সেজান আহম্মেদ ওরফে আরিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক ধনঞ্জয় কুমার ওরফে টগর, দফতর সম্পাদক বাবুল হোসেন, বেরোবির এমএলএসএস মোহাম্মদ নুরুন্নবী মন্ডল ও সিকিউরিটি গার্ড নূর আলম মিয়া।

৩০ আসামির মধ্যে সাবেক উপাচার্য হাসিবুর রশীদসহ মামলার ২৪ আসামি পলাতক। পলাতক আসামির মধ্যে আরও রয়েছেন রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক মো. মশিউর রহমান, লোকপ্রশাসন বিভাগের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক আসাদুজ্জামান মন্ডল, সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার মো. হাফিজুর রহমান, সাবেক সেকশন অফিসার মো. মনিরুজ্জামান পলাশ, বিশ্ববিদ্যালয়টির সাবেক এমএলএসএস মোহাম্মদ নুরুন্নবী মন্ডল।

বহুল আলোচিত এই হত্যা মামলার রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে ট্রাইব্যুনাল ও আশপাশের এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। পুলিশ ও র‍্যাবসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ওই এলাকায় সতর্ক অবস্থান নেয়। কড়া নিরাপত্তার মধ্যেই গ্রেফতার হওয়া ছয় আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। তাদের উপস্থিতিতে দুপুর সোয়া ১২ টার দিকে রায় পড়া শুরু করেন বিচারক।

এমআর

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর